আলোচনা-সমালোচনার ঝড় চলছে ‘চড়কাণ্ড’ নিয়ে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এ ধরনের কাণ্ড আর কেউ যে ঘটাননি! ইদ্রিসা গেয়ি অবশ্য ক্ষমা চেয়েছেন।
সবচেয়ে বড় কথা, তিনি পাশে পাচ্ছেন দলের কোচ ডেভিড ময়েসকে। কোচ তো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চড় মারা খারাপ কিছু না, বরঞ্চ প্রয়োজনে এমন কিছু হতেই পারে।
সোমবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে মুখোমুখি হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও এভারটন। ম্যাচের ত্রয়োদশ মিনিটে ঘটে সেই ঘটনা।
এভারটনের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ইদ্রিসা গেয়ির সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয় মাইকেল কিনের। ঠিকমতো ক্লিয়ার করা যায়নি বল। ফাঁকায় বল পেয়ে যান ইউনাইটেডের ব্রুনো ফার্নান্দেজ। ফলে হতে পারতো বিপদ।
এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন গেয়ি। তিনি তেড়ে যান কিনের দিকে। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন কিন। এতে আরও রেগে যান গেয়ি, বসিয়ে দেন চড়। পরে গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড দুজনকে সরিয়ে দেন।
রেফারি সব দেখছিলেন, দেখিয়ে দেন লাল কার্ড। বেরিয়ে যেতে হয় গেয়িকে।
১০ জনের দল নিয়েও পরে দারুণ এক জয় পেয়েছে এভারটন। কিয়েরনান ড্রুজবেরি ও হলের গোলে ইউনাইটেডের মাঠে ১২ বছর পর জয় পেল দলটি।
ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চান ইদ্রিসা গেয়ি। ৩৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে বার্তা দেন, “প্রথমে আমি ক্ষমা চাই আমার সতীর্থ মাইকেল কিনের কাছে। আমার আচরণের সবটুকু দায় কেবল আমার। এছাড়াও ক্ষমা চাই আর সব সতীর্থ, স্টাফ, সমর্থকদের কাছে এবং ক্লাবের কাছে।”
“আজকে যা ঘটেছে, সেটি আমাকে বা আমার মূল্যবোধকে ফুটিয়ে তুলছে না। ওই সময়ে প্রবল আবেগের বশে হয়ে গেছে, তবে কোনোভাবেই তা আমার আচরণকে যৌক্তিক করে তোলে না। দায় পুরোপুরি আমার এবং নিশ্চিত করবো, আর কখনও যেন এমন না হয়।”
পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হয়েছে এভারটন কোচ ডেভিড ময়েসকে। তিনি গেয়ির পাশেই দাঁড়াচ্ছেন, “আমাকে বলা হয়েছে যে, নিজ দলের ফুটবলারকে চড় মারলে বা গায়ে হাত তুললে বিপদে পড়তে হবে, আইনেই এটা আছে। তবে সবকিছুরই তো অন্য দিকও আছে।”
“মাঠে কেউ বল ঠিকঠাক দিতে না পারলে বা সঠিক কাজটি করতে না পারলে নিজেদের মধ্যে লড়াই বা বিরক্ত হওয়ার ব্যাপারটি পছন্দই করি আমি। জয়ী একটি দল গড়ে তুলতে হলে, যে কঠোরতা ও দৃঢ়তা আমাদেরকে ফলাফল এনে দিয়েছে.… আমার মনে হয় এমন ফুটবলার আমাদের প্রয়োজন, যারা এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়।”
অভিজ্ঞ এই কোচ রেফারিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন, “ফুটবলে এসব হয়েই থাকে। আমার মনে হয়, রেফারি আরেকটু সময় নিতে পারতেন এবং ভাবতে পারতেন। হয়তো সেখানে গিয়ে মিটমাট করে দিতে পারতেন।”

