দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্বমঞ্চের এই মেগা আসর শুরুর আগে ফুটবল দুনিয়াকে আলোকিত করতে প্রস্তুত একঝাঁক তরুণ তুর্কি। অনূর্ধ্ব-২১ বয়সী এমন সব প্রতিভাবান ও রোমাঞ্চকর ফুটবলারদের নিয়ে ক্রিকফুট২৪ডটকম-এর বিশেষ আয়োজন ‘বিশ্বকাপের বিস্ময়’। আজ এই সিরিজের ৩য় পর্বে আমাদের স্পটলাইট ফ্রান্স এবং পিএসজির মাঝমাঠের নতুন জাদুকর ওয়ারেন জাইরে-এমেরির ওপর।
আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপের বিস্ময়-১: ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের মূল বাজি এনড্রিক
একনজরে ওয়ারেন জাইরে-এমেরি
জন্ম তারিখ: ০৮ মার্চ, ২০০৬
বর্তমান দল: ফ্রান্স জাতীয় দল এবং প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)
আন্তর্জাতিক অভিষেক: ১৮ নভেম্বর, ২০২৩ (জিব্রাল্টারের বিপক্ষে, মাত্র ১৭ বছর বয়সে)
খেলার পজিশন: সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার / রাইট-ব্যাক
মূল দক্ষতা: অবিশ্বাস্য স্ট্যামিনা, শারীরিক শক্তি, গেম রিডিং এবং নিখুঁত পাসিং।
হতে পারেন বিশ্বকাপের বড় আকর্ষণ
জাইরে-এমেরির ক্যারিয়ারের ট্রফি ক্যাবিনেট এবং কীর্তির দিকে তাকালে যে কেউ ভুল করে ভেবে বসতে পারেন—এটি হয়তো ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে থাকা কোনো অভিজ্ঞ মহাতারকার প্রোফাইল! কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এই ফরাসি ডিনামোর বয়স মাত্র দুই মাস আগে ২০ বছর পেরিয়েছ।
এই অল্প বয়সেই একের পর এক বয়স-ভিত্তিক রেকর্ড ভেঙে চুরমার করেছেন তিনি।
শৈশবের ক্লাব পিএসজির হয়ে ইতিমধ্যেই রেকর্ড ১৩টি শিরোপা জিতেছেন তিনি, যার মধ্যে রয়েছে গত ২০২৫ ও ২০২৬ সালের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরম আরাধ্য মুকুট। এছাড়া গত বছর পিএসজির হয়ে ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের বিশ্বজয়ের স্বাদও পেয়েছেন তিনি। ট্রফি ক্যাবিনেটে নতুন মেডেল যোগ করার আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ তাঁর সামনে।
চলতি মৌসুমে পিএসজি বস লুইস এনরিকের তারকাখচিত স্কোয়াডে অন্যতম প্রধান ভরসার নাম ছিলেন এই বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রায় ৪,২০০ মিনিট মাঠে কাটিয়েছেন তিনি। ক্লাবের হয়ে ৫০টিরও বেশি ম্যাচে কখনও মাঝমাঠের মূল চালিকাশক্তি, আবার কখনও রাইট-ব্যাক পজিশনে খেলে নিজের বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন এই তরুণ।
১৭ বছর বয়সেই ফ্রান্সের জার্সিতে ইতিহাস
মাঠের যেকোনো পজিশনে মানিয়ে নেওয়ার ‘ক্যামেলিয়ন’ গুণ এবং কঠোর পরিশ্রমী মানসিকতার কারণেই ২০২৩ সালের নভেম্বরে মাত্র ১৭ বছর ৮ মাস বয়সে তাঁকে ফ্রান্সের মূল দলে ডাক দেন কোচ দিদিয়ের দেশম। জিব্রাল্টারের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ১৪-০ গোলের বিধ্বংসী ম্যাচে মাঠে নেমে ১৯১৪ সালের পর ফ্রান্সের সর্বকনিষ্ঠ ডেব্যুট্যান্ট ফুটবলার হওয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি। শুধু তাই নয়, কিংসলে কোমানের পাস থেকে দুর্দান্ত এক ফ্লিকে গোল করে মরিস গ্যাস্টিগারের পর ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসের দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম গোলদাতার গৌরব অর্জন করেন জাইরে-এমেরি।
ইউরো ২০২৪-এর স্কোয়াডে থাকলেও জার্মানির মাটিতে ফ্রান্সের হয়ে ৬টি ম্যাচের একটিতেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি। ফরাসি মাঝমাঠের তারকা ঠাসা স্কোয়াডের কারণে পুরোটা সময় তাঁকে বেঞ্চেই বসে কাটাতে হয়েছিল।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়ার দাবিটা তিনি ইতিমধ্যেই জানিয়ে রেখেছেন।
গত মার্চে আমেরিকার মাটিতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয়ের প্রীতি ম্যাচে মাঝমাঠে চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স করে দেশমের গুডবুকে নিজের নাম পাকাপোক্ত করেছেন। এবার উত্তর আমেরিকার মহাবোঝারাত বা মেগা আসরে ফ্রান্সের মূল মঞ্চ কাঁপাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এই বিস্ময় বালক।
জাইরে-এমেরিকে নিয়ে কিংবদন্তিদের কথা
কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্সের সতীর্থ): “ও সত্যিই এক অনন্য ও চমৎকার প্রতিভা। এই বয়সেই ওর মধ্যে দারুণ পরিপক্বতা রয়েছে এবং ও মাঠে অসম্ভব ব্যক্তিত্ব নিয়ে খেলে।”
লুইস এনরিকে (পিএসজি কোচ): “ওর মতো একজন ফুটবলার পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। ও মাঠের যেকোনো পজিশনে খেলতে পারে। ওর টেকনিক্যাল ও ফিজিক্যাল ক্ষমতা অসাধারণ। একজন কোচের জন্য ও স্বপ্নের ফুটবলার।”
দিদিয়ের দেশম (ফ্রান্সের প্রধান কোচ): “কিছু খেলোয়াড় ১৮ বছর বয়সেই পরিপক্ব হয়ে যায়, আবার কেউ ৩০ বছর বয়সে গিয়ে শেখে। ওর মধ্যে শীর্ষ স্তরে পৌঁছানোর সব গুণই আছে। দলে পজিশন নিয়ে অনেক প্রতিযোগিতা থাকলেও, ও ক্লাবের হয়ে অবিশ্বাস্য সম্ভাবনা দেখিয়েছে।”
জাইরে-এমেরির ফ্রান্সের গ্রুপ পর্বের সূচি
১৬ জুন: ফ্রান্স বনাম সেনেগাল (নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়াম)
২২ জুন: ফ্রান্স বনাম ইরাক (ফিলেডেলফিয়া স্টেডিয়াম)
২৬ জুন: নরওয়ে বনাম ফ্রান্স (বোস্টন স্টেডিয়াম)
আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপের বিস্ময়-২: স্পেনের ডানা ঈশ্বরপ্রদত্ত উপহার লামিনে ইয়ামাল

