ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) ২০২৩ সালে ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকেই ক্রিকেট বিশ্বে এটি নিয়ে চলছে পক্ষে-বিপক্ষের তুমুল তর্ক-বিতর্ক। ক্রিকেট পণ্ডিত ও সাবেক ক্রিকেটারদের বড় একটি অংশের মতে, একাদশের পরিবর্তে ১২ জন নিয়ে ম্যাচ খেলার এই নিয়মে অলরাউন্ডারদের কার্যকারিতা ও মূল্যায়ন মারাত্মকভাবে কমে যায়। খোদ ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকারও কিছুদিন আগে এই নিয়মের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। তবে সেই সমস্ত সমালোচনাকে পাশে সরিয়ে রেখে এবার আইপিএলের সেই বিতর্কিত ‘ইমপ্যাক্ট সাব’ নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগেও (এলপিএল)।
ফলে সাকিব আল হাসান, তাসকিন আহমেদ কিংবা মেহেদী হাসান মিরাজদের এবার লঙ্কান দ্বীপে সম্পূর্ণ নতুন এই নিয়মের অভিজ্ঞতা নিয়েই মাঠে নামতে হবে।
গতকাল সোমবার এলপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফটের শেষ দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী টুর্নামেন্ট থেকে ইমপ্যাক্ট সাব ব্যবহারের নিয়ম চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আয়োজকরা। তবে কেবল ইমপ্যাক্ট সাবই নয়, শ্রীলঙ্কার এই ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টকে আকর্ষণীয় ও তরুণনির্ভর করতে আরও একটি বিশেষ নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি দলের মূল একাদশে অন্তত একজন অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ক্রিকেটার রাখা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ, ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনো দল যদি ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড় অদলবদলও করে, তাহলেও মাঠের একাদশে একজন অনূর্ধ্ব-২৩ ক্রিকেটার রাখতেই হবে।
লঙ্কান ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মাথায় হাত
সৎ উদ্দেশ্যে এই নতুন নিয়ম চালু করতে গিয়ে অবশ্য টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বড় ধরণের বিপাকে পড়েছে এলপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।
যে অনূর্ধ্ব-২৩ ক্রিকেটারদের খেলানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তাদের পুরো টুর্নামেন্টে পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম সংশয়।
কারণ আগামী জুলাইয়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-২৩ দলের মধ্যকার একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ চূড়ান্ত হয়ে আছে। অন্যদিকে এলপিএলের এবারের আসরটিও মাঠে গড়াবে জুলাই-আগস্টের উইন্ডোতেই। ভারতের বিপক্ষে জাতীয় দলের সিরিজ থাকায় লঙ্কান অনূর্ধ্ব-২৩ দলের মূল ক্রিকেটাররা স্বাভাবিকভাবেই নিজ দেশের এই মেগা ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবেন না।
ফলে বাধ্যতামূলক নিয়মের কোটা পূরণ করতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে এখন বিকল্প ক্রিকেটার খুঁজতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আইপিএলের আদলে তৈরি হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ ‘এসএ টোয়েন্টি’র (SA20) বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা আইপিএল দলগুলোর হাতে রয়েছে। কিন্তু তারাও এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আইপিএলের এই ইমপ্যাক্ট ক্রিকেটার নিয়মটি আমদানি করেনি। মূলত এই নিয়মের কারণে অলরাউন্ডাররা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। অলরাউন্ডারদের মূল শক্তি ব্যাটিং ও বোলিংয়ের দ্বিমুখী ভূমিকা—যা এই নিয়মের মারপ্যাঁচে পড়ে একমুখী হয়ে যায়; দলগুলো হয় স্রেফ একজন স্পেশালিস্ট ব্যাটার নামায়, না হয় একজন স্পেশালিস্ট বোলার ব্যবহার করে।
সাকিব-মিরাজদের মতো জেনুইন অলরাউন্ডারদের জন্য তাই এলপিএলের এই নিয়ম বড় এক পরীক্ষা।
১৭ জুলাই থেকে শুরু
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বা সবশেষ আসরের শিরোপাধারী দল হলো জাফনা কিংস।
এবার ১৭ জুলাই থেকে মাঠের লড়াই শুরু হয়ে টুর্নামেন্টের জমকালো ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৮ আগস্ট। কলম্বো ক্যাপস, ক্যান্ডি রয়্যালস, জাফনা কিংস, ডাম্বুলা সিক্সার্স এবং গল গ্যালান্টস—এই পাঁচ পরাশক্তি দল নিয়ে পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে এলপিএল।
এবারের আসরে বাংলাদেশ থেকে মোট পাঁচজন তারকা ক্রিকেটার লঙ্কান ডেরায় মাঠ মাতাবেন। গল গ্যালান্টসের হয়ে ওপেনিং ও স্পিন আক্রমণে জুটি বাঁধবেন লিটন কুমার দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জাফনা কিংসের হয়ে সরাসরি চুক্তিতে মাঠ কাঁপাবেন সাকিব আল হাসান ও গতি তারকা তাসকিন আহমেদ।
আর তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ বল হাতে আগুন ঝরাবেন কলম্বো ক্যাপসের ড্রেসিংরুমে।
আরও পড়ুন:
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে দল পেলেন মিরাজ-লিটনসহ ৫ বাংলাদেশি

