uryakumar Yadav holding the T20 World Cup 2026 trophy aloft after winning the final.বিশ্বকাপ জয়ের ৩ মাস পরই অধিনায়কত্ব হারালেন সূর্যকুমার। ছবি: এপি

ঘরের মাঠে ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জেতানোর মাত্র তিন মাসের মাথায় এক চরম ও নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হলেন সূর্যকুমার যাদব। ভারতীয় ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এই মারকুটে ব্যাটারকে। শুধু তাই নয়, আগামী দিনে ভারতীয় দলের পরিকল্পনাতেও সম্ভবত আর কোনো জায়গা হচ্ছে না তাঁর। চলতি জুনের শেষের দিকে শুরু হতে যাওয়া আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরকে সামনে রেখেই ভারতীয় ক্রিকেটে এই বড়সড় রদবদল আসতে যাচ্ছে।

নতুন একটি চক্রকে সামনে রেখে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই), টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচক কমিটির যৌথ পরামর্শে খুব দ্রুতই নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করা হবে।

গম্ভীরের নতুন পরিকল্পনা ও সূর্যকুমারের ভবিষ্যৎ

বিসিসিআই-এর এক শীর্ষ কর্মকর্তা ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, “নির্বাচক কমিটি, বিসিসিআই এবং টিম ম্যানেজমেন্ট, প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের সাথে বিশদ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ভারতীয় দলের এখন থেকে একজন নতুন অধিনায়কের অধীনে পথ চলা উচিত। সূর্যের অধিনায়কত্বে দল অবশ্যই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে, তবে তাঁর বর্তমান ফর্ম এবং ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বোর্ড মনে করছে যে, এখন নতুন কারো দিকে তাকানোর সঠিক সময় এসেছে।”

উক্ত কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, আসন্ন সিরিজগুলোর জন্য সূর্যকুমারকে আর বিবেচনায় নেওয়া হবে না এবং বোর্ডের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা খুব শীঘ্রই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।

নতুন সূচি অনুযায়ী, ভারতীয় দল আয়ারল্যান্ডে দুটি এবং ইংল্যান্ডের মাটিতে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ খেলবে।

ব্যাটে রানের খরা ও আইপিএলের ব্যর্থতা

অধিনায়কত্ব ও দল থেকে বাদ পড়ার পেছনে সূর্যকুমারের অফ-ফর্মকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত দুই বছর ধরেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁর ব্যাট আশানুরূপ হাসছিল না। যার চরম প্রতিফলন দেখা গেছে সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের আইপিএল মরসুমেও। আইপিএলের শেষ ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে একটি ফিফটি পেলেও, পুরো মৌসুমে ১৩ ইনিংসে মাত্র ২০.৭৬ গড়ে ২৭০ রান করতে সক্ষম হন তিনি, যা তাঁর নামের সাথে মোটেও বেমানান।

এমনকি গত মার্চে ভারতকে তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতালেও, ব্যাটার সূর্যের পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছিল। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের পর রোহিত শর্মা টি-টোয়েন্টি সংস্করণ থেকে অবসর নিলে সূর্যকুমারের কাঁধে ভারতের নেতৃত্বের ভার তুলে দেওয়া হয়েছিল।

‘দল জিতেছে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে ভাবিনি’

নেতৃত্ব হারানোর আগে গত মার্চেই নিজের অফ-ফর্ম এবং অধিনায়কত্ব নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে সূর্যকুমার বলেছিলেন, “অধিনায়ক হওয়ার পর থেকে আমি কখনোই নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে মাথা ঘামাইনি। আমার সাথে সবসময় আরও ১৪ জন খেলোয়াড় ছিল এবং তাদের দেখভাল করাটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দল জিতছিল, তাই আমি জানতাম যে আমি সঠিক পথেই আছি এবং রান একদিন আসবেই। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে (রোহিতের অধিনায়কত্বে) সেই একটি ক্যাচ আমার জীবন বদলে দিয়েছিল। আর এবার অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার পর মনে হচ্ছে আমার জীবন আবারও বদলে যাবে।”

তবে জীবন বদলালেও, সেটি যে এভাবে অধিনায়কত্ব ও দল হারিয়ে নেতিবাচক মোড় নেবে—তা হয়তো খোদ সূর্যকুমারও কল্পনা করতে পারেননি।

আরও পড়ুন:
উপেক্ষার দেয়াল ভাঙা সঞ্জু স্যামসন: ভারতের শিরোপা জয়ের নেপথ্য কারিগর