গেল কয়েক বছর ধরে আইসিসি ইভেন্ট মানেই ছিল আফগানিস্তানের জয়জয়কার। কিন্তু ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ায় যেন সব সমীকরণ বদলে গেছে। দলের এই ব্যর্থতার দায় সরাসরি পড়েছে অধিনায়ক রশিদ খানের ওপর। আফগান সংবাদমাধ্যম ‘আমু টিভি’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিনায়ক হিসেবে রশিদের সময় ফুরিয়ে এসেছে এবং আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।
রশিদের জায়গায় ইব্রাহিম জাদরান?
আফগান ক্রিকেট বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রশিদের উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমানে সবার আগে নাম আসছে ওপেনার ইব্রাহিম জাদরানের। ইব্রাহিম ছাড়াও অধিনায়কত্বের দৌড়ে আছেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই। তবে ওমরজাই ব্যক্তিগতভাবে নেতৃত্ব নিতে খুব একটা আগ্রহী নন বলে জানা গেছে, যা ইব্রাহিমের পথ আরও প্রশস্ত করেছে।
নেতৃত্ব হারানোর পেছনে কারণ
২০১৯ সালে প্রথমবার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে রশিদ খান মোট ৪৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আফগানিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর অধীনে দল ২৬টি ম্যাচে জয় পেলেও গুরুত্বপূর্ণ বড় টুর্নামেন্টগুলোতে প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই রশিদকে সরানোর চিন্তা করেছিল বোর্ড, কিন্তু শেষ মুহূর্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছিল এসিবি।
পরিসংখ্যানের বিচারে রশিদ খান
রশিদ খানের নেতৃত্বে আফগানরা খেলেছে ৪৮টি ম্যাচ। এর মধ্যে তারা জয় পেয়েছে ২৬টিতে। বাকি ২১টিতে হার সঙ্গী হয়েছে তাদের।
অধিনায়ক হিসেবে রশিদ খানের সাফল্যের হার প্রায় ৫৪%।
পরিবর্তনের হাওয়া কেন?
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড মনে করছে, অধিনায়কত্বের চাপ রশিদের ব্যক্তিগত বোলিং পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে। ইব্রাহিম জাদরানকে দায়িত্ব দিয়ে রশিদকে কেবল ‘প্রাইম বোলার’ হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে বোর্ড, যাতে পরবর্তী সিরিজগুলোতে দলের বোলিং আক্রমণ আরও ধারালো হয়।
রশিদ খানকে কি কেবল অধিনায়কত্বের কারণেই সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নাকি দলের ড্রেসিংরুমের অন্তর্দ্বন্দ্বও এর পেছনে কাজ করছে? উত্তর মিলবে এসিবি-র আসন্ন বৈঠকেই।

