গত নভেম্বরের বিসিবি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রিকেটে যে অস্থিরতার শুরু, তার বিষফোড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল)। ৪৫টি ক্লাবের বয়কট এবং বিসিবির অনড় অবস্থানের কারণে মে মাসের আগে লিগ শুরু হওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে এবারের ডিপিএল মাঠে না গড়ানোর আশঙ্কাই বেশি।
কোর্টের অপেক্ষায় ক্লাবগুলো
সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বয়কট করা ক্লাবগুলো এখনো তাদের সিদ্ধান্তে অনড়। মোহামেডান ক্লাবের ক্রীড়া সংগঠক মাসুদুজ্জামান জানিয়েছেন, তারা এখন আইনি প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় আছেন।
তিনি বলেন, “আমরা কোর্টের সঠিক নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাথেও কথা বলার চেষ্টা চলছে। সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো লিগে অংশ নেব না।”
সিসিডিএম-এর অসহায়ত্ব
প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ লিগ বিদ্রোহী ক্লাবগুলোকে ছাড়াই শেষ করলেও প্রিমিয়ার লিগের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয় বলে মনে করছে সিসিডিএম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র বলে, “সব দলকে নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ হওয়া উচিত, নাহলে দরকার নেই। সভাপতি (বিসিবি) বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় আছেন, তাঁর পক্ষ থেকে লিগ শুরুর কোনো নির্দেশনা আমরা এখনো পাইনি।”
বিপাকে ক্রিকেটার ও কোয়াব
ঢাকা লিগের ওপর প্রায় ২০০ ক্রিকেটার এবং অর্ধশত কোচিং স্টাফের জীবিকা নির্ভরশীল। ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব-এর সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, “ক্রিকেটাররা খেলতে চায়, কিন্তু ক্লাবগুলো এই বোর্ডের অধীনে খেলবে না। মে মাসের পর আর লিগ করার সুযোগ থাকবে না। এখন টাকা-পয়সা বড় কথা নয়, খেলা হওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
বর্তমানে বিসিবি সভাপতি দেশের বাইরে থাকায় এবং ক্লাবগুলোর অনড় অবস্থানে প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনের কোনো দৃশ্যমান প্রস্তুতি চোখে পড়ছে না। ফলে মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে এখন পর্দার পেছনের রাজনীতিই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার বলি হচ্ছেন সাধারণ ক্রিকেটাররা।

