Australian cricket team players arriving at Hazrat Shahjalal International Airport in Dhaka.ঢাকায় পৌঁছেছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ছবি: বিসিবি

পাকিস্তানের মাটিতে তীব্র গরম আর বিষাক্ত স্পিন ট্র্যাপের কঠিন পরীক্ষা চুকিয়ে আজই বাংলাদেশে পা রাখল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। সাদা বলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে আজ শুক্রবার বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে অজি বাহিনী। পাকিস্তান সফরে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হেরে ব্যাকফুটে থাকলেও, সেই অভিজ্ঞতাই এখন বাংলাদেশের মাটিতে কাজে লাগাতে মরিয়া সফরকারীরা।

আগামী ৯ জুন মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুই দলের মাঠের লড়াই। ঐতিহাসিক এই সিরিজকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই দুই দলই তাদের রণপ্রস্তুতি ও স্কোয়াড চূড়ান্ত করে ফেলেছে।

ঢাকার পিচ নিয়ে ইংলিসের সতর্কতা ও তরুণদের শিক্ষা

পাকিস্তানে অজিদের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা জশ ইংলিস ঢাকায় পা রেখেই মিরপুরের উইকেট ও কন্ডিশন নিয়ে বেশ সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

পাকিস্তানের নিচু বাউন্স আর তীব্র টার্নের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দিয়ে ইংলিস বলেন, “বাংলাদেশেও হয়তো আমরা একই রকম স্পিন-সহায়ক কন্ডিশন পেতে পারি। তবে পাকিস্তানে খেলে আমাদের খেলোয়াড়েরা দারুণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং কন্ডিশন অনুযায়ী পরিকল্পনাগুলো গুছিয়ে নিতে পেরেছে। দলের তরুণদের জন্য এটি একটি বড় শেখার মঞ্চ ছিল।”

পাকিস্তান সিরিজে অভিষেক হওয়া অলিভার পিক কিংবা কুপার কনোলিদের মতো উঠতি ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে ইংলিস আরও যোগ করেন, “আমি তরুণদের বলেছি, একজন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার হিসেবে উপমহাদেশে এর চেয়ে কঠিন কন্ডিশন পাওয়া অসম্ভব। এই সফরে রিভার্স সুইং ও স্পিন কীভাবে সামলাতে হয়, তা আমাদের ভবিষ্যৎ ক্রিকেটারদের দারুণভাবে তৈরি করবে।”

বাংলাদেশ স্কোয়াডে পরিবর্তন

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুটি ওয়ানডের জন্য ইতিমধ্যেই ১৬ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

এই স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় চমক অভিজ্ঞ ব্যাটিং অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের অন্তর্ভুক্তি। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর আবারও জাতীয় দলের ওয়ানডে জার্সিতে ডাক পেলেন তিনি। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে রান পেলেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজে খেলা আফিফ হোসেন ধ্রুব এবং মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন পারফরম্যান্সের কারণে দল থেকে বাদ পড়েছেন।

অজিদের তারকারা নেই

প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক কিংবা জশ হ্যাজেলউডের মতো নিয়মিত পেসারদের এই সফরে বিশ্রাম দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

অজিদের ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব দেবেন মিচেল মার্শ। তবে সিনিয়র তারকাদের অনুপস্থিতি থাকলেও ট্রাভিস হেড, ক্যামেরন গ্রিন কিংবা অ্যাডাম জাম্পাদের নিয়ে গড়া এই শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ান স্কোয়াডকে মোকাবিলা করা মেহেদী হাসান মিরাজের দলের জন্য মোটেও সহজ হবে না।

আগামীকাল শনিবার থেকেই মিরপুরের মাঠে শুরু হচ্ছে টাইটানদের অফিশিয়াল অনুশীলন ক্যাম্প।

সিরিজের সূচি

ঢাকার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে হবে ওয়ানডে সিরিজ। ৯ জুন প্রথম ম্যাচ। এরপর ১১ ও ১৪ জুন পরের দুটি ম্যাচ মাঠে গড়াবে।

চট্টগ্রামে হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। প্রথমটি ১৭ জুন। পরের দুটি ১৯ ও ২১ জুন।

দুই ওয়ানডের জন্য বাংলাদেশ স্কোয়াড

মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস, নুরুল হাসান সোহান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম এবং নাহিদ রানা।

অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে স্কোয়াড

মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জাভিয়ের বার্টলেট, অ্যালেক্স ক্যারি, কপার কনলি, বেন ডারউইশ, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাথু কুনেম্যান, মার্নাস লাবুশেন, ম্যাথু রেনশ, তানভীর সাঙ্ঘা, লিয়াম স্কট ও অ্যাডাম জাম্পা।

আরও পড়ুন:
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ দল ঘোষণা, চমকের নাম মোসাদ্দেক!