আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচের রণকৌশল এখনই চূড়ান্ত করে ফেলেছেন ব্রাজিলের মাস্টারমাইন্ড কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠে নামবে সেলেসাওরা। চোট আর ফিটনেস জটিলতার আবহেই ইতালিয়ান এই কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিলের শুরুর একাদশ কেমন হবে, তা তিনি ইতিমধ্যেই পুরোপুরি নির্ধারণ করে ফেলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডের হান্টিংটন ব্যাংক ফিল্ডে মিশরের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ২-১ গোলের জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন আনচেলত্তি।
দলের এই হেড কোচ বলেন, ‘মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য আমার শুরুর একাদশ তৈরি। আমার মাথায় একদম পরিষ্কার ধারণা আছে। আজ মাঠে ভিনিসিয়ুস ও রাফিনহা জুটি দুর্দান্ত খেলেছে। ওদের চমৎকার বোঝাপড়ার কারণেই আমরা গোল করার অনেক সুযোগ তৈরি করতে পেরেছি।’
রক্ষণভাগের ফিটনেস ও ওয়েসলির চোটের ধাক্কা
শুরুর একাদশ চূড়ান্ত করলেও রক্ষণভাগের দুই স্তম্ভ মার্কিনহোস এবং গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসকে নিয়ে কিছুটা সতর্ক ব্রাজিল কোচ। রিয়াল মাদ্রিদ ও বুরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল খেলে আসায় এই দুই ডিফেন্ডার এখনো শতভাগ ফিট নন।
অবশ্য আনচেলত্তি আশাবাদী যে, আগামী কদিনের ভালো অনুশীলনই ওদের মরক্কো ম্যাচের জন্য পুরোপুরি তৈরি করে তুলবে।
তবে ব্রাজিলের এই জয়ের আনন্দের মাঝেই হানা দিয়েছে বড় এক দুঃসংবাদ। ঊরুর গুরুতর চোট নিয়ে প্রথমার্ধেই কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছেড়েছেন ব্রাজিলের ফুল-ব্যাক ওয়েসলি। আজ রোববারের মেডিকেল টেস্টের ডায়াগনসিস রিপোর্টের ওপরই মূলত নির্ভর করছে এই তরুণ ডিফেন্ডারের বিশ্বকাপ ভাগ্য।
তবে আনচেলত্তি জানিয়েছেন, ওয়েসলি সময়মতো সুস্থ হতে না পারলে দানিলোর পাশাপাশি পানামার বিপক্ষে খেলা ইবানেজও এই পজিশনে প্রস্তুত আছেন।
গিমারায়েসের লিড ও এনড্রিকের ম্যাজিক
এ ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের হাই-প্রেসিং ফুটবলের কারণে প্রথম ১১ মিনিটের মধ্যেই দুটি গোল আসে।
খেলার শুরুতে মিশরের মোহনাদ লাশিনের রক্ষণভাগের এক ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্রুনো গিমারায়েস গোল করে ব্রাজিলকে প্রথমে এগিয়ে নেন। তবে মারকুইনহোসের একটি মারাত্মক ব্যাক-পাস ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে মিশরের মোস্তফা জিকো দ্রুতই ম্যাচে সমতা ফেরান।
বিরতির পর ব্রাজিলের খেলায় গতি ফেরাতে কার্লো আনচেলত্তি নতুন করে ১১ জন খেলোয়াড়কে মাঠে নামান। হাফটাইমে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন ব্রাজিলের নতুন ‘ওয়ান্ডার কিড’ এনড্রিক। রাফিনহার একটি নিখুঁত পুল-ব্যাক থেকে বক্সের ভেতর চমৎকার পজিশনিং আর দুর্দান্ত পাওয়ার শটে গোল করে ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত করেন এই তরুণ স্ট্রাইকার।
এনড্রিকের প্রশংসা করে আনচেলত্তি বলেন, ‘এনড্রিকের গোল করার সহজাত ক্ষমতা অসাধারণ। ও আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।’
বিশ্বকাপ প্রস্তুতি
ম্যাচের প্রথম ৬০ মিনিটে ব্রাজিলের খেলায় গতি ও হাই-প্রেসিং ফুটবল দেখা গেলেও শেষ ৩০ মিনিটে ম্যাচ থেকে নিয়ন্ত্রণ কিছুটা হারিয়ে ফেলেছিল দল। ম্যাচের শেষ দিকে মিশরীয়রা ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করলেও ব্রাজিলের রক্ষণভাগ জমাট থাকায় আর কোনো গোল হয়নি। অন্যদিকে মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইরের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স না থাকলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও গ্যাব্রিয়েলদের নিশ্চিত প্রচেষ্টায় ব্রাজিলের জয়ের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।
ঘরের মাঠে পানামাকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর এবার মিশরকে হারিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগে দুই ম্যাচে দুই জয় ও ৮ গোল নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি দারুণভাবে সারল লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা। এই ব্যাক-টু-ব্যাক জয় আসন্ন মূল পর্বের আগে কার্লো আনচেলত্তির দলকে যেমন বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে, ঠিক তেমনি শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে তীব্র লড়াইয়ের পর এই প্রীতি ম্যাচ থেকে অনেক ইতিবাচক দিক নিয়েই মাঠ ছেড়েছে মিশর।

