নতুন বছরের শুরুতেই বাংলাদেশের ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হামজা চৌধুরী। তাঁকে ঘিরেই ফুটবলপ্রেমীদের স্বপ্নের নতুন করে রূপ নিতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালটা ছিল দেশের ফুটবলের জন্য পরিবর্তনের বছর। ইউরোপিয়ান লিগে খেলা একজন ফুটবলারের সরাসরি সম্পৃক্ততা দেশের ফুটবল নিয়ে মানুষের ভাবনায় বড় বদল এনে দিয়েছে।
লেস্টার সিটির তারকা হামজার নাম উচ্চারিত হতেই দীর্ঘদিন পর আবারও জাতীয় দল ঘিরে আগ্রহ বেড়েছে। মাঠের বাইরেও ফুটবল নিয়ে আলোচনা ফিরে এসেছে। দর্শক, সমর্থক ও বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে জাতীয় ফুটবল নতুন করে জায়গা করে নিয়েছে।
হামজার দেখাদেখি প্রবাসে বেড়ে ওঠা আরও কয়েকজন তরুণ ফুটবলারকে নিয়ে আশার পরিসর বড় হয়। শামিত সোম, ফাহামিদুল ইসলাম, কিউবা মিচেল ও জায়ান আহমেদদের অন্তর্ভুক্তিতে জাতীয় দল নিয়ে প্রত্যাশা বেড়েছিল গত বছর। তবে সেই প্রত্যাশার পুরোটা পূরণ করা যায়নি।
সেরা সুযোগ পেয়েও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের মূল পর্বে জায়গা করতে পারেনি বাংলাদেশ। হতাশার সেই অধ্যায় সত্ত্বেও বছর শেষ হয়েছিল একটি বড় প্রাপ্তি দিয়ে। ঘরের মাঠে ভারতকে হারানোর জয় বাংলাদেশের ফুটবলে দীর্ঘদিন পর আত্মবিশ্বাসের রসদ জুগিয়েছে।
২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে পাওয়া সেই জয় নতুন বছরে হামজাদের ঘিরে আশার আলো আরও উজ্জ্বল করেছে। বড় ম্যাচ জয়ের বিশ্বাস যে ফিরছে, সেটিই সবচেয়ে ইতিবাচক দিক।
আরও পড়ুন:
পিচ ও আউটফিল্ডে পিছিয়ে বাংলাদেশ, আইসিসির রেটিংয়ে উদ্বেগ
এ বছর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ফুটবল আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ২০০৩ সালে শিরোপা জয়ের পর এই টুর্নামেন্টটি বাংলাদেশের জন্য কেবল অপেক্ষা আর আক্ষেপের নাম। নতুন বছরে সেই অতীত বদলানোর চ্যালেঞ্জই সামনে হামজাদের।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সূচি ও ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে সেপ্টেম্বরে পুরোনো ফরম্যাটে টুর্নামেন্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অর্থাৎ একটি শহরেই হবে পুরো আসর।
হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে সাত দেশের ভেন্যুতে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল সাফের। কমার্শিয়াল রাইটসধারী প্রতিষ্ঠানের আগ্রহেই সেই ভাবনা সামনে এসেছিল। আপাতত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসে আগের কাঠামোতেই টুর্নামেন্ট আয়োজনের দিকেই ঝুঁকছে ফেডারেশন।
ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হলে সেটি হবে বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ। নিজ মাঠে খেললে হামজার দল দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হওয়ার লড়াইয়ে বাড়তি অনুপ্রেরণা পাবে।
তার আগে অবশ্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আছে সামনে। মার্চে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সেই ম্যাচে জয় দিয়ে সাফের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চাইবে লাল-সবুজের দল।
নতুন বছরে তাই প্রত্যাশা একটাই—স্বপ্ন যেন কেবল আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থাকে, মাঠের পারফরম্যান্সেও তার প্রতিফলন দেখা যায়।

