প্রশ্নটা শোনার পর এক মুহূর্ত থেমে গিয়েছিলেন খুশদিল শাহ। চোখে-মুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। এরপর ধীর কণ্ঠে জানালেন, কথা বলতে চান উর্দুতেই। সম্মতি মিলতেই সাবলীল ভঙ্গিতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে শুরু করলেন পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ—খুশদিল শাহর কাছে এই টুর্নামেন্ট কেবল একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নয়, বরং ভাগ্য বদলের এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। তাঁর ভাষায়, বিপিএল তাঁর জন্য ‘লাকি’। কারণ এখানকার পারফরম্যান্সই একাধিকবার তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান জাতীয় দলের আলোচনায়।
বর্তমানে রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলছেন খুশদিল। বিপিএলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নতুন নয়। একাধিক মৌসুম ধরেই নিয়মিত মুখ তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে খুশদিল বলেন, যখনই বাংলাদেশে এসেছেন, ব্যাটে-বলে অবদান রাখতে পেরেছেন। বিশেষ করে গত মৌসুমের পারফরম্যান্সের কথাই তিনি আলাদা করে মনে করলেন, যেটা তাঁর জাতীয় দলে ফেরার পথটা সহজ করেছিল।
বাংলাদেশে খেলতে এসে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলেও জানালেন এই পাকিস্তানি অলরাউন্ডার। প্রায় এক দশক ধরে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বাংলাদেশে আসা-যাওয়া তাঁর। খুশদিলের মতে, ভালো না লাগলে বারবার একই জায়গায় ফেরা সম্ভব নয়। বিপিএল কিংবা ঢাকা লিগ—সব জায়গাতেই পেশাদার অভিজ্ঞতা পেয়েছেন বলে দাবি তাঁর।
বিপিএলে পারিশ্রমিক সংক্রান্ত বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে খুশদিল শাহের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তিনি জানান, যতবার খেলেছেন, প্রতিবারই সময়মতো পারিশ্রমিক ও বোনাস পেয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে কখনো কোনো জটিলতার মুখে পড়তে হয়নি তাঁর।
বিপিএলে খুশদিলের পরিসংখ্যানও নজরকাড়া। কুমিল্লা ও রংপুর—দুই দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত ২৭ ম্যাচে ব্যাটে করেছেন ৬০০–এর বেশি রান, বল হাতে নিয়েছেন প্রায় ৩০টি উইকেট। ফলে এই লিগের প্রতিযোগিতা, চাপ, উত্তেজনা—সবই তাঁর চেনা।
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ হিসেবে বিপিএলকে কতটা মূল্যায়ন করবেন—এমন প্রশ্নে খুশদিল খুব স্পষ্ট। ১০-এর মধ্যে ৭ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, ভালো দিক যেমন আছে, তেমনি উন্নতির জায়গাও রয়েছে।
রংপুর রাইডার্সকে এবারও শক্তিশালী দল হিসেবে দেখছেন এই অলরাউন্ডার। স্কোয়াডের ভারসাম্যের ওপর আস্থা আছে তাঁর। মাঠে সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটাতে চান সবাই।
ব্যাটিং স্টাইল নিয়ে খুশদিল শাহের দৃষ্টিভঙ্গি বেশ সরল। শেষদিকে নেমে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতার জন্য পরিচিত হলেও তিনি নিজেকে স্ট্রাইক রেটের হিসাবের মধ্যে আটকে রাখতে চান না। ম্যাচের পরিস্থিতিই তাঁর কাছে আসল। কখনো কম বলে বড় রান দরকার হয়, আবার কখনো উইকেটে টিকে থাকাটাই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ—এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই ব্যাটিং করেন তিনি।
নিজের লক্ষ্য নিয়েও পরিষ্কার খুশদিল। যেখানে খেলেন, সেখানকার পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াটাই তাঁর প্রধান চাওয়া। ব্যাটিং পজিশন নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও সেটি কাটিয়ে উঠতে আত্মবিশ্বাসী তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় ইনিংস খেলার অভিজ্ঞতা তাঁকে সেই বিশ্বাসই জোগায়।
সব মিলিয়ে বিপিএলকে খুশদিল শাহ দেখছেন নিজের ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে—যেখানে পারফরম্যান্স, আত্মবিশ্বাস আর সুযোগ—সবকিছুই একসঙ্গে আসে।

