আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রিকেট পাড়ায় উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক বা অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির বৈধতা ও নতুন নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আরও একবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিগত বোর্ডের পরিচালকেরা। একই সঙ্গে আইসিসির কাছে দুটি দাবিও জানিয়েছেন তারা।
মূলত বিসিবির বর্তমান শাসন ও নির্বাচন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে গত সোমবার (১ জুন) ঢাকায় পা রাখেন আইসিসির দুই উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি—দক্ষিণ আফ্রিকার ড. মোহাম্মদ মোসাজে এবং জিম্বাবুয়ের তাভেংওয়া মুকুলানি। মঙ্গলবার সকালে এই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন বিগত বোর্ডের চার পরিচালক আসিফ আকবর, আহসান ইকবাল চৌধুরী, এম নাজমুল ইসলাম ও হাসানুজ্জামান।
যেখানে সাবেক বোর্ড প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুলদের পক্ষ থেকে আইসিসির কাছে বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করা হয়।
বিসিবির বিরুদ্ধে ‘বিভ্রান্তি’ ছড়ানোর অভিযোগ
বৈঠক শেষে আমিনুল ইসলাম বুলবুল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বর্তমান বিসিবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়।
সেখানে দাবি করা হয়, আইসিসি প্রতিনিধিদের ঢাকা সফর নিয়ে দেশের ক্রিকেটপ্রেমী ও গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি। গত ৩১ মে বিসিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, আসন্ন নির্বাচন ব্যবস্থা ও এর অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে আলোচনা করতে এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতেই আইসিসির এই বিশেষ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসছে।
তবে বুলবুলদের দাবি, আইসিসির এই প্রতিনিধিরা মোটেও নির্বাচন তদারকি কিংবা পর্যবেক্ষণের কোনো ম্যান্ডেট নিয়ে বাংলাদেশে আসেননি।
মঙ্গলবারের বৈঠকে খোদ আইসিসি প্রতিনিধিরাই নাকি তাঁদের পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে, তারা কোনো ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষক’ নন; বরং আইসিসি সদর দফতর থেকে তাদের পাঠানো হয়েছে একটি ‘তথ্য-অনুসন্ধানকারী’ (Fact-finding) দল হিসেবে। বিসিবির বর্তমান সামগ্রিক পরিচালন ব্যবস্থা ও বোর্ডের আইনি কাঠামো খতিয়ে দেখে আইসিসির কাছে স্রেফ প্রতিবেদন জমা দেওয়াই তাদের মূল কাজ।
প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ও আইসিসির কাছে দাবি
আইসিসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বিগত বোর্ডের পরিচালকেরা নিজেদের ‘নির্বাচিত ও বৈধ নেতৃত্ব’ হিসেবে দাবি করেন।
তারা অভিযোগ করেন, গত ৭ এপ্রিল তড়িঘড়ি করে তাদের নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে যেভাবে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সেই পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নিয়মনীতির পরিপন্থী ও প্রশ্নবিদ্ধ।
এই প্রেক্ষিতে আইসিসি প্রতিনিধিদের কাছে মূলত দুটি প্রধান দাবি তুলে ধরেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুলরা। প্রথমত, আগামী ৭ জুনের বিসিবি নির্বাচনকে আইসিসি যেন কোনো আইনি স্বীকৃতি না দেয়। দ্বিতীয়ত, ঢাকায় আসা এই দুই প্রতিনিধি যেন অনতিবিলম্বে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে পরিষ্কার জানান যে, তারা এখানে কোনো ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষক’ হিসেবে আসেননি।
অন্তর্বর্তী কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ব্যস্ত বৈঠক
তথ্য-অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ঢাকার মাটিতে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন ড. মোসাজে ও মুকুলানি। মঙ্গলবার তারা বিসিবির বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আইনি ও প্রযুক্তিগত আলোচনা করেন। এর আগে, সফরকারী এই প্রতিনিধি দলটি সভায় বসেছিল বিসিবির বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল এবং অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য ফাহিম সিনহার সঙ্গে। সেখানে বর্তমান অ্যাডহক কমিটি দেশের ক্রিকেটের অচলাবস্থা কাটাতে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে তাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর বিবরণ তুলে ধরেন।
সব পক্ষের বক্তব্য ও তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ শেষে এই প্রতিনিধি দল বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে কী রিপোর্ট জমা দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

