Australia Wins Ahses 2025-26ইংল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করে অস্ট্রেলিয়ার উল্লাস। ছবি: এএফপি

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) শেষটা রূপকথার মতো হলো না উসমান খাজার জন্য। তবে অ্যাশেজ সিরিজে শেষ হাসিটা ঠিকই হেসেছে অস্ট্রেলিয়া। ১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাঝেমধ্যে হোঁচট খেলেও পাঁচ উইকেটে জিতে সিরিজ শেষ করল ৪–১ ব্যবধানে।

শেষ দিনের ম্যাচে নাটকীয়তা ছিল ভরপুর। পুরো সিরিজে প্রত্যাশা অনুযায়ী উত্তেজনা না থাকলেও এই টেস্টটাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে জমজমাট। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ৫৯ রানের মধ্যে হারায় পাঁচ উইকেট। তবে চাপে থাকা ক্যামেরন গ্রিন ও সিরিজজুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করা অ্যালেক্স কেয়ারির ৪০ রানের জুটিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

চতুর্থ দিনের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ছিল ৬২ রানে বিনা উইকেটে। মনে হচ্ছিল, জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু দ্রুত তিন উইকেট তুলে নিয়ে হঠাৎই ম্যাচে ফেরার আভাস দেয় ইংল্যান্ড।

নিজের ৮৮তম ও শেষ টেস্টে পঞ্চম দিনের মধ্যাহ্নভোজের পর ব্যাটিংয়ে নামেন উসমান খাজা। তখন অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ৬৮ রান, উইকেট ছিল হাতে সাতটি। মাঠে নামার সময় সতীর্থ মার্নাস লাবুশানের আলিঙ্গন, ইংল্যান্ড দলের গার্ড অব অনার—সব মিলিয়ে আবেগঘন মুহূর্ত। কিন্তু সেই আবেগ মাঠে গড়াল না। মাত্র ৭ বল খেলে ৬ রান করে জশ টাংয়ের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন খাজা।

বিদায়ী টেস্টে শেষ ইনিংস খেলার পর স্রষ্টার উদ্দেশ্যে উসমান খাজার সেজদা। ছবি: গেটি ইমেজেস

টাং ১১ ওভারে ৪২ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। ইংল্যান্ডের এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই শেষ হয় এক হতাশাজনক সফর।

এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের বড় ধাক্কা ছিল অধিনায়ক বেন স্টোকসের চোট। ডান উরুর অ্যাডাক্টর ইনজুরির কারণে তিনি বলই করতে পারেননি, যা শেষ দিকে তাদের বোলিংয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরু থেকেই ছিল বিশৃঙ্খলা। প্রথম সাত বলেই তিনটি এলবিডব্লিউ আবেদন। ম্যাথিউ পটসের প্রথম ইনিংসের দুঃস্বপ্নের বোলিংয়ের (০/১৪১) পর নতুন বলে দায়িত্ব পান ব্রাইডন কার্স ও টাং।

ট্রাভিস হেড শুরুতে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও দ্রুতই আগের ছন্দে ফেরেন। যদিও ২৯ রানে টাংয়ের বলে মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। সিরিজে ওপেনিংয়ে উঠে হেড শেষ করেন ৬২৯ রান নিয়ে, গড় ৬২.৯০—অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অ্যাশেজ সিরিজে নবম সর্বোচ্চ রান।

জেক ওয়েদারাল্ডের ইনিংস ঘিরেও বিতর্ক কম হয়নি। ১৬ রানে তাঁর বিপক্ষে নেওয়া রিভিউয়ে স্নিকোতে ক্ষুদ্র স্পাইক দেখা গেলেও থার্ড আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা সিদ্ধান্ত বদলাননি। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় কার্স ও ওয়েদারাল্ডের মধ্যে। তবে শেষ পর্যন্ত টাংয়ের বলেই ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওয়েদারাল্ড।

পিচের আচরণও শেষদিকে বদলাতে শুরু করে। টার্ন পাওয়া বলেই স্টিভেন স্মিথ উইল জ্যাকসের বলে বোল্ড হন। এরপর খাজার সংক্ষিপ্ত ইনিংস।

ম্যাচে আবার উত্তেজনা ছড়ায় যখন লাবুশানে ৩৮ রানে কেয়ারির সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন। তখনো জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ৩৯ রান। প্রবল চাপে নামেন ক্যামেরন গ্রিন, তবে ধৈর্য ধরে খেলেন। শেষ পর্যন্ত কেয়ারির বাউন্ডারিতেই নিশ্চিত হয় জয়।

এর আগে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে আলো ছড়ান জ্যাকব বেথেল। ১৪২ রানে অপরাজিত থেকে দিন শুরু করে ১৫০ স্পর্শ করেন তিনি। ১৫১ রানে স্কট বোল্যান্ডের এলবিডব্লিউ আবেদন থেকে ডিআরএসে বেঁচে যান। তবে শেষ পর্যন্ত মিচেল স্টার্কের বলে কাটা শটে এজ হয়ে ফেরেন বেথেল।

এই সিরিজে স্টার্কের উইকেট সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০-এ—২০১৩–১৪ অ্যাশেজে মিচেল জনসনের ৩৭ উইকেটের পর অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ।

১৮ দিনের এই অ্যাশেজ শেষ হয়েছে ত্রুটিমুক্ত না হলেও অভিজ্ঞতা ও শৃঙ্খলায় ইংল্যান্ডকে ছাড়িয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেলেও ট্রাভিস হেড, অ্যালেক্স কেয়ারি ও মিচেল স্টার্কের পারফরম্যান্সই গড়ে দিয়েছে পার্থক্য।

উসমান খাজার জন্য শেষটা হয়তো স্বপ্নের হয়নি। তবে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ অভিযানের পরিণতি ছিল স্পষ্ট—এই সিরিজ তাদেরই।