নিউজিল্যান্ড মানেই ক্রিকেটের ‘নাইস গাইজ’। ১১ বছরে ৫টি সাদা বলের ফাইনালে ওঠা কিউইরা কি এবার পারবে দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘোচাতে? আহমেদাবাদের ১ লাখ দর্শকের সামনে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে রুখে দিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার জন্য কিউইদের দরকার নিখুঁত পরিকল্পনা। তাদের জয়ের ৫টি মূল চাবিকাঠি আছে, যেগুলো তাদেরকে চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করবে।
১. অস্ট্রেলিয়ার পথ অনুসরণ
২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া যেভাবে ভারতকে চাপে ফেলেছিল, মিচেল স্যান্টনাররা সেই মডেলটিই অনুসরণ করতে পারেন। ভারতের ওপর ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতার আকাশচুম্বী প্রত্যাশা ও চাপ রয়েছে। সেই চাপকে কাজে লাগিয়ে ভারতকে শুরুতেই নড়বড়ে করে দেওয়াই হবে কিউইদের প্রথম কাজ।
২. শুরুর দিকে উইকেট শিকার
ভারতের টপ অর্ডারকে থামাতে ম্যাট হেনরি হতে পারেন বড় অস্ত্র। বিশেষ করে সঞ্জু স্যামসনের বিপক্ষে ম্যাট হেনরির রেকর্ড বেশ ঈর্ষণীয়। টি-টোয়েন্টিতে হেনরির বিপক্ষে স্যামসনের গড় মাত্র ৭.৫। পাওয়ারপ্লেতে উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের রানের চাকা দ্রুত গতিতে ঘোরা থেকে বিরত রাখাই হবে কিউইদের মূল লক্ষ্য।
৩. অফস্পিনের ‘ফাঁদ’
ভারতের বাঁহাতি ব্যাটারদের জন্য অফস্পিন এক বড় দুশ্চিন্তা। টুর্নামেন্টের পরিসংখ্যান বলছে, অফস্পিনের বিপক্ষে ভারতের গড় মাত্র ১৫.৯। কোল ম্যাককনকি এবং গ্লেন ফিলিপসের অফস্পিন ব্যবহার করে কিউইরা কি ভারতকে আটকাতে পারবে? দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাককনকির পারফরম্যান্স অন্তত সেই আশা জাগাচ্ছে।
৪. ‘বাশ ব্রাদার্স’-এর ওপর আস্থা
নিউজিল্যান্ডের ওপেনিং জুটি ফিন অ্যালেন এবং টিম সিফার্ট, যারা ‘বাশ ব্রাদার্স’ নামে পরিচিত, তাদের ব্যাটের ওপরই নির্ভর করছে কিউইদের বিশাল রান। এই বিশ্বকাপে ৭ ইনিংসে তারা একসাথে ৪৬৩ রান তুলেছেন। ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে তাদের বিধ্বংসী শুরুই পারে ভারতকে চাপে ফেলতে।
৫. চক্রবর্তীর দুর্বলতা চিহ্নিত করা
ভারতের প্রধান স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর সাম্প্রতিক ফর্ম চিন্তার কারণ। সুপার এইট পর্ব থেকে তাঁর ইকোনমি রেট বেড়ে হয়েছে ১১.৬। তিনি এখন আগের চেয়ে বেশি শর্ট লেন্থে বল করছেন, যা ব্যাটারদের জন্য সুবিধা করে দিচ্ছে। কিউই ব্যাটাররা যদি তাঁর লাইনে এবং লেন্থে আক্রমণ করতে পারে, তবে ভারতের বোলিং লাইনআপ ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
স্যান্টনারের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস, “আমরা খুব বেশি চাপে না পড়ে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে চাই। আমরা ফেভারিট নই, তবে ভারতকে চাপে ফেলে যেকোনো কিছুই ঘটিয়ে ফেলা সম্ভব।”
নিউজিল্যান্ড কি পারবে আহমেদাবাদের গ্যালারিতে কোটি মানুষের প্রত্যাশার চাপকে জয় করে নতুন ইতিহাস গড়তে? নাকি ভারত তাদের ‘ডেথ স্টার’ ব্যাটিং দিয়ে কিউইদের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেবে? উত্তরের অপেক্ষায় পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।

