ঠিক ১৪ দিন আগের এক রোববারে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বসেছিল পিএসএলের ফাইনাল মঞ্চ। পেশোয়ার জালমিকে নেতৃত্ব দেওয়া বাবর আজমের প্রধান সেরা অস্ত্র ছিলেন বাংলাদেশের গতির ঝড় নাহিদ রানা। শিরোপা নির্ধারণী সেই ম্যাচের পর অ্যারন হার্ডি নাহিদকে প্রশংসায় ভাসাতে গিয়ে এক ফোরকাস্ট করেছিলেন। মুচকি হেসে হার্ডি বলেছিলেন, ‘কয়েক দিন পরেই তো নাহিদের টেস্ট ম্যাচ। আমি নিশ্চিত, বাবর ওর গতি সামলাতে চাইবে না।’ অ্যারন হার্ডির সেই রসিকতা আজ চায়ের শহর সিলেটের ২২ গজে এক নির্মম বাস্তবতায় রূপ নিল।
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে আজ আবারও নাহিদ রানার পাতা ফাঁদে পা দিলেন বাবর আজম। মিডল স্টাম্পে পিচ করা গতিময় ডেলিভারিটি ফ্লিক করার চেষ্টায় টাইমিংয়ের চরম গড়বড়ে মিড-অনে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ তুলে দেন এই পাকিস্তানি ব্যাটার। আর এর মাধ্যমেই সাদা পোশাকের ক্রিকেটে বাবরকে নিজের ‘বানি’ বানিয়ে ছাড়লেন রানা। ৪ ইনিংসে এই নিয়ে তৃতীয়বার নাহিদের শিকারে পরিণত হলেন বাবর।
আউট হওয়ার আগে নাহিদের ১৫টি বল মুখোমুখি হয়ে ১টি চারের সাহায্যে বাবর করতে পেরেছেন মাত্র ৯ রান।
এই নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে চার ইনিংসে মুখোমুখি হয়ে তৃতীয়বারের মতো নাহিদ রানার বলে সাজঘরে ফিরলেন বাবর আজম। পরিসংখ্যান বলছে, সাদা পোশাকে নাহিদ রানা এখন বাবর আজমের জন্য এক দুঃস্বপ্নের নাম।
আরও পড়ুন:
নাহিদ রানা: গতির রুদ্রমূর্তিতে রচিত এক মহাকাব্য
রাওয়ালপিন্ডি থেকে সিলেট: নাহিদের ৩৯ বলের মায়াজাল
বাবর ও নাহিদের এই দ্বৈরথের শুরুটা হয়েছিল ২০২৪ সালে, পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে। সেই ঐতিহাসিক সিরিজে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে শরিফুল ইসলামের বলে শূন্য রানে বাবর আউট হওয়ায় নাহিদের মুখোমুখি হতে হয়নি তাঁকে। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম দেখাতেই বাবরকে পরাস্ত করেন নাহিদ।
এরপর দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেও বাবরকে মাত্র ১১ রানে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান এই টাইগার পেসার। সেই সিরিজে বাবরকে মাত্র ২৪টি বল করার সুযোগ পেয়েছিলেন নাহিদ, তাতেই উইকেট শিকার করেছিলেন দুইবার!
টেস্টে বাবর বনাম নাহিদ রানা
মোট মুখোমুখি: ৪ ইনিংস (৩৯ বল)
বাবরের মোট রান: ২২
ডট বলের সংখ্যা: ২৬টি
বাউন্ডারি: ৩টি
আউট: ৩ বার
হিসাবটা একদম সরল করে নিলে, টেস্ট ক্রিকেটে নাহিদ রানার ৩৯টি বল খেলে বাবর আজম তিন-তিনবার আউট হয়েছেন! এই ৩৯ বলের ২৬টিতেই কোনো রান নিতে পারেননি বাবর। বাকি ১৩ বল থেকে ৩টি চারের সাহায্যে রান তুলতে পেরেছেন মোটে ২২।
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংস এখনও বাকি। ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে এখন একটাই কৌতুহল—পরের ইনিংসে নাহিদ রানা যখন গতির ঝড় তুলবেন, বাবর আজম কি আসলেই তাঁর বল আর খেলতে চাইবেন?
আরও পড়ুন:
‘সুইচ অন’ মোডে বাংলাদেশ, বাবর ফিরলেও লক্ষ্য ‘বাংলাওয়াশ’

