শুরুটা সেই ২০০৬ বিশ্বকাপ দিয়ে। এরপর ফুটবলের সব বড় আসরেই ক্রোয়েশিয়া দলের সঙ্গী লুকা মদ্রিচ। এই উজ্জ্বল যাত্রায় এবার আরেকটি বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত হয়েছে তার।

এটি হবে লুকা মদ্রিচের পঞ্চম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ। সবমিলিয়ে হবে তার ক্যারিয়ারের দশম বড় আসর। এই অসাধারণ পথচলায় গর্ব আর রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যাচ্ছে এই চিরসবুজ তারকাকে।

কাল রাতে ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ে ফারো আইল্যান্ডসকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। এর মধ্য দিয়ে এক ম্যাচ বকি থাকতেই বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে তারা। এই অভিযানেও যথারীতি বড় অবদান ছিল মদ্রিচের।

রিয়াল মাদ্রিদে ১৩ বছরের গৌরবময় অধ্যায় শেষ করে এই মৌসুমের শুরুতে মদ্রিচ পাড়ি জমান ইতালির এসি মিলানে। সেখানেও তিনি ঝলক দেখিয়ে চলেছেন।

মদ্রিচের ক্লাব ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ, আগামী বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে তৈরি রাখা। সব ঠিক থাকলে ৪০ বছর বয়সে ২০২৬ বিশ্বকাপে দেখা যাবে ক্রোয়েশিয়ার সর্বকালের সেরা হিসেবে খ্যাতি পেয়ে যাওয়া এই ফুটবলারকে।

মদ্রিচ ২০০৬ বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে দুটি ম্যাচে খেলেন। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ খেলেছেনি তিনি। এর বাইরে পাঁচটি ইউরোতেও খেলেছেন মদ্রিচ।

২০২৬ বিশ্বকাপ হবে তার পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলা এবং দশম বড় আসর।

এ নিয়ে গর্বিত মদ্রিচ বলেন, ‘সংখ্যাগুলো কেমন অবিশ্বাস্য শোনায়! আশা করি, আমার স্বাস্থ্য ঠিকঠাক থাকবে এবং আমি সেখানে (বিশ্বকাপে) যেতে পারব। ১০ সংখ্যাটি আমার জন্য বিশেষ কিছু। আশা করি, আমরা ভালো ফল করতে পারব।’

মদ্রিচের সামনে আরেক হাতছানি। তিনি ক্রোয়েশিয়ার হয়ে ১৫০ ম্যাচ খেলা প্রথম ফুটবলার। বর্তমানে তার ম্যাচ খেলার সংখ্যা ১৯৩। ২০০ ম্যাচ হয়ে যেতে পারে সামনে।

মদ্রিচ বলছিলেন, ‘সংখ্যায় বুঁদ থাকি না আমি। তবে হ্যাঁ, ২০০ ম্যাচ খেলতে পারা হবে দারুণ। এমন কিছু জানতে পেরে ভালো লাগছে এবং জাতীয় দলের হয়ে যা কিছু অর্জন করেছি, সবকিছুতে গর্বিত আমি।’

২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া রানার্সআপ হয়েছিল। গেল বিশ্বকাপে তারা হয় তৃতীয়। এবার আরেকটি বিশ্বকাপ নিশ্চিত হলো।

এই যাত্রাও ক্রোয়াট তারকার জন্য বিশেষ কিছু, ‘এই অনুভূতি অসাধারণ। বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া কোনো ছোট অর্জন নয়। গত দুটি বিশ্বকাপে আমরা ভালো করেছি বলে হয়তো অনেক সময় ভুলে যাই এটা। তবে বিশ্বকাপ খেলতে পারাও সাধারণ কিছু নয়। আরেকটি বড় সাফল্য পেয়ে আমরা খুশি ও গর্বিত হতে পারি।’