আগামী মাসেই যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মাটিতে বসছে রেকর্ড ৪৮ দেশের ফুটবল বিশ্বকাপ। তবে ২০২৬ সালের এই বহুল আলোচিত বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই ফুটবল বিশ্বকে আরও বড় চমক দিল ফিফা। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়িয়ে এক লাফে ৬৪ কিংবা ৬৬টি করার ঐতিহাসিক এক পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার বোর্ডরুমে এখন জোর আলোচনা চলছে।
ইউরোপীয় ও স্প্যানিশ গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপের পরিধি আরও বড় করার এই ধারণাটি শুরুতে দিয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন (কনমেবল)। সাম্প্রতিক আলোচনায় তারা ফিফার অন্যান্য কনফেডারেশনগুলোকেও এই পরিকল্পনার পক্ষে রাজি করাতে সক্ষম হয়েছে।
ফলে ২০৩০ সালে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনের বিশ্বকাপে এই রূপান্তর দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তীব্র হচ্ছে।
ইনফান্তিনোর বৈশ্বিক বিস্তার ও ছোট দলগুলোর স্বপ্ন
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বরাবরই বিশ্বকাপকে একটি ‘বিশ্বব্যাপী উদযাপন’ হিসেবে দেখতে চান।
তিনি মনে করেন, দলের সংখ্যা ৬৪ বা ৬৬টি হলে টুর্নামেন্টে ফুটবল বিশ্বের বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তি এবং বিশ্বমঞ্চে ছোট দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব অনেক গুণ বাড়বে।
আরও পড়ুন:
মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া, মেসিদের গ্রুপের অস্ট্রিয়া ও কঙ্গোর বিশ্বকাপ দলে যারা
আসন্ন বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে, কুরাসাও, উজবেকিস্তান ও জর্ডানের মতো নতুন দলগুলোর সম্ভাব্য অভিষেক ফুটবলকর্তাদের এই সম্প্রসারণের পথে এগিয়ে যেতে আরও বেশি উৎসাহিত করেছে। ৬৬ দলের টুর্নামেন্ট হলে যেসব দেশ কখনো বিশ্বমঞ্চে খেলার সুযোগ পায়নি, তারাও চমক দেখানোর সুযোগ পাবে।
শতবর্ষের বিশ্বকাপ ও অবকাঠামোর বিশাল চাপ
২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজনের মূল দায়িত্বে রয়েছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। এর পাশাপাশি বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতেও কয়েকটি ম্যাচ আয়োজনের বড় পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে ৬৬ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করা হলে আয়োজক দেশগুলোর অবকাঠামোর ওপর বিশাল চাপ তৈরি হবে।
যদিও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা ৪৮ দল নিয়েই রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই কেবল ২০৩০ বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম নির্বাচন ও এই সম্প্রসারণ প্রজেক্ট নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবে ফিফা।
ফুটবল পণ্ডিতদের শঙ্কা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা
বিশ্বকাপের পরিধি এভাবে বাড়ানোর প্রস্তাবটি ফুটবল বিশ্বকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, অতিরিক্ত ছোট দল যোগ হলে টুর্নামেন্টের মূল মান ও প্রতিযোগিতার তীব্রতা অনেক কমে যেতে পারে।
তবে ফিফার দৃষ্টি আপাতত ফুটবলের বৈশ্বিক দর্শকসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিশাল বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দিকেই।
আসন্ন ২০২৬ সালের ৪৮ দলের ফরম্যাট যদি অর্থনৈতিক ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে সফল হয়, তবে ২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৬ দলের অন্তর্ভুক্তি কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

