Bangladesh goalkeeper Mehdi Hasan Srabon making a brilliant save against Pakistan.

মালদ্বীপের মালে স্টেডিয়ামে চলমান চার জাতির ফুটবল টুর্নামেন্টে শক্তিশালী পাকিস্তান জাতীয় দলের বিপক্ষে বীরত্বপূর্ণ এক ড্র আদায় করে নিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। যদিও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এটিকে অলিম্পিক দল হিসেবে ঘোষণা করেছে, তবে মূল বাস্তবতা হলো অনূর্ধ্ব-২৩ দলের প্রধান ও নিয়মিত তারকাদের বড় একটি অংশ এই মুহূর্তে সিনিয়র জাতীয় দলের সাথে সান মারিনো সফরে রয়েছে। ফলে মালের মাঠে আজ কার্যত অনভিজ্ঞ ও তরুণ একটি দল নিয়েই মাঠে নামতে হয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই অনভিজ্ঞতার ছাপ পড়তে দেননি তরুণরা; শারীরিক গঠন ও টেকনিকে এগিয়ে থাকা প্রবাসী ফুটবলারসমৃদ্ধ পাকিস্তান জাতীয় দলকে গোলশূন্য (০-০) ব্যবধানে রুখে দিয়েছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের একদম শুরুর দিকেই প্রথম লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ।

তবে আক্রমণভাগের ফুটবলারদের ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় সেই যাত্রা আর গোল পাওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, পাকিস্তান দলে প্রবাসী ফুটবলারদের আধিক্য থাকায় তারা আক্রমণাত্মক ফুটবলে বাংলাদেশকে চাপে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু তারাও ফরোয়ার্ডদের দুর্বল ফিনিশিংয়ের কারণে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচ থেকে মূল্যবান ১টি পয়েন্ট অর্জনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত এক বড় স্বীকৃতিও এসেছে বাংলাদেশের শিবিরে।

পুরো ম্যাচজুড়ে পোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ।

১০ জনের দল নিয়ে শ্রাবণের অতিমানবীয় দেয়াল

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বড় এক ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ৬২তম মিনিটে ডিফেন্ডার মঞ্জুরুর রহমানকে রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখালে ১০ জনের দলে পরিণত হয় কোচ মারুফুল হকের শিষ্যরা। অথচ রিপ্লেতে দেখা যায়, ফাউলের সেই ঘটনার সাথে মঞ্জুরুর সরাসরি সম্পৃক্তই ছিলেন না। রেফারিংয়ের এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ফুটবলাররা তীব্র প্রতিবাদ জানালেও রেফারি নিজের সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন। উল্টো মাঠের ভেতরে পাকিস্তানের গোলরক্ষক বাংলাদেশের এক খেলোয়াড়কে আঘাত করলেও রেফারি সেটিকে এড়িয়ে যান।

১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর বাংলাদেশের ওপর আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয় পাকিস্তান।

তবে গোলকিপার শ্রাবণের দুর্দান্ত সেভগুলোর সামনে বারবার হতাশ হতে হয়েছে তাদের। বিশেষ করে ৬৭তম মিনিটে পাকিস্তানি ফরোয়ার্ডের একটি দূরপাল্লার বুলেট গতির শট বাম দিকে শরীর ভাসিয়ে আংশিক সেভ করেন শ্রাবণ, যা পরবর্তীতে সাইড পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই পাকিস্তানি এক স্ট্রাইকারের বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া দারুণ ড্রপ ভলি নিখুঁত দক্ষতায় নসাৎ করে দেন এই তরুণ গোলরক্ষক।

এমন আরও বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোলের আক্রমণ একা হাতে রুখে দিয়ে দলের ড্র নিশ্চিত করেন তিনি।

মাত্র ৫ দিনের প্রস্তুতিতে মারুফুলের বাজিমাত

বলের দখল ও আক্রমণে পাকিস্তান কিছুটা এগিয়ে থাকলেও কাউন্টার অ্যাটাকে পাকিস্তানকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশও।

বিশেষ করে দলের ফরোয়ার্ড আব্দুল্লাহ ওমর ম্যাচের দুটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া না করলে এই ম্যাচ থেকে পুরো ৩ পয়েন্টও পেতে পারত বাংলাদেশ। মাত্র পাঁচ দিনের সংক্ষিপ্ত অনুশীলন সেশন নিয়ে মালদ্বীপে দল পাঠাতে পেরেছিল বাফুফে। তবে এত কম সময়ের প্রস্তুতিতেও কোচ মারুফুল হক যেভাবে পাকিস্তান জাতীয় দলের বিপক্ষে ছেলেদের পজিটিভ ও লড়াকু ফুটবল খেলিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

এই লড়াকু ড্রয়ে ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারাকে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোর জন্য বড় টনিক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন:
মালদ্বীপে চার জাতি টুর্নামেন্ট: বাংলাদেশের ২৩ সদস্যের স্কোয়াডে যারা