দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনাল। স্বাভাবিকভাবেই প্রচণ্ড চাপ। এর মধ্যে মানসিক যন্ত্রণা। কিন্তু সেই যন্ত্রণা আড়ালে রেখে দুর্দান্ত এক গোল করলেন দানিলো। সেই গোলেই চ্যাম্পিয়ন ফ্ল্যামেঙ্গো।
প্রথম ব্রাজিলিয়ান ক্লাব হিসেবে চতুর্থবারের মতো কোপা লিবার্তাদোরেস শিরোপা জিতেছে ফ্ল্যামেঙ্গো। ফাইনালে তারা আরেক ব্রাজিলিয়ান ক্লাব পালমেইরাসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে।
পেরুর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে হয় ফাইনাল। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে শিরোপা নির্ধারণী গোলটি করেন দানিলো।
ফাইনালের ঠিক আগের দিন নিজের আন্টিকে হারান এই ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক। এই শোককে যেন শক্তিতে পরিণত করে মাঠে নেমেছিলেন তিনি।
কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত এক হেড নেন দানিলো, একেবারে মাপা হেড খোঁজে নেয় প্রতিপক্ষের জাল। উল্লাসে ভেসে যায় ফ্ল্যামেঙ্গো শিবির।
শুধু গোল করাই নয়, প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণও থামিয়েছেন দানিলো। ম্যাচের শেষদিকে পালমেইরাসের ভিতর রকি গোলমুখে জোরালো শট নেন। সে শট থামিয়ে নিজেদের জাল অক্ষত রাখেন দানিলো।
ফাইনাল শেষে দানিলো বলেন, “সবাই জানে আমি ফ্ল্যামেঙ্গোর সমর্থক এবং আমি (ইউরোপ থেকে) ফিরে এসে এই ক্লাবের হয়ে খেলতে কতটা মুখিয়ে ছিলাম। এই জয়টা বিশেষ। আমার আন্টি গতকাল মারা গেছেন। আমার বাবাকে (পেরু থেকে) সেখানে ফিরে যেতে হয়েছে। তিনিও ফ্ল্যামেঙ্গো সমর্থক। আমি এই জয়টা তাকে এবং আমার পুরো পরিবারকে উৎসর্গ করতে চাই।”
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিলেন দানিলো। ছিলেন জুভেন্টাসের রাইটব্যাকও।
সেই দানিলো বলছেন, “আমি কখনো ভাবিনি যে এমন বড় কোনো ফাইনালে খেলব। যদিও আমি সব সময়ই অনেক দূর যাওয়ার কথা কল্পনা করতাম। ড্রেসিংরুমে আমি বলেছিলাম, আমাদের সবারই এমন কিছু ত্যাগ আছে, যা কেউ দেখে না। আমি সবাইকে বলেছি নিজেদের ত্যাগটা মনে রাখতে।”
এ নিয়ে দ্বিতীয়বার কোপা লিবার্তাদোরেস শিরোপা জিতলেন দানিলো। প্রথমবার সান্তোসের হয়ে ২০১১ সালে এই শিরোপা জিতেছিলেন। সেই ফাইনাল ছিল পেনারোলের বিপক্ষে। সেই ফাইনাল সান্তোস জিতেছিল কাদের গোলে জানেন? নেইমার ও দানিলোর!
মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক কোপা লিবার্তাদোরেস টানা সাত আসর ধরে ব্রাজিলের দখলে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে আর্জেন্টিনার রিভার প্লেট এই শিরোপা জিতেছিল।

