Rizan, Faisal, Oliver Peake and Farhan Ahmedরিজান হোসেন, ফয়সাল শিনোজোদা, অলিভার পিক ও ফারহান আহমেদ

আইসিসি অনূর্ধ্ব–১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ মানেই ভবিষ্যৎ তারকাদের প্রথম বড় মঞ্চ। এই টুর্নামেন্ট থেকেই উঠে এসেছেন যুবরাজ সিং, টিম সাউদি, এইডেন মার্করাম, শুবমান গিলের মতো বিশ্বক্রিকেটের বড় নাম। ২০২৬ সালের আসরেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং এবারের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটার ইতিমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন।

জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় আসন্ন বিশ্বকাপে যাঁদের দিকে বিশেষ নজর রাখবে ক্রিকেটবিশ্ব, তাদের কয়েকজনের বিশ্লেষণ।

আফগানিস্তান: ফয়সাল শিনোজোদা

ডানহাতি এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান সাম্প্রতিক অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপে তিন ইনিংসে করেন ১৫৫ রান, যার মধ্যে ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি দৃষ্টিনন্দন শতক। ২০২৫ সালের শুরুতেও বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে সিরিজে দুটি ফিফটিও আছে তার ঝুলিতে। ওপেনার কিংবা তিন নম্বরে—দুই জায়গাতেই সমান কার্যকর ফয়সাল।

অস্ট্রেলিয়া: অলিভার পিক

২০২৪ সালের বিশ্বকাপে ইনজুরি কভার হিসেবে দলে এসে শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন অলিভার পিক। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে করেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ রান। এরপর বিগ ব্যাশে চুক্তি, ভিক্টোরিয়ার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক—সব মিলিয়ে দারুণ উত্থান। ২০২৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দেবেন তিনিই।

বাংলাদেশ: রিজান হোসেন

পেস বোলিং অলরাউন্ডার রিজান হোসেনকে ঘিরে বাংলাদেশের বড় প্রত্যাশা। এশিয়া কাপে কিছুটা নীরব থাকলেও বছরের শুরুতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা দুটি ফিফটি এবং ইংল্যান্ড সফরে একটি দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তার সামর্থ্যের প্রমাণ। মিডল অর্ডারে ব্যাটিং কিংবা প্রথম পরিবর্তনের বোলার—দুই ভূমিকাতেই গুরুত্বপূর্ণ হবেন রিজান।

ইংল্যান্ড: ফারহান আহমেদ

ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ক্রিকেটার রেহান আহমেদের ছোট ভাই ফারহান ইতিমধ্যেই ইতিহাস গড়েছেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে অভিষেক, এরপর ২০২৪ সালে প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে ভেঙেছেন ১৮৬৫ সালের ডব্লিউ জি গ্রেসের রেকর্ড। এটি তার দ্বিতীয় অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ, এবার তিনি দলের অধিনায়ক।

ভারতের নতুন তারকা বৈভব সুরিয়াবংশী
বৈভব সূর্যবংশী

ভারত: বৈভব সূর্যবংশী

মাত্র ১৪ বছর বয়সেই বৈভব সূর্যবংশীকে ঘিরে হইচই ক্রিকেটবিশ্বে। ১৩ বছর বয়সে ভারতের অনূর্ধ্ব–১৯ দলে অভিষেকে সেঞ্চুরি, আইপিএলে ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার হওয়া এবং ৩৫ বলে সেঞ্চুরি—সব মিলিয়ে ব্যতিক্রমী প্রতিভা। সর্বশেষ এশিয়া কাপে ২৬২ রান করেন তিনি, স্ট্রাইক রেট ছিল ১৮২!

আয়ারল্যান্ড: অ্যাডাম লেকি

জিম্বাবুয়ে সফরে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের ভিত্তি ছিলেন ওপেনার অ্যাডাম লেকি। পাঁচ ইনিংসে ৩২৩ রান, চারটি ফিফটি। ২০২৫–২৬ মৌসুমে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের ওভারসিজ স্কলারশিপ পেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অনুশীলনের সুযোগও পেয়েছেন তিনি।

নিউজিল্যান্ড: আরিয়ান মান

উইকেটকিপার–ব্যাটসম্যান আরিয়ান মান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকে দুই ফিফটি করে নজর কেড়েছেন। নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের হয়ে জিত রাভালের মতো অভিজ্ঞদের পাশে খেলে আত্মবিশ্বাসী মান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন তিনি।

Sameer Minhas
সামির মিনহাস

পাকিস্তান: সামির মিনহাস

অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে রেকর্ড গড়া ১৭২ রানের ইনিংস খেলে পাকিস্তানের নায়ক হয়ে ওঠেন সামির মিনহাস। পুরো টুর্নামেন্টে পাঁচ ইনিংসে করেন ৪৭১ রান—নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় ২০০ রান বেশি। দুটি সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটিতে দুর্দান্ত ফর্মেই বিশ্বকাপে আসছেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকা: জোরিচ ভ্যান শাল্কভিক

বাংলাদেশের বিপক্ষে অপরাজিত ১৬৪ রানে ভাঙেন ২৫ বছরের পুরোনো রেকর্ড। তিন দিন পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৫ রান করে যুব ওয়ানডেতে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হন তিনি। ডিওয়াল্ড ব্রেভিস ও ক্বেনা মাপাখার পর টানা তৃতীয়বার দক্ষিণ আফ্রিকার কেউ টুর্নামেন্টসেরা হতে পারেন কি না, সে প্রশ্নও উঠছে।

শ্রীলঙ্কা: সেথমিকা সেনেভিরাত্নে

ডানহাতি মিডিয়াম পেসার সেনেভিরাত্নে এশিয়া কাপে নেন ৮ উইকেট, গড় ১৫.৭৫। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও ছিলেন কার্যকর। ব্যাট হাতেও অবদান রাখতে পারেন তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: জনাথন ভ্যান ল্যাঞ্জ

জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নও তিনি। তবে ক্রিকেটেই আপাতত মনোযোগ জনাথন ভ্যান ল্যাঞ্জের। অধিনায়ক জোশুয়া ডর্নের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের বড় ভরসা তিনি।

জিম্বাবুয়ে: কিয়ান ব্লিগনট

বিখ্যাত ক্রিকেটার অ্যান্ডি ব্লিগনটের ছেলে কিয়ান টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ও লেগ স্পিনার। জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব–১৯ দলের হয়ে রাইনোসের বিপক্ষে ১১০ রানের অপরাজিত ইনিংস নজর কেড়েছে সবার।