প্রথম শিরোপার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল দীর্ঘ ১৮টি মৌসুম। কিন্তু দ্বিতীয় ট্রফিটি ঘরে তুলতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) সময় লাগল মাত্র ১ বছর! আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে আইপিএল ২০২৬-এর মেগা ফাইনালে গুজরাট টাইটানসকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো রজত পাতিদারের দল। গত আসরে এই মাঠেই পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম শিরোপা জিতেছিল আরসিবি, যেখানে ট্রফি জয়ের পর লং-অনে দাঁড়িয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন বিরাট কোহলি।
তবে এবার আর কোনো নাটকীয়তা বা অতি-রোমাঞ্চ নয়, বরং মাঠের ভেতরে চরম পেশাদারিত্ব ও নিখুঁত ক্রিকেট খেলে আইপিএলের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখল বেঙ্গালুরু।
চেন্নাই সুপার কিংস ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের পর টুর্নামেন্টের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে ‘ব্যাক-টু-ব্যাক’ শিরোপা জয়ের নজির গড়ল আরসিবি।
আহমেদাবাদে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদার।
নির্ধারিত হোম ভেন্যু বেঙ্গালুরু থেকে ম্যাচটি আহমেদাবাদে স্থানান্তরিত হলেও চেনা কন্ডিশনে শুরুতে দারুণ বোলিং করেন আরসিবির বোলাররা।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে গুজরাট টাইটানস। অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়ে থাকা দুই ওপেনার সাই সুদর্শন (১২) ও অধিনায়ক শুভমান গিল (১০) দ্রুত বিদায় নেন। মিডল অর্ডারে নিশান্ত সিন্ধু ২০ ও জোস বাটলার ১৯ রান করে সাজঘরে ফিরলে ৭৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে গুজরাট। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে প্রতিরোধ গড়েন ওয়াশিংটন সুন্দর। শেষ দিকে আরশাদ খানের ৬ বলে ১৫ রানের ক্যামিও এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের ৩৭ বলে ৫০ রানের লড়াকু ফিফটির ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রানের পুঁজি পায় গুজরাট টাইটানস।
আরসিবির পক্ষে রসিক সালাম ২৭ রানে ৩টি এবং ভুবনেশ্বর কুমার ও জশ হ্যাজলউড ২টি ও ক্রুনাল পান্ডিয়া পান ১টি উইকেট।
বিরাটের তাণ্ডব ও আরসিবির অদম্য জয়
১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরসিবিকে বিধ্বংসী সূচনা এনে দেন ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে নামা ভেঙ্কটেশ আইয়ার। মাত্র ১৬ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩২ রান করে তিনি আউট হলেও আরসিবি পাওয়ারপ্লেতেই তুলে ফেলে ৭০ রান।
এরপর দেবদত্ত পাডিক্কাল (১) দ্রুত ফিরলেও অধিনায়ক রজত পাতিদারকে (১৫) সাথে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন বিরাট কোহলি।
গুজরাটের বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে মাত্র ২৫ বলে নিজের অর্ধশতক পূরণ করেন কিং কোহলি।
মাঝপথে ক্রুনাল পান্ডিয়া (১) দ্রুত আউট হওয়ার পর টিম ডেভিড ১৭ বলে ২৪ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস খেলে আরশাদ খানের শিকার হন। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন কোহলি। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। জিতেশ শর্মা ১৪ বলে ১১ রান করে কোহলিকে যোগ্য সঙ্গ দেন।
১২ বল বাকি থাকতেই ১৮ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান তুলে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আরসিবি।
গুজরাটের পক্ষে রশিদ খান ২৫ রানে ২টি এবং সিরাজ, রাবাদা ও আরশাদ খান ১টি করে উইকেট নেন।
আরও পড়ুন:
অভূতপূর্ব রেকর্ডে ইতিহাসের পাতায় ঢুকে গেল আইপিএল ২০২৬!

