উত্তর আমেরিকার মাটিতে পর্দা উঠতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। অংশগ্রণকারী সবকটি (৪৮টি) দেশের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ইতিমধ্যেই ফিফার দরবারে অফিশিয়ালি জমা পড়েছে। দলগুলোর ফুটবলারদের তালিকা পর্যালোচনায় উঠে এসেছে বেশ কিছু চোখ কপালে তোলার মতো পরিসংখ্যান ও চমকপ্রদ তথ্য। কোন ক্লাবের ফুটবলাররা বিশ্বমঞ্চে সবচেয়ে বেশি দাপট দেখাচ্ছেন? কাদের দল সবচেয়ে বুড়ো আর কারা নামছে তরুণদের ফৌজ নিয়ে?
মেগা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দলগুলোর সেই আদ্যোপান্ত ও তুলনামূলক খতিয়ান নিয়ে আমাদের এই বিশেষ আয়োজন।
ক্লাব হিসেবে বিশ্বমঞ্চে ম্যান সিটির সর্বোচ্চ রাজত্ব
ঘরোয়া লিগে এবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা হাতছাড়া হলেও, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ম্যানচেস্টার সিটির ফুটবলারদের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।
এবারের বিশ্বকাপে ম্যান সিটির রেকর্ড সর্বোচ্চ ১৯ জন ফুটবলার খেলবেন ১২টি ভিন্ন ভিন্ন দেশের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে। সিটির পরেই অবস্থান করছে জার্মানি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেনের চ্যাম্পিয়ন ক্লাবগুলো। তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা আর্সেনাল থেকে ১০টি দেশের হয়ে লড়বেন ১৬ জন ফুটবলার।
অন্যদিকে, ইতালি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা না পাওয়ায় সিরি-আ চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানের মাত্র ৭ জন ফুটবলার খেলছেন এই টুর্নামেন্টে।
আরও পড়ুন:
৭টি ধর্ষণ মামলার আসামি খেলবেন বিশ্বকাপে!
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় পাঠানো শীর্ষ ৫ ক্লাব
ম্যানচেস্টার সিটি: ১৯ জন
বায়ার্ন মিউনিখ: ১৮ জন
আর্সেনাল: ১৬ জন
প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি): ১৫ জন
বার্সেলোনা: ১৪ জন
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর মধ্যে সদ্য কনফারেন্স লিগজয়ী ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে সর্বোচ্চ ১২ জন ফুটবলার খেলছেন বিশ্বমঞ্চে।
তবে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে সান্দারল্যান্ড; লোনে থাকা খেলোয়াড়সহ তাদের মোট ১১ জন প্রতিনিধি রয়েছে এবারের বিশ্বকাপে, যা চেলসি কিংবা লিভারপুলের মতো জায়ান্টদের সমান।
ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগের দাপট ও স্পেনের শতভাগ রেকর্ড
বিশ্ব ফুটবলের সেরা পাঁচ লিগ—ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগ, স্পেনের লা লিগা, জার্মানির বুন্দেসলিগা, ইতালির সিরি-আ এবং ফ্রান্সের লিগ ওয়ান-এর ফুটবলারদের জয়জয়কার এবারও। তবে এই ক্ষেত্রে এক অনন্য ও নিখুঁত রেকর্ড গড়েছে স্পেন। তাদের ঘোষিত ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের প্রতিটি খেলোয়াড়ই (১০০ ভাগ) ইউরোপের এই শীর্ষ ৫ লিগের কোনো না কোনো ক্লাবে খেলেছেন।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ড ও জার্মানির স্কোয়াডের ২৫ জন করে খেলোয়াড় শীর্ষ লিগের হলেও ব্যতিক্রম আল-আহলিতে খেলা ইভান টনি এবং গালাতাসারাইয়ের লেরয় সানে। ফ্রান্সের স্কোয়াডেও সৌদি লিগের আল হিলালে খেলা থিও হার্নান্দেজ ও ফেনেরবাচেতে খেলা এনগোলো কান্তে থাকায় শতভাগ রেকর্ড হয়নি। ইউরোপের বাইরে আর্জেন্টিনা ও সেনেগালের সর্বোচ্চ ২০ জন করে ফুটবলার খেলছেন এই এলিট লিগগুলোতে।
বিপরীতে কুরাসাও, ইরান, ইরাক কিংবা কাতারের স্কোয়াডের কোনো ফুটবলারই এবার ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগে খেলার অভিজ্ঞতা পাননি।
সবচেয়ে প্রবীণ পানামা, চিরসবুজ রোনালদো
এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে অভিজ্ঞ বা প্রবীণ স্কোয়াড নিয়ে খেলতে আসছে পানামা। দলটির গড় বয়স ৩০ বছরের বেশি।
পানামা ছাড়া কেবল ইরান ও কলম্বিয়ার গড় বয়স ৩০ পার হয়েছে। ২০০২ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি ভরসা রাখছেন দানিলো, কাসেমিরো ও নেইমারের মতো ৩৪ বছর বয়সী অভিজ্ঞ তারকাদের ওপর। ১৯৯৮ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপে আসা স্কটল্যান্ডও রয়েছে প্রবীণ স্কোয়াডের তালিকায়।
বয়সের সব বিজ্ঞানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ৪১ বছর বয়সে নিজের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে টুর্নামেন্টের প্রবীণতম খেলোয়াড় স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেগ গর্ডন, যিনি খেলা শুরুর দিনে ৪৩ বছর ১৬২ দিন বয়স নিয়ে মাঠে নামবেন।
এছাড়া ৪০ ঊর্ধ্ব ফুটবলারদের ক্লাবে মাঠের খেলোয়াড় হিসেবে আছেন লুকা মদরিচ ও এডিন জেকো।
আইভরি কোস্ট ও মেক্সিকোর ১৭ বছরের বিস্ময়
অভিজ্ঞদের বিপরীতে সম্পূর্ণ এক তরুণ ও গতিময় দল নিয়ে বিশ্বজয় করতে আসছে আইভরি কোস্ট। তাদের স্কোয়াডের গড় বয়স সবচেয়ে কম (২৫ বছর)। আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কো এবং ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনও তরুণ স্কোয়াড নিয়ে আসছে, যেখানে স্পেনের দলে আছেন লামিনে ইয়ামাল (১৮) ও পাউ কুবারসি (১৯)।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের কনিষ্ঠতম বা সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হওয়ার রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন মেক্সিকোর ১৭ বছর ২৪০ দিন বয়সী মিডফিল্ডার গিলবার্টো মোরা।
আগামী অক্টোবরের আগে তিনি ১৮ বছরে পা দেবেন না। মোরা ছাড়া চেক প্রজাতন্ত্রের ১৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার হুগো সোচুরেক এবং বায়ার্ন মিউনিখে ব্রেক-আউট মরসুম কাটানো জার্মানির লেনার্ট কার্লের (১৮) মতো তরুণ বিস্ময়দের পায়ের জাদু দেখার অপেক্ষায় থাকবে পুরো ফুটবল বিশ্ব।
আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি ৫ দল: আছে ব্রাজিল, নেই আর্জেন্টিনা

