ফুটবল বিশ্বে কত শত তারকার আগমন ঘটেছে, আবার সময়ের নিয়মে তারা চলেও গেছেন। তবে একজন লিওনেল মেসি ফুটবলকে যা দিয়েছেন, তা হয়তো চিরকাল অনন্য এক উচ্চতায় অধরাই থেকে যাবে। ইন্টার মায়ামির জার্সিতে একের পর এক কীর্তি গড়ে চলা এই আর্জেন্টাইন জাদুকর ২০২৪ সালের অক্টোবরেও নতুন ইতিহাস লিখেন। মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) তাঁর দল ইন্টার মায়ামি রেকর্ড ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে প্রথমবারের মতো মর্যাদাপূর্ণ ‘সাপোর্টার্স শিল্ড’ জয় করে। সেই সাথে নিশ্চিত হয় ২০২৫ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে খেলার টিকিটও। মেসির ট্রফি ক্যাবিনেটে যোগ হওয়া এই পালকটি আসলে ছিল তাঁর সুদীর্ঘ ও অবিশ্বাস্য ক্যারিয়ারের এক ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবার এই মহাতারকার আন্তর্জাতিক, ক্লাব ও ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের সেই রাজকীয় ট্রফি জয়ের খতিয়ান নতুন করে তুলে ধরেছে।
দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ট্রফির খরা থাকার পর ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয় দিয়ে যে স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ রূপকথার চেয়েও সুন্দর।
২০২২ সালে কাতারের মাটিতে অধরা ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ফুটবলকে পূর্ণতা দিয়েছেন মেসি। বিশ্বমঞ্চের সেই আসর ছাড়াও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে অনন্য ফুটবল শৈলী প্রদর্শন করে তিনি জিতেছেন বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘অ্যাডিডাস গোল্ডেন বল’।
ফুটবল ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে দুটি বিশ্বকাপে (২০১৪ ও ২০২২) গোল্ডেন বল জেতার অনন্য কীর্তি কেবল এই খুদে জাদুকরেরই রয়েছে।
এর বাইরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তিনি দুইবার কোপা আমেরিকা (২০২১ ও ২০২৪), একটি ফিনালিসিমা (২০২২), ২০০৮ সালের অলিম্পিক স্বর্ণপদক এবং ২০০৫ সালের অনূর্ধ্ব-২০ ফিফা বিশ্বকাপ ও গোল্ডেন বুট নিজের নামে লিখিয়েছেন।
বার্সেলোনায় ৩৪ ট্রফির রাজত্ব ও পিএসজি অধ্যায়
লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের স্বর্ণযুগ কেটেছে স্প্যানিশ ক্লাব এফসি বার্সেলোনায়। কাতালানদের হয়ে তিনি অবিশ্বাস্য ৩৪টি অফিশিয়াল শিরোপা জিতেছেন।
এর মধ্যে রয়েছে ৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ১০টি লা লিগা, ৭টি কোপা দেল রে, ৮টি স্প্যানিশ সুপার কাপ, ৩টি ইউরোপীয় সুপার কাপ এবং ৩টি ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। বার্সার হয়ে ক্লাব বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি দুইবার টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ‘গোল্ডেন বল’ও বগলদাবা করেন তিনি।
এরপর ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ে (পিএসজি) যোগ দিয়েও তাঁর ট্রফি জয়ের ক্ষুধা কমেনি। সেখানে দুই মৌসুমে জিতেছেন দুটি লিগ ওয়ান শিরোপা এবং একটি ফরাসি সুপার কাপ (ত্রোফে দে শঁপিওঁ)।
আর বর্তমানে আমেরিকার ক্লাব ইন্টার মায়ামিকে ইতিমধ্যেই এনে দিয়েছেন লিগস কাপ ও সাপোর্টার্স শিল্ডের মতো ঐতিহাসিক শিরোপা।
ব্যক্তিগত অর্জনে ফিফার চূড়ায় মেসি
দলগত ট্রফির পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনে মেসি নিজেকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছেন, যেখানে পৌঁছানো বাকিদের জন্য স্রেফ স্বপ্ন।
ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার ‘দ্য বেস্ট ফিফা মেনস প্লেয়ার’ ট্রফিটি তিনি তিনবার (২০১৯, ২০২২, ২০২৩) নিজের শোকেসে পুরেছেন। তবে ফিফার আগের সংস্করণের বর্ষসেরা পুরস্কারসহ হিসাব করলে তিনি মোট আটবার বিশ্বের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ফুটবলারদের অফিশিয়াল সংগঠন ফিফপ্রোর (FIFPRO) বর্ষসেরা বিশ্ব একাদশে ২০০৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা ১৭ বার জায়গা করে নিয়ে এক অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন মেসি।
ফুটবল ইতিহাসের এই সর্বোচ্চ ট্রফি জয়ী মহানায়কের পায়ের জাদু দেখার জন্য বিশ্ব ফুটবল আরও কতদিন সুযোগ পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন:
মেসির শেষ মঞ্চে ৬৪ বছরের প্রাচীর ভাঙতে পারবে আর্জেন্টিনা?

