মেসি ও রোনালদোর চেয়ে পেনাল্টিতে নিখুঁত রাউল জিমেনেজ।মেসি ও রোনালদোর চেয়ে পেনাল্টিতে নিখুঁত রাউল জিমেনেজ। ছবি: গেটি

গোল করা হয়তো অনেকের কাছে সহজাত, কিন্তু পেনাল্টি স্পট থেকে স্নায়ুচাপ সামলে বল জালে জড়ানো এক অনন্য শিল্প। আর এই শিল্পে লিওনেল মেসি বা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চেয়েও নিজেকে এগিয়ে রেখেছেন মেক্সিকান ফরোয়ার্ড রাউল জিমেনেজ। প্রিমিয়ার লিগে ফুলহ্যামের এই তারকা এখন পর্যন্ত পেনাল্টি নিতে গিয়ে কোনো ভুল করেননি, যা তাঁকে লিগের ইতিহাসের অন্যতম সেরা পেনাল্টি টেকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মেসি-রোনালদোর চেয়েও সফল জিমেনেজ

মোট গোলসংখ্যার বিচারে মেসি-রোনালদোর ধারেকাছে না থাকলেও, পেনাল্টিতে সাফল্যের হারের দিক থেকে জিমেনেজ তাঁদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ৪৪টি পেনাল্টির মধ্যে ৪২টিতেই সফল হয়েছেন তিনি। অর্থাৎ তাঁর সাফল্যের হার ৯৫.৫%।

অন্যদিকে, ট্রান্সফারমার্কেটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

লিওনেল মেসি: ১৪৬টি পেনাল্টির মধ্যে ১১৪টিতে গোল করেছেন (সাফল্যের হার ৭৮.১%)।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো: ২১৭টি প্রচেষ্টায় ১৮১টি গোল করেছেন (সাফল্যের হার ৮৩.৪%)।

পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, পেনাল্টি স্পটে পর্তুগিজ যুবরাজ সিআর৭ এবং আর্জেন্টাইন মহাতারকা এলএম১০ এর চেয়ে জিমেনেজ কতটা নিখুঁত এবং নির্ভরযোগ্য।

প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে অমরত্ব

গত ২২ ফেব্রুয়ারি সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ফুলহ্যামের ৩-১ ব্যবধানের জয়ে জিমেনেজ তাঁর প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ারের ১৩তম পেনাল্টি গোলটি করেন। মজার ব্যাপার হলো, লিগে এখন পর্যন্ত ১৩টি পেনাল্টি নিয়ে সবকটিতেই জালের দেখা পেয়েছেন তিনি!

প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি জিমেনেজকে লিগ ইতিহাসের সেরা পেনাল্টি টেকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই তালিকায় তিনি ইয়াইয়া তুরে (১১-এ ১১) এবং দিমিতার বারবাতোভের (৯-এ ৯) মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে ১০০% কার্যকারিতা নিয়ে শীর্ষস্থান ভাগ করে নিচ্ছেন।

মেক্সিকানদের গর্ব

উলভারহ্যাম্পটন থেকে শুরু করে এখন ফুলহ্যামে, জিমেনেজ ইংল্যান্ডের মাটিতে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে ৬৭ গোল করে তিনি এখন ইংল্যান্ডে সর্বোচ্চ গোলদাতা মেক্সিকান খেলোয়াড়। পুরো ক্যারিয়ারে তাঁর পেনাল্টি মিস মাত্র দুটি—একটি মেক্সিকো জাতীয় দলের হয়ে এবং অন্যটি উলভসের হয়ে ইউরোপা লিগে।

পেনাল্টি মানেই এখন জিমেনেজের জন্য এক নিশ্চিত গোল। মেসি-রোনালদোরা যেখানে পেনাল্টি মিসের যন্ত্রণায় পুড়েছেন, সেখানে জিমেনেজের এই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা আধুনিক ফুটবলের এক অনন্য নজির হয়ে থাকবে।