টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এর ফাইনালে মুখোমুখি ভারত ও নিউজিল্যান্ড।টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এর ফাইনালে মুখোমুখি ভারত ও নিউজিল্যান্ড।

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুটা মন্থর হলেও ভারত এখন পূর্ণ ফর্মে। শেষ তিন ম্যাচের দুটিতেই তারা টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সর্বোচ্চ চার স্কোরের দুটি গড়েছে। ভারতের এই ব্যাটিং লাইনআপকে যদি ‘স্টার ওয়ার্স’ সিনেমার সেই গ্রহ ধ্বংসকারী ‘ডেথ স্টার’ বলা হয়, তবে নিউজিল্যান্ড হলো সেই বিদ্রোহী দল যারা এই দানবীয় শক্তির দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছে। আর সেই দুর্বলতার নাম—অফস্পিন!

ভারতের বাঁহাতি ব্যাটিং বনাম অফস্পিন ফাঁদ

ভারতের ব্যাটিং অর্ডারের উপরের দিকে থাকা আট ব্যাটারের মধ্যে পাঁচজনই বাঁহাতি (অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষাণ, তিলক ভার্মা প্রমুখ)। ক্রিকেটীয় ব্যাকরণ বলে, অফস্পিনাররা বাঁহাতিদের জন্য যম। পরিসংখ্যানও বলছে সেই কথা।

চলতি বিশ্বকাপে অফস্পিনের বিপক্ষে ভারতের চেয়ে বেশি উইকেট (১৫টি) আর কোনো দল হারায়নি। অফস্পিনের বিপক্ষে তাদের গড় মাত্র ১৫.৮৭ এবং স্ট্রাইক রেট ১২০.২০—যা সুপার এইটে ওঠা দলগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।

ইওক বাহিনীর নায়ক: কোল ম্যাককনকি

‘স্টার ওয়ার্স’ সিনেমাটিতে বিশাল সাম্রাজ্য ধ্বংসে ছোট ছোট লোমশ প্রাণী ‘ইওক’রা যেমন সাহায্য করেছিল, নিউজিল্যান্ডের জন্য সেই ‘ইওক’ হতে পারেন ৩৪ বছর বয়সী কোল ম্যাককনকি। ইনজুরি রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে আসা এই অফস্পিনিং অলরাউন্ডার সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই বাঁহাতি কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকেলটনকে এক ওভারেই সাজঘরে পাঠিয়ে নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন।

গ্লেন ফিলিপসকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাককনকিই হতে পারেন ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং হৃদপিণ্ডে আঘাত হানার মূল কারিগর।

তারকাদের ব্যর্থতার খতিয়ান

চলতি বিশ্বকাপে ভারতের ব্যাটিংয়ের ভবিষ্যৎ বলা হওয়া অভিষেক শর্মা অফস্পিনের সামনে খেই হারিয়ে ফেলেছেন। তাঁর গড় মাত্র ৯.৬৭! সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকসের বলে আউট হওয়া সেই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি মাত্র। এমনকি মারকুটে সূর্যকুমার যাদবও অফস্পিনের বিপক্ষে থমকে গেছেন, যেখানে তাঁর স্ট্রাইক রেট নেমে এসেছে ১১৪.৭১-এ। তিলক ভার্মা এবং ঈশান কিষাণও এই ঘূর্ণি জাদুতে কাবু হয়েছেন বারবার।

আহমেদাবাদে ডেভিড বনাম গোলিয়াথ

আহমেদাবাদের বিশাল গ্যালারিতে যখন ভারত নামক ‘গোলিয়াথ’কে রুখতে নিউজিল্যান্ডের ‘ডেভিড’রা মাঠে নামবে, তখন মিচেল স্যান্টনারের ‘জেডাই’ মানসিকতা কিংবা ম্যাট হেনরির বন্দুকবাজি হয়তো কাজে দেবে। তবে আসল পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন কোল ম্যাককনকির মতো অফস্পিনাররা।

ইতিহাস সাক্ষী, নিউজিল্যান্ড সবসময়ই বড় মঞ্চে ভারতকে চমকে দিতে জানে। এবার কি তবে অফস্পিনের সেই ‘পুরনো কিন্তু কার্যকর’ অস্ত্র দিয়েই ভারতের ১ লাখ দর্শকের গগনবিদারী চিৎকার থামিয়ে দেবে কিউইরা? রবিবার রাতে আহমেদাবাদের আকাশ কার উৎসবে রাঙাবে, তা সময়ই বলে দেবে।