শেষ ওভারের প্রথম তিন বলে ম্যাচটা যেন বারবার দিক বদলাচ্ছিল। এক মুহূর্তে চট্টগ্রাম রয়্যালসের জয়ের পাল্লা ভারী, পরমুহূর্তে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের চোখে নতুন আশা। ঠিক এমন এক উত্তেজনার ভেতর দিয়েই ম্যাচটা গড়ায় শেষ বলে—যেখানে প্রয়োজন ছিল মাত্র দুই রান, আর দায়িত্বটা এসে পড়ে হাসান নওয়াজের কাঁধে।
এসএম মেহেরবের বল লং অফের দিকে ঠেলে দিয়ে হাসান নওয়াজ নিজে ছুটলেন, আর নন–স্ট্রাইক প্রান্ত থেকে শরিফুল ইসলাম যেন রকেট গতিতে ছুটে এলেন। দুই রান পূর্ণ হতেই ছুটে এল উন্মাদনা—ব্যাট ছুড়ে ফেলা শরিফুল, ডাগআউট থেকে দৌড়ে আসা সতীর্থরা আর গ্যালারিতে চট্টগ্রাম সমর্থকদের উল্লাস। ছোট পুঁজি নিয়েও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া রাজশাহীর জন্য তখন কেবল হতাশার নীরবতা।
বিপিএলের এই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ বলের নাটকে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে ২ উইকেটে হারিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
নওয়াজের ধৈর্যের গল্প
শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী তোলে ২০ ওভারে ১২৮ রান। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লের মধ্যেই চার রানের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে চট্টগ্রাম পড়ে যায় বড় বিপর্যয়ে। ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয় হাসান নওয়াজের ধৈর্যের ইনিংস।
চতুর্থ ওভারে নামার পর শুরু থেকেই পরিস্থিতি বুঝে খেলেন নওয়াজ। স্বভাবতই আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান হলেও এ দিন তাঁকে দেখা যায় একেবারে ভিন্ন রূপে—ঝুঁকি কমিয়ে, বল বুঝে, ম্যাচটা নিজের হাতে রেখে এগোনো এক ইনিংস।
শেষ পর্যন্ত ৩৬ বল খেলে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন হাসান নওয়াজ। ইনিংসটি খুব দ্রুতগতির না হলেও পরিস্থিতির বিচারে সেটিই ছিল ম্যাচজয়ী। ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল ভূমিকার পাশাপাশি বল হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। দুই ওভারে ১৩ রান দিয়ে তুলে নেন রাজশাহীর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট।
এই পারফরম্যান্সই এনে দেয় তাঁকে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
রাজশাহীর ইনিংস: শুরু ছিল, শেষ হলো না
রাজশাহীর ইনিংসের শুরুটা হয়েছিল ঝলমলে। দ্বিতীয় ওভারেই আবু হায়দারের বলে টানা দুই ছক্কায় দলকে চাঙা করেন মুহাম্মদ ওয়াসিম। কিন্তু সেই ২১ রানের উদ্বোধনী জুটিই হয়ে থাকে তাদের সর্বোচ্চ।
স্পিন আক্রমণে এসে তানভির ইসলামের বলে ওয়াসিমের বিদায়ের পর ধীরে ধীরে খেই হারাতে থাকে রাজশাহী। শান্ত, মুশফিকুর রহিম, তানজিদ হাসান—কেউই ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। মিডল অর্ডারে এস এম মেহেরব (১৯) ও আকবর আলি (১৭) চেষ্টা করলেও স্কোরবোর্ডে বড় কিছু যোগ হয়নি।
শেষ ওভারের থ্রিলার
শেষ ১২ বলে চট্টগ্রামের প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। ১৯তম ওভারে তানজিম হাসান মাত্র ৩ রান দিয়ে ম্যাচটা জমিয়ে দেন। শেষ ওভারে বল তুলে দেওয়া হয় অফ স্পিনার এস এম মেহেরবের হাতে। প্রথম দুই বলে দুই রান করে এলেও তৃতীয় বলে ফুল টসে সোজা ব্যাটে চার মারেন হাসান নওয়াজ। এরপর দুই ডট বলে নাটক চরমে পৌঁছায়, আর শেষ বলে দুই রানে লেখা হয় চট্টগ্রামের জয়গাথা।
টেবিলের হিসাব
এই জয়ে সাত ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে বিসিবির ব্যবস্থাপনায় থাকা চট্টগ্রাম রয়্যালস। ছয় ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স আছে চারে।

