টেস্ট ক্রিকেটে দুর্দান্ত করছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

সফরকারী আয়ারল্যান্ডকে মোটামুটি সাড়ে তিনদিনেই গুটিয়ে ইনিংস ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচে ব্যাটে, বলে দারুণ ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। শান্ত নিজেও ব্যাট হাতে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য, করেছেন নান্দনিক এক সেঞ্চুরি।

টেস্ট ব্যাটার হিসেবে শান্ত এমন এক রেকর্ডে আছেন, যা আসলেই তাকে গর্বিত করতে পারে।

সিলেট টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলন পর্বের পর এক সাংবাদিক শান্তকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘আপনার ওপরে তো শুধু ব্র্যাডম্যান আর জর্জ হ্যাডলি….’।

শুনে যেন রীতিমতো লজ্জা পেলেন শান্ত। বিনয়ের সাথেই বললেন, ‘আমার ক্যারিয়ার সবে তো শুরু…’। শান্ত যেন বলতে চাইলেন, ওই গ্রেটদের কাতারে নিজের নাম উচ্চারিত হতে হলে বহু পথ পাড়ি দিতে হবে।

তবে রেকর্ড কিন্তু এখন সত্যটাই বলছে!

টেস্টে ফিফটির পর ইনিংসকে শতকে রূপ দেওয়ার শতাংশে শান্তর ওপরে কেবল ব্র্যাডম্যান ও হ্যাডলিই আছেন। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যান পঞ্চাশ পেরোনোর পর ৬৯.০৫ শতাংশ ইনিংসকেই সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন। টেস্টে তার সেঞ্চুরির সংখ্যা ২৯টি।

তার পরেই আছেন ‘ব্ল্যাক ব্র্যাডম্যান’ হিসেবে খ্যাত ওয়েস্ট ইন্ডিজের জর্জ হ্যাডলি। ৪০ ইনিংসে ১৫ বার পঞ্চাশ পেরিয়ে তিনি শতক তুলে নিয়েছেন ১০টিতে। শতাংশের হিসেবে তা ৬৬.৬৭।

নাজমুল হোসেন শান্ত ৩৮ টেস্টে ১৩ বার পঞ্চাশ পেরিয়ে যাওয়া ইনিংসে ৮ বারই সেঞ্চুরি পেয়েছেন। ৬১.৫৪ শতাংশ ফিফটিকে পরিণত করেছেন শতকে।

তবে ফিফটিকে শতকে রূপ দেওয়ার কাজটা নাকি ‘চিন্তা করে’ করেন না শান্ত। অন্তত আজ তেমনটাই বললেন, ‘চিন্তা করে করি না, চেষ্টা করি যখন থিতু হই, চেষ্টা থাকে যে কীভাবে আমি বড় রান করতে পারি দলের জন্য।’

‘মাত্র ৩৮ ম্যাচ খেলছি। এখনই এত লম্বা চিন্তা করছি না। এত ভালো ভালো কথা শোনার আসলে অভ্যাস আমার নেই। মুশফিক ভাই ৯৯টা টেস্ট খেলে ফেলেছে, তেমন বা ১০০-১৫০ ম্যাচ খেলার পরে যদি এ রকম ধারাবাহিক থাকতে পারি, তাহলে আমি বলতে পারবো, মনে হয় ভালোভাবে আমার ক্যারিয়ারটা শেষ করতে পেরেছি।’

অধিনায়ক হিসেবে শান্তর ব্যাট যেন বেশি কথা বলেন। তার ৮ সেঞ্চুরির ৪টিই এসেছে অধিনায়ক থাকার সময়ে। অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশের মধ্যে তার চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে কেবল মুশফিকুর রহিমের। তবে মুশফিক শান্তর চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ইনিংসে ব্যাট করেছেন।

এখানেও বিশেষ কিছু দেখেন না শান্ত, ‘আমি ব্যাটিংয়ের সময় ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে পছন্দ করি। আমার ভেতরে একবারের জন্যও মনে হয় না আমি অধিনায়ক হিসেবে খেলছি। চিন্তা করি যে কীভাবে ব্যাটসম্যান হিসেবে অবদান রাখতে পারি। ওইটাই মূল নজর থাকে। আর যখন অব দ্য ফিল্ড বা ফিল্ডিংয়ে থাকি, তখন অধিনায়ক হিসেবে আমার যে দায়িত্বগুলো পালন করার, তা করি।’