গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ—ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মহোৎসব শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। বিশ্বমঞ্চের এই মেগা আসরকে সামনে রেখে ফুটবল দুনিয়াকে আলোড়িত করতে প্রস্তুত একঝাঁক তরুণ তুর্কি। বিশ্বফুটবলের সেই রোমাঞ্চকর ভবিষ্যৎ তারকাদের নিয়ে আমাদের বিশেষ আয়োজন ‘বিশ্বকাপের বিস্ময়’ সিরিজের আজ ৫ম পর্ব। আজকের পর্বে আমরা আলো ফেলব এমন এক ফুটবলারের ওপর, যার নামের অর্থ তুর্কি ভাষায় ‘তারকা’ বা ‘নক্ষত্র’, আর যিনি ইতিমধ্যেই ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাসের আইকনিক ১০ নম্বর জার্সির উত্তরাধিকারী হয়েছেন। তিনি আর কেউ নন—তুরস্কের আক্রমণভাগের নতুন প্রাণভোমরা কেনান ইলদিজ।
কেনান ইলদিজ: এক নজরে প্রোফাইল
জন্মতারিখ: ৪ মে, ২০০৫ (বয়স ২১ বছর)
বর্তমান দল: তুরস্ক জাতীয় দল ও জুভেন্টাস (ইতালি)
আন্তর্জাতিক অভিষেক: ১২ অক্টোবর, ২০২৩ (বনাম ক্রোয়েশিয়া, মাত্র ১৮ বছর বয়সে)
খেলার পজিশন: লেফট উইঙ্গার / ফরোয়ার্ড
প্রধান দক্ষতা: অসাধারণ টেকনিক, ড্রিবলিং গতি, সৃজনশীলতা এবং ইস্পাতকঠিন মানসিকতা।
আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপের বিস্ময়-১: ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের মূল বাজি এনড্রিক
জার্মানির বুকে তুর্কি ঝড়ের সেই রাজকীয় উত্থান
২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো দর্শক এক জাদুকরী মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছিল। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক জার্মানি তখন ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে। ঠিক তখনই ডি-বক্সের কোণ থেকে ডান পায়ের এক মাপা ও বুলেট গতির শটে বল জালে জড়ালেন এক ১৮ বছরের তরুণ। স্তব্ধ হয়ে গেল বার্লিন।
নিজের জন্মভূমির বিপক্ষেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোলের খাতা খুললেন কেনান ইলদিজ!
বাভারিয়ায় তুর্কি বাবা এবং জার্মান মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া ইলদিজ মাত্র ৭ বছর বয়সে বায়ার্ন মিউনিখের একাডেমিতে যোগ দেন।
পরবর্তীতে ১৭ বছর বয়সে তিনি পাড়ি জমান ইতালির জুভেন্টাসে। তুরিনের ওল্ড লেডিদের ডেরায় তিনি এখন গায়ে জড়ান ঐতিহাসিক ‘১০ নম্বর’ জার্সি, যা একসময় লিজেন্ড মিশেল প্লাতিনি, রবার্তো বাজ্জো কিংবা আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরোর মতো কিংবদন্তিরা পরেছেন। সদ্য সমাপ্ত সেরি-আ মৌসুমে জুভেন্টাসের হয়ে ১০টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৭টি গোল।
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের অন্যতম সেরা ড্রিবলার হিসেবে ইতিমধ্যেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই তুর্কি সেনসেশন।
ইউরো ২০২৪-এর পর থেকেই তিনি তুরস্কের আক্রমণভাগের প্রধান চালিকাশক্তি।
ইলদিজকে নিয়ে ফুটবল বিশ্বের প্রশংসাবাণী
তুর্কি এই উইঙ্গারের প্রতিভা নিয়ে জুভেন্টাসের সাবেক কোচ মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি বলেছিলেন, “খেলা কোন দিকে মোড় নেবে, তা ও আগে থেকেই বুঝতে পারে। এটা ওর ঈশ্বরপ্রদত্ত এক সহজাত ক্ষমতা।”
জুভেন্টাসের সদ্য বিদায়ী কোচ থিয়াগো মোত্তা ওর কাজের প্রতি নিষ্ঠাকে বড় করে দেখে বলেন, “ওর অবিশ্বাস্য প্রতিভা রয়েছে, তবে ওর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মাঠে কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা।”
এমনকি ক্লাবের কিংবদন্তি আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরোও ওর গোল করার দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
অন্যদিকে তুরস্কের প্রধান কোচ ভিনচেনজো মন্তেল্লার ভবিষ্যৎ বাণী, “কেনান প্রতিভার সাথে সঠিক মানসিকতার এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। ও বহু বছর ধরে বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে রাজত্ব করবে।”
আর সতীর্থ গ্লেইসন ব্রেমার তো সরাসরি বলেই দিয়েছেন, “ও যখন বল পায়ে ড্রিবল করে, তখন ওকে দেখতে অনেকটা আমাদের নিজেদের লামিন ইয়ামালের মতোই লাগে!”
উত্তর আমেরিকার মাটিতে আগামী বিশ্বকাপে তুরস্কের বড় শক্তির নাম এই ইলদিজ। গতি, স্কিল আর নিখুঁত ড্রিবলিংয়ে তিনি পারেন এক নিমেষে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে।
আমেরিকার কন্ডিশনে তুর্কি এই ‘নক্ষত্র’ কতটা উজ্জ্বলভাবে জ্বলে ওঠে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ কেনান ইলদিজের ম্যাচ সূচি (গ্রুপ পর্ব)
১৩ জুন: অস্ট্রেলিয়া বনাম তুরস্ক (বিসি প্লেস, ভ্যাঙ্কুভার)
১৯ জুন: তুরস্ক বনাম প্যারাগুয়ে (সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়াম)
২৫ জুন: তুরস্ক বনাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম)।
আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপের বিস্ময়-৩: ফ্রান্সের ‘ইঞ্জিন’ এমেরি, ২০ বছর বয়সেই ১৩ ট্রফি!

