সান্তোসে দারুণ ফর্মে থাকা নেইমার ব্রাজিল বিশ্বকাপের দলে থাকার স্বপ্ন দেখছেন।এবারই হয়তো শেষবারের মতো বিশ্বকাপে দেখা যাবে নেইমারকে। ছবি: সান্তোস

ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়রের জন্য সময়টা যেন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। চোট আর ফর্মের টানাপোড়েন কাটিয়ে তিনি যখন জাতীয় দলে ফেরার লড়াই করছেন, ঠিক তখনই চারদিক থেকে ভেসে আসছে ইতিবাচক সব খবর। একদিকে কড়া নাড়ছেন বিশ্বকাপের মূল দলে, অন্যদিকে মাঠের পারফরম্যান্সেও দেখাচ্ছেন পুরনো ঝলক। নেইমারের এই সুসময়ের পেছনে রয়েছে কয়েকটি বড় কারণ।

​বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলে ফেরা

সবচেয়ে বড় সুসংবাদটি এসেছে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমগুলোর হাত ধরে। জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য যে ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল সাজিয়েছেন, সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে নেইমারকে। যদিও চূড়ান্ত ২৬ জনের দল ঘোষণা করা হবে আগামী ১৮ মে, তবে প্রাথমিক তালিকায় থাকাটাই নেইমারের প্রত্যাবর্তনের পথে বড় এক ধাপ।

২০২৩ সালের অক্টোবরের পর আবারও হলুদ জার্সিতে এই মহাতারকাকে দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।

​মেসি ও রাফিনিয়ার অকুণ্ঠ সমর্থন

নেইমারের জন্য মানসিক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে বন্ধু লিওনেল মেসি এবং সতীর্থ রাফিনিয়ার বক্তব্য।

ইন্টার মায়ামি অধিনায়ক মেসি সম্প্রতি আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেছেন, “ফুটবলের স্বার্থেই নেইমারকে বিশ্বকাপে দরকার। ও যা অর্জন করেছে, তাতে বিশ্বকাপে থাকাটা ওর প্রাপ্য।” আনচেলত্তির প্রতি এটি মেসির এক সূক্ষ্ম বার্তাও বটে।

আরও পড়ুন:
মেসির মনখোলা সাক্ষাৎকার: রোনালদো ও নেইমারকে নিয়ে যা বললেন

অন্যদিকে, বর্তমান ব্রাজিল দলের প্রাণভোমরা রাফিনিয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন, নেইমার দলে থাকা মানেই বাড়তি শক্তি।

ড্রেসিংরুমের এই ইতিবাচক আবহ নেইমারকে ফেরার পথে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।

​গোল করে সামর্থ্যের প্রমাণ

শুধু মুখে নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও সমালোচকদের জবাব দিচ্ছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

সান্তোসের জার্সিতে সর্বশেষ দুই ম্যাচেই গোল পেয়েছেন তিনি। আজ সকালে ব্রাজিলিয়ান লিগ সিরি ‘এ’-তে ব্রাগান্তিনোর বিপক্ষে প্রথম গোলটি করেন নেইমার।

২-০ গোলে জয় পায় সান্তোস। নেইমার মাঠে ছিলেন ৮২ মিনিট পর্যন্ত।

এর আগে কোপা সুদামেরিকানায় রেসোলেটা এফসির বিপক্ষেও জালের দেখা পেয়েছিলেন তিনি।

সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ১৩ ম্যাচে ৬ গোল ও ৩ অ্যাসিস্টের পাশাপাশি গত ১৭ ম্যাচে ১১ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট—পরিসংখ্যান বলছে নেইমার নিজের সেরা ছন্দ ফিরে পাচ্ছেন।

​ফিটনেস যুদ্ধ ও আনচেলত্তির চ্যালেঞ্জ

কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, শতভাগ ফিট না হলে কাউকেই সুযোগ দেওয়া হবে না।

নেইমারের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও ফিটনেস ছিল মূল দুশ্চিন্তা। তবে সান্তোসের হয়ে টানা ম্যাচ খেলা এবং গোল পাওয়া প্রমাণ করছে, তিনি প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের জন্য এখন প্রস্তুত।

শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পাওয়ায় আনচেলত্তির চূড়ান্ত দলেও নেইমার বড় দাবিদার হয়ে উঠেছেন।

আরও পড়ুন:
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেইমারকে রাখলেন আনচেলত্তি