এই পরিস্থিতির মুখে এসে পড়তে হবে, কখনোই হয়তো ভাবেননি মোহাম্মদ সালাহ। কিন্তু সময় ও বাস্তবতা এতো কঠিন যে এই মিশরীয় তারকাকে সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি করে দিয়েছে।
কিন্তু সালাহর মন মানছে না। যে ক্লাবের জন্য এতো কিছু করেছেন, এতো অবদান, সেই ক্লাব তার সঙ্গে যে আচরণ করছে, তা দেখে ব্যথিত এই তারকা। লিভারপুল তাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানাচ্ছে বলেও মনে করছেন তিনি।
গেল কিছুদিন ধরে চেনা ফর্মে নেই মোহাম্মদ সালাহ। প্রিমিয়ার লিগে টানা তিন ম্যাচে তাকে বেঞ্চ করে রাখা হয়েছে! তন্মধ্যে দুটি ম্যাচে তো মাঠেই নামাননি কোচ!
কে ভেবেছিল যে মোহাম্মদ সালাহর মতো তারকাকে বেঞ্চ গরম করে সময় কাটাতে হবে!
কাল রাতে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র করে লিভারপুল। এ ম্যাচেও একাদশে ছিলেন না সালাহ। ম্যাচ শেষে ক্ষোভ আর ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
মোহাম্মদ সালাহ বলেন, “কেউ একজন চায় না আমি ক্লাবে থাকি।”
এই ‘কেউ একজন’টা যে কোচ আর্নে স্লট, তা বুঝতে খুব বেশি জ্ঞানী হওয়ার দরকার পড়ছে না কারোরই। কোচের সঙ্গে সালাহর সম্পর্কে ফাঁটল ধরেছে। জানুয়ারির দলবদলে ক্লাব ছাড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন এই তারকা।
সালাহ বলেন, “আমার ক্যারিয়ারে এই প্রথম টানা তিন ম্যাচ বেঞ্চে বসতে হলো। আমি খুব হতাশ। এত বছর ধরে এই ক্লাবের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি, বিশেষ করে গত মৌসুমে। এখন আমি বেঞ্চে বসে আছি, আর আমি জানিও না কেন।”
“মনে হচ্ছে ক্লাব আমাকে বলির পাঁঠা বানিয়েছে। আমি ঠিক এটাই অনুভব করছি। বিষয়টা খুব পরিষ্কার যে কেউ একজন চেয়েছে সব দোষ আমার ঘাড়ে পড়ুক। গ্রীষ্মকালে আমাকে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনটা ম্যাচে আমাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তাই আমি বলতে পারি না যে তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রেখেছে। আগে আমি বহুবার বলেছি যে কোচের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই এখন আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। কেন এমন হলো, তা আমি জানি না, তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে, কেউ একজন চায় না আমি এই ক্লাবে থাকি।”
আগামী ১৩ ডিসেম্বর ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচ আছে লিভারপুলের। সম্ভবত সে ম্যাচেই এই ক্লাবের হয়ে সালাহর শেষ ম্যাচ হতে চলেছে। তাই তো সালাহ সবাইকে সে ম্যাচে মাঠে থাকতে বলেছেন।
“এই ক্লাবকে আমি সব সময়ই সমর্থন করেছি। আমি ক্লাবকে অনেক ভালোবাসি, সব সময়ই করব। আমি গতকাল আমার মাকে ফোন করেছিলাম, আপনারা জানতেন না আমি খেলব কি না, কিন্তু আমি জানতাম। গতকালই আমি বলেছি, ‘(শনিবার ১৩ ডিসেম্বর) ব্রাইটন ম্যাচে চলে আসো।’ আমি খেলব কি না, জানি না, কিন্তু ম্যাচটা উপভোগ করতে চাই। আমি মনে মনে ঠিক করেছি, ওই ম্যাচটা আমি উপভোগ করবো, কারণ, আমি জানি না এরপর কী হতে যাচ্ছে। আমি অ্যানফিল্ডে থাকব, সমর্থকদের বিদায় জানাবো এবং আফ্রিকা কাপের (আফকন) ম্যাচ খেলার জন্য চলে যাবো।”
লিভারপুলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফলদের একজন মোহাম্মদ সালাহ। তার পায়ের কারুকাজেই দীর্ঘ ব্যর্থতা কাটিয়ে পুনরুত্থান হয়েছে ক্লাবটির। ক্লাব ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাও সালাহ।
কিন্তু সেই সালাহকে এখন বেঞ্চে বসিয়ে রাখে লিভারপুল! এ যেন তার অনিঃশেষ এক দুঃখ!
সালাহ বলেন, “এটা আমার কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বুঝতে পারছি না কেন আমার সঙ্গে এমন করা হচ্ছে। আমি সত্যিই কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। আমার মনে হয়, এটা যদি অন্য কোনো ক্লাবে হতো, তাহলে তারা নিজেদের খেলোয়াড়কে রক্ষা করত। এখন যেভাবে বিষয়টা দেখছি, সেটা এমন যে ‘দলের সব সমস্যার জন্য সালাহকেই বলির পাঁঠা বানাও।’ কিন্তু আমি মনে করি না যে আমি সমস্যার মূল।”
“এই ক্লাবের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। আমি যে সম্মানটা পাওয়ার কথা, সেটা পাচ্ছি না। আমাকে প্রতিদিন নিজের জায়গার জন্য লড়াই করতে হবে—এটা আমার দরকার নেই, কারণ, আমি এই জায়গাটা নিজ যোগ্যতায় অর্জন করেছি। আমি কারও চেয়ে বড় নই, কিন্তু আমি আমার জায়গাটা অর্জন করেছি।”
তাহলে ক্লাব ছাড়াই শেষ কথা?
উত্তর দিলেন মোহাম্মদ সালাহ, “ফুটবলে কখন কী হয়, কেউ জানে না। আমি এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারছি না। আমি এই ক্লাবের জন্য অনেক কিছু করেছি। আমি বলতে পারি না যে বিষয়টা মীমাংসা হওয়া অসম্ভব। কিন্তু আমার যেটা মনে হচ্ছে, আমি ক্লাবের জন্য এত কিছু করেছি, সমর্থক ও ক্লাবকে আমি অনেক ভালোবাসি। এরপর কী হবে, তা আমি জানি না।”

