Bangladesh fast bowler Hasan Mahmud bowling in a a ODI match with the white ball.কাউন্টিতে সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত হাসান মাহমুদ।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তরুণ পেস সেনসেশন হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারে যুক্ত হলো এক নতুন পালক। লাল বলের দীর্ঘতম সংস্করণে দেশের অন্যতম প্রধান এই বোলিং অস্ত্র এবার পাড়ি জমাচ্ছেন ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী কাউন্টি ক্রিকেটে। ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সারির ক্লাব ‘কেন্ট ক্রিকেট’ থেকে প্রথমবারের মতো অফিশিয়াল প্রস্তাব পেয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এই ডানহাতি পেসার। ইনজুরির ধাক্কা সামলে চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) দিয়ে ক্রিকেটে ফেরার মাঝেই এমন বড় সুসংবাদ পেলেন তিনি।

পায়ের চোটের কারণে সবশেষ পাকিস্তান সফর মিস করা হাসান মাহমুদের জন্য কাউন্টির এই মঞ্চটি তাঁর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের মতো। লর্ডসের দেশের কন্ডিশন ও ক্রিকেট সংস্কৃতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে উন্মুখ হয়ে আছেন এই গতি তারকা।

স্বপ্ন সত্যি হওয়ার আনন্দ ও নতুন লক্ষ্য

কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পেয়ে নিজের উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে পারেননি হাসান মাহমুদ।

কেন্টে ডাক পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর থেকেই আমার মাথায় একটা সুপ্ত ইচ্ছা ছিল যে, একদিন কাউন্টি ক্রিকেটে লাল বলে বল করব। অবশেষে সেই সুযোগটি পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। আমার স্বপ্নই ছিল একদিন ক্রিকেটের ভালো একটা পর্যায়ে পৌঁছাব, নিজেকে শীর্ষ বোলার হিসেবে প্রমাণ করব। দেশের হয়ে দাপটের সাথে খেলার পাশাপাশি বিশ্বের বড় বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আর কাউন্টিতে খেলব—আজ সেই স্বপ্নগুলো সত্যি হতে চলেছে।”

ইংল্যান্ডের সুইং ও পেস-সহায়ক কন্ডিশনে ভালো কিছু করতে নিজের চেনা প্রক্রিয়াতেই ভরসা রাখছেন হাসান।

তিনি যোগ করেন, “আমি কাউন্টিতে গিয়ে আমার স্বাভাবিক বোলিং প্রক্রিয়াটাই অনুসরণ করার চেষ্টা করব। ওদের কন্ডিশন, ডিউক বল, সুযোগ-সুবিধা এবং ক্রিকেট সংস্কৃতির সাথে যদি নিজেকে নিখুঁতভাবে মানিয়ে নিতে পারি, তবে অবশ্যই ভালো কিছু করা সম্ভব।”

“বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বড় দুয়ার”

হাসান মাহমুদের কাউন্টিতে খেলার এই সুযোগকে কেবল একজন ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখছেন না জাতীয় দলের ভারপ্রাপ্ত পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের। তাঁর মতে, এটি সামগ্রিকভাবে দেশের পেস বোলিং বিভাগের জন্য এক বিরাট মাইলফলক।

নতুন পেস কোচ তালহা জুবায়ের বলেন, “এটি হাসান মাহমুদের ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়েও বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় একটা প্রাপ্তি। ও কাউন্টি ক্রিকেটের মতো কঠিন জায়গায় গিয়ে যদি ভালো পারফর্ম করতে পারে, তবে তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমাদের দলের জন্যই কাজে লাগবে। হাসান সেখানে সফল হলে বিশ্বমঞ্চে আমাদের পাইপলাইনের পরবর্তী ফাস্ট বোলারদের জন্যও কাউন্টির দরজা খুব সহজে খুলে যাবে।”

সাকিব আল হাসান কিংবা মোস্তাফিজুর রহমানের পর হাসান মাহমুদের এই নতুন মিশন ইংলিশ কন্ডিশনে টাইগার পেসারদের সামর্থ্য প্রমাণের এক সোনালী সুযোগ।

আরও পড়ুন:
হাসান মাহমুদের কী হয়েছে, স্ত্রীকে নিয়ে কেন লন্ডনে