দীর্ঘ ২৩ বছরের সম্পর্ক চুকিয়ে চলতি মৌসুম শেষে রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ক্লাবটির অধিনায়ক দানি কারভাহাল। রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের ছেলে খ্যাত ৩৪ বছর বয়সী এই রাইট-ব্যাকের চুক্তির মেয়াদ আগামী জুনে শেষ হতে যাচ্ছে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটির হয়ে দুই মেয়াদে মোট ৪৫০টি ম্যাচ খেলা এই ডিফেন্ডারকে বর্তমান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আগামী ২৩ মে অ্যাথলেটিক ক্লাবের বিপক্ষে মৌসুমের শেষ ম্যাচে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এই কিংবদন্তিকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানাবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
অ্যাকাডেমি থেকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর কিংবদন্তি
২০০২ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে রিয়াল মাদ্রিদের যুব অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন কারভাহাল। মাঝে একটি মৌসুম বায়ার লেভারকুসেনে কাটানোর পর ২০১৩ সালে রিয়ালের মূল দলে তার অভিষেক হয়। এরপর থেকে ক্লাবের রক্ষণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে ওঠেন তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কারভাহাল মোট ২৭টি শিরোপা জিতেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ৪টি লা লিগা ও ৬টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি।
ফুটবল ইতিহাসের মাত্র পাঁচজন খেলোয়াড়ের একজন হিসেবে ছয়টি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার কীর্তি আছে তার। তবে কারভাহালই একমাত্র ফুটবলার, যিনি এই ছয়টি ফাইনালের প্রতিটিতেই শুরুর একাদশে মাঠে ছিলেন। ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে প্রথম গোলটি করে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন:
রিয়াল মাদ্রিদে এমবাপ্পের বিদায়ের সুর: গলার কাঁটা ৪০০ মিলিয়ন!
ইনজুরি ও দলবদল নাটকে শেষ অধ্যায়
ক্যারিয়ারের সোনালী সময় পার করার পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকবার বড় ইনজুরিতে পড়েন কারভাহাল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পর গত বছরও হাঁটর চোটে পড়েন তিনি।
পাশাপাশি গত গ্রীষ্মকালীন দলবদলে লিভারপুল থেকে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড রিয়ালে যোগ দিলে দলে কারভাহালের খেলার সুযোগ কমে আসে।
নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে আর্নল্ডই রাইট-ব্যাক পজিশনে প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠেন। ফলে চলতি লা লিগায় কারভাহাল মাত্র ৮৯২ মিনিট মাঠে থাকার সুযোগ পেয়েছেন।
টানা দ্বিতীয় মৌসুম কোনো বড় শিরোপা না পাওয়া রিয়াল মাদ্রিদের জন্য কারভাহালের বিদায় একটি সফল যুগের অবসান ঘটাচ্ছে।
বিদায় বেলায় ক্লাব সভাপতির শ্রদ্ধা
কারভাহালের বিদায়ের বিষয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ বলেন, “দানি কারভাহাল রিয়াল মাদ্রিদ এবং আমাদের অ্যাকাডেমির একটি প্রতীক ও জীবন্ত কিংবদন্তি। সে মাঠ ও মাঠের বাইরে সবসময় রিয়ালের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের পরিচয় দিয়েছে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যু সবসময় তারই ঘর হয়ে থাকবে।”
আরও পড়ুন:
রিয়াল মাদ্রিদে চুয়ামেনির দুঃসহ স্মৃতি, পাশে দাঁড়ালেন ভিনিসিয়ুসের

