বিসিবিতে বর্তমানে এক নজিরবিহীন নাটকীয় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একদিকে হাইকোর্টে বর্তমান অ্যাডহক কমিটির বৈধতা নিয়ে রিট, অন্যদিকে আইসিসির দরবারে সাবেক কমিটির ধরনা—সব মিলিয়ে দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। তবে এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকালই হাইকোর্টে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী।
ঠিক এই আইনি জটিলতার মধ্যেই খবর এসেছে, সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পর্ষদ আগামী ৪ মে সোমবার আইসিসির সাথে একটি ভার্চুয়াল সভায় বসতে যাচ্ছে।
আইসিসির টেবিলে ‘বৈধতা’ লড়াই
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এনএসসির গঠিত অ্যাডহক কমিটিকে ‘অবৈধ’ দাবি করে আইসিসির হস্তক্ষেপ চেয়েছে সাবেক বোর্ড। কয়েক দফা প্রচেষ্টার পর আগামী সোমবার জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে আইসিসি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবেন বুলবুলরা। তবে বৈঠক নিয়ে কোনো পক্ষ থেকেই বিস্তারিত কিছুই জানানো হয়নি।
আইসিসি সাধারণত কোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ পছন্দ করে না; তাই এই সভার পর আইসিসি বাংলাদেশের বর্তমান কমিটিকে স্বীকৃতি দেবে কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: বুলবুলের দাবি তিনি ‘বৈধ’, তামিমের কমিটি ‘অবৈধ’: লড়াই তবে আদালতে!
আদালতে রিট ও তামিমের অবস্থান
গতকাল তামিম যখন মিরপুরে সংবাদ সম্মেলন করছিলেন, ঠিক তার আগেই আইনজীবীরা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই অ্যাডহক কমিটির কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করেন। আইনজীবীদের দাবি, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই নির্বাচিত পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
তবে মাঠের বাইরের এই অস্থিরতার মধ্যেও তামিম ইকবাল তাঁর পরিকল্পনায় অটল। নির্বাচনের দিনক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আগামী ৩ মে বোর্ড মিটিং করে আমরা নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করব। সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হয়, যা আমাদের নির্ধারিত মেয়াদের অন্তত ২-৩ সপ্তাহ আগেই সম্ভব হবে।”
নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তামিম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি গঠনতন্ত্র মেনেই এগোতে চান।
ক্রীড়াঙ্গনে উৎকণ্ঠা
আইনি টানাপোড়েন আর আইসিসির সভার দিনক্ষণ—সব মিলিয়ে আগামী সপ্তাহটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোমবারের আইসিসি সভায় যদি সাবেক বোর্ড নমনীয় কোনো সংকেত পায় অথবা হাইকোর্ট যদি অ্যাডহক কমিটির ওপর স্থগিতাদেশ দেয়, তবে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটি বড় ধরনের সংকটে পড়বে।
আরও পড়ুন: তামিমের বিসিবির ‘ভাগ্যে’ কী আছে, জানা যাবে আগামী সপ্তাহে

