Lionel Messi fans Vicente Conculini, Yamandu Martinez, and Miguel Sillo celebrating with their bicycles in Kansas City.মেসির টানে সাইকেল চালিয়ে আর্জেন্টিনা থেকে ক্যানসাস সিটিতে পৌঁছান ৩ সমর্থক। ছবি: বিইনস্পোর্টস

ফুটবল স্রেফ একটা খেলা নয়, এটি যে এক আবেগের নাম, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন আর্জেন্টিনার তিন অন্ধ ভক্ত। ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিকে সামনাসামনি দেখার স্বপ্ন বুকে নিয়ে দীর্ঘ ১০ মাস সাইকেল চালিয়েছেন তাঁরা। পাড়ি দিয়েছেন ১৭টি দেশের সীমানা, চাকার তলায় পিষেছেন প্রায় ১৭,০০০ কিলোমিটার পথ! অবশেষে তাঁদের সেই অবিশ্বাস্য এবং রোমাঞ্চকর স্বপ্নযাত্রার সমাপ্তি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস সিটিতে, যেখানে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের বেস ক্যাম্প বানিয়েছে আর্জেন্টিনা দল।

আরও পড়ুন:
রেকর্ডের এভারেস্টে লিওনেল মেসির যত অর্জন

গ্রুপ পর্বের ড্র হওয়ার আগেই শুরু যাত্রা

লা আলবিসেলেস্তেদের জন্য যখন কোটি কোটি সমর্থক প্লেনের টিকিট আর ম্যাচ পাসের জন্য ব্যাকুল, তখন এই তিন আর্জেন্টাইন—ভিসেন্তে কোনকুলিনি, ইয়ামান্দু মার্টিনেজ এবং মিগুয়েল সিলিও বেছে নিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ। গত ২০২৫ সালের আগস্টে আর্জেন্টিনার গুয়ালেগুয়াইচু শহর থেকে যখন তাঁরা সাইকেল নিয়ে বের হন, তখনো বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ড্র অনুষ্ঠিত হয়নি। মেসিরা কোন গ্রুপে বা কোন শহরে খেলবেন, তাও জানা ছিল না। তবে বুকে শুধু একটিই জেদ ছিল—মেসিরা যেখানেই খেলুক না কেন, তাঁরা ঠিক পৌঁছে যাবেন।

টানা ৩০০ দিন রোডই ছিল তাঁদের ঘরবাড়ি। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় মাথায় নিয়ে বোলিভিয়া ও পেরুর পাহাড়ি অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,০০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতায় হাড় কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে সাইকেল চালিয়েছেন তাঁরা। প্রতিটি সাইকেলে ছিল প্রায় ৮০ পাউন্ডের ওজনের মালামাল; যার মধ্যে শীত ও গরমের পোশাক, তাঁবু, স্লিপিং ব্যাগ এবং রান্নার রসদ সবই ছিল। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, তাঁদের কেউই পেশাদার সাইক্লিস্ট নন। স্রেফ ভ্রমণ আর ফুটবল দলের প্রতি ভালোবাসাকে এক করতেই এই দুঃসাহসিক মিশন!

ক্যানসাস সিটিতে ‘অপ্রত্যাশিত’ বীরের মর্যাদা

গত ২ জুন ক্যানসাস সিটিতে যখন তাঁরা পৌঁছান, তখন তাঁদের স্বাগত জানাতে স্থানীয় সাইক্লিস্ট এবং ফুটবল ভক্তরা রাস্তায় নেমে আসেন।

আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী গান, হাততালি আর করতালির মাধ্যমে এক বিশাল শোভাযাত্রা নিয়ে তাঁদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় ‘অরিজিন হোটেল’-এর সামনে, যেখানে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা দল অবস্থান করছে।

টিকিট নেই, তবু স্বপ্ন মেসিকে ছুঁয়ে দেখা

একটু অবাক করার মতো বিষয় হলেও সত্য, এই তিন ভক্ত এত দূর এসেছেন কোনো টিকিট ছাড়াই! অফিশিয়াল চ্যানেলে অনেক চেষ্টা করেও প্রথম ম্যাচের টিকিট পাননি তাঁরা।

আগামী ১৬ জুন অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখার মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ দেখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অবশ্য খুব একটা আফসোস নেই এই তিন বীরের। তাঁদের শেষ এবং সবচেয়ে বড় স্বপ্নটি খুব সাধারণ—লিওনেল মেসি বা দলের অন্য কোনো সদস্য যেন হোটেলের বাইরে এসে তাঁদের একটা অটোগ্রাফ দেন কিংবা একটা সেলফি তোলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিবাচক এই ক্যাম্পেইন ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে আর্জেন্টিনা দলের মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজেরও।

১৭ হাজার কিলোমিটারের এই ত্যাগ ও ভালোবাসার পর, মেসিকে একবার ছুঁয়ে দেখার এই দাবি তো খুবই সামান্য! সেটা পূরণ হয়ে যাবে আশা করাই যায়।

আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপের আগে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন আর্জেন্টাইন তারকা মেসি