বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের হেড কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া এখন তুঙ্গে। হামজা চৌধুরী ও জামাল ভূঁইয়াদের জন্য যোগ্য কোচ খুঁজে পেতে গঠিত বিশেষ কমিটি বুধবার তাদের প্রথম সভায় বসেছিল। বাফুফে ভবনে আয়োজিত এই সভায় ২৭০ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ১০০ জনের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। ফলে কোচ হওয়ার দৌড়ে এখন টিকে রয়েছেন ১৭০ জন প্রার্থী। তবে তালিকায় হাভিয়ের কাবরেরার নাম নেই।
বাছাই প্রক্রিয়া
বাফুফে এবার জাতীয় দলের কোচ নিয়োগে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। সেখানে অভাবনীয় সাড়া মিলেছে। বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান ও কোচ সংক্ষিপ্ত তালিকাকরণ কমিটির সদস্য কামরুল ইসলাম হিলটন গণমাধ্যমকে জানান, “আমরা প্রথম দিনে ১০০ জনের নাম বাদ দিয়েছি। আমরা আবারও বসব।”
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো ২০-৩০ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা জাতীয় দল কমিটির কাছে জমা দেওয়া। এরপর তারা সেখান থেকে সাক্ষাৎকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।”
কোচ নির্বাচনে বাফুফের মানদণ্ড
জাতীয় দলের কোচ হওয়ার ক্ষেত্রে বাফুফে এবার বেশ কিছু কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক জাতীয় অধিনায়ক ছাইদ হাসান কানন জানান, কোচদের প্রোফাইল মূল্যায়নের ক্ষেত্রে চারটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই চারটি বিষয় হচ্ছে:
১. উয়েফা প্রো লাইসেন্সধারী হতে হবে।
২. জাতীয় দলে কোচিং করানোর পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
৩. এশীয় ফুটবলে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও সাফল্যকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
৪. প্রার্থীর বয়স হতে হবে ৪০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
আরও পড়ুন: হামজা-শামিতদের কোচ হতে ২০০ আবেদন! বাছাইয়ে বাফুফের কমিটি
কানন আরও উল্লেখ করেন, আবেদনকারীদের মধ্যে ইউরোপীয় এবং আর্জেন্টাইন কোচদের বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাফুফে। আধুনিক ফুটবলের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে এমন কাউকেই ডাগআউটে চায় ফেডারেশন।
কাবরেরা ও দেশি কোচদের নিয়ে গুঞ্জন
বিগত চার বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ দলের ডাগআউট সামলানো হাভিয়ের কাবরেরাকে নিয়ে ফুটবলাঙ্গনে জোর গুঞ্জন ছিল। শোনা গিয়েছিল তিনি আবারও আবেদন করেছেন।
তবে সভায় থাকা কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, আবেদনকারীদের সিভিতে কাবরেরার কোনো নাম পাওয়া যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, তিনি আবেদন করলে তাঁকেও অন্যদের মতো ইন্টারভিউ দিয়ে আসতে হতো।
অন্যদিকে, দেশি কোচদের মধ্যে সাবেক জাতীয় ফুটবলার জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুর আবেদন পাওয়া গেছে। তবে অভিজ্ঞ কোচ মারুফুল হককে নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন পায়নি বিশেষ কমিটি।
আরও পড়ুন: হামজা-সুলিভানদের উত্তরসূরি খুঁজতে বাফুফের ‘গ্লোবাল’ মিশন!
এবং…
বাফুফের এই স্বচ্ছ এবং উন্মুক্ত বাছাই প্রক্রিয়া দেশের ফুটবলে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে হামজা চৌধুরীর মতো প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তির পর জাতীয় দলের হাই প্রোফাইল কোচ নিয়োগ করা এখন সময়ের দাবি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে, যা থেকে নির্ধারিত হবে কে হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ফুটবলের পরবর্তী কান্ডারি।

