বাংলাদেশের তারকা হামজা, রোনান ও ডেকলান।হামজার পথ ধরে বাংলাদেশের ফুটবলে রোনান ও ডেকলান সুলিভান। ছবি কোলাজ: ক্রিকফুট

জামাল ভূঁইয়াকে দিয়ে শুরু হওয়া প্রবাসী ফুটবলারদের সেই পথচলা এখন এক নতুন উচ্চতায়। হামজা চৌধুরী কিংবা শমিত সোমের লাল-সবুজ জার্সি গায়ের স্বপ্ন দেখার প্রেক্ষাপটে এবার আরও পেশাদার হওয়ার পথে হাঁটছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বিদেশের মাটিতে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিভাদের খুঁজে বের করতে এবার বিশেষ ‘আন্তর্জাতিক স্কাউটিং টিম’ গঠনের মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাফুফে।

কেন এই বিশেষ স্কাউটিং টিম?

এর আগে বিভিন্ন সময়ে প্রবাসীরা নিজ উদ্যোগে ট্রায়াল দিতে আসলেও, তাদের বেশির ভাগই ছিলেন পাড়া-মহল্লার ফুটবলার। ফলে অনেক টাকা খরচ করে বাংলাদেশে এলেও তাদের মান জাতীয় দলের উপযোগী ছিল না। সম্প্রতি সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী দুই ভাই—রোনান ও ডেকলান সুলিভানের নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর বাফুফে বুঝতে পেরেছে, সঠিক উপায়ে স্কাউটিং করলে প্রকৃত রত্ন পাওয়া সম্ভব।

তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটি তাই পাইপলাইন শক্তিশালী করতে ক্যাবরেরার সেই পুরনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোমর বেঁধে নেমেছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের পাইপলাইনে আরও ৬ প্রবাসী ফুটবলার!

জোনভিত্তিক নিয়োগ ও পেশাদারিত্ব

বাফুফে মূলত তিনটি প্রধান অঞ্চলকে লক্ষ্য করে এই স্কাউটিং টিম সাজাবে:
১. ইংল্যান্ড (ইউকে)
২. যুক্তরাষ্ট্র (আমেরিকা)
৩. স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চল (সুইডেন ও ডেনমার্ক)

বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমের মতে, এই স্কাউটিং টিমের সদস্যরা হবেন পেশাদার কোচ বা একাডেমি বিশেষজ্ঞ। তাদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হবে এবং তারা বাফুফের দেশি কোচদের চাহিদা অনুযায়ী ফুটবলারদের মান যাচাই করবেন।

কারা পাবেন সুযোগ?

এখন আর ‘ইচ্ছে হলো আর ট্রায়াল দিতে চলে এলাম’—এমন সুযোগ থাকছে না। বাফুফে নির্দিষ্ট করে দেবে যে, ইংল্যান্ড বা আমেরিকায় যারা অন্তত একটি নির্দিষ্ট ‘লেভেল’ বা টায়ারে খেলছেন, কেবল তারাই রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। উচ্চমানের পেশাদার লিগ বা একাডেমিতে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেই কেবল তাদের নিয়ে ঢাকায় চূড়ান্ত প্রোগ্রাম করা হবে।

আরও পড়ুন: তাবিথ আউয়াল যুগে ফুটবল কোন পথে!

বাফুফের ‘ডে-লং’ প্রোগ্রাম

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই স্কাউটিং টিম বিদেশে বসে প্রাথমিক বাছাই সারবে। এরপর নির্বাচিত খেলোয়াড়দের নিয়ে ঢাকায় একটি বিশেষ ক্যাম্প করা হবে, যেখানে টেকনিক্যাল কোচরা সরাসরি তাদের পরখ করে দেখবেন। এতে করে সময় ও অর্থ—উভয়ই সাশ্রয় হবে এবং সত্যিকারের মানসম্পন্ন ফুটবলার খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।

বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের স্পষ্ট বার্তা, পৃথিবীর যে প্রান্তেই বাংলাদেশের রক্ত আর ফুটবলের প্রতিভা মিশে আছে, সেখানেই পৌঁছে যাবে বাফুফের স্কাউটিং নজর।

হামজা চৌধুরীর আগমনে দেশের ফুটবলে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, এই প্রজেক্ট সফল হলে তা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ফুটবল সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস।