সাইডলাইনে চিন্তিত মুখে দাঁড়িয়ে কোচ আলভারো আরবেলোয়া।রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়ার চেহারাই বলে দিচ্ছে সব। ছবি: রয়টার্স

বায়ার্ন মিউনিখের কাছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে পড়ার পর রিয়াল মাদ্রিদ এখন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। মিউনিখে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার সেই অনাকাঙ্ক্ষিত লাল কার্ড এবং শেষ মুহূর্তের জোড়া গোল শুধু ম্যাচটিই কেড়ে নেয়নি, কেড়ে নিয়েছে রিয়ালের এই মৌসুমের শেষ আশাটুকুও। লা লিগায় বার্সেলোনার চেয়ে ৯ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকা রিয়াল এখন ২১ বছরে মাত্র পঞ্চম ট্রফিহীন মৌসুম কাটানোর শঙ্কায়।

বেলিংহ্যামের সেই ‘বিপর্যয়’ এখন বাস্তব

ম্যাচের আগেই জুড বেলিংহ্যাম এই ম্যাচটিকে ‘ফাইনাল’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তিনি জানতেন, রিয়ালের মতো ক্লাবে শিরোপাহীন থাকা মানেই ‘বিপর্যয়’। বেলিংহ্যাম বলেছিলেন, “চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যেকোনো হারই আমাদের কাছে বিপর্যয়ের মতো। আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে আছি যেখানে আমাদের প্রতিটি ম্যাচ ফাইনাল হিসেবে খেলতে হবে। হয় সব জিতব, না হয় সব হারাব।”

মাঠের লড়াই শেষে বেলিংহ্যামের সেই ‘অল-অর-নথিং’ আশঙ্কাই সত্যি হলো—রিয়াল এখন আক্ষরিক অর্থেই শূন্য হাতে মরসুম শেষ করার দ্বারপ্রান্তে।

২১ বছরে মাত্র পঞ্চম ট্রফিহীন মৌসুমের শঙ্কা

ইউরোপের সফলতম ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ব্যর্থতায় অভ্যস্ত নয়। এই শতাব্দীতে রিয়াল মাত্র চারবার (২০০৪-০৫, ২০০৫-০৬, ২০০৯-১০ এবং ২০২০-২১) কোনো ট্রফি ছাড়াই মৌসুম শেষ করেছে। এমনকি লিগ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ না জিতলেও তারা অন্তত উয়েফা সুপার কাপ বা ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছিল।

আরও পড়ুন: রিয়ালে মাদ্রিদে ‘শূন্যতার’ ভয়: এমবাপ্পে যুগেও ফিরছে ২০২১ সালের দুঃস্বপ্ন!

কিন্তু ২০২৪-২৫ মৌসুমের পর এবার টানা দ্বিতীয়বারের মতো বড় কোনো শিরোপা ছাড়াই বছর শেষ করার শঙ্কায় তারা। ১৬ বছরে এমন ঘটনা রিয়ালে আর ঘটেনি।

‘আমি ক্লাবের মানুষ, নিজের পরোয়া করি না’

ম্যাচ শেষে বিধ্বস্ত কোচ আলভারো আরবেলোয়া সংবাদ সম্মেলনে কোনো অজুহাত দেননি। কামাভিঙ্গার লাল কার্ড নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ থাকলেও পরাজয়ের পুরো দায় তিনি নিজের কাঁধে নিয়েছেন। আরবেলোয়া আবেগঘন কণ্ঠে বলেন:

“আমি এই ক্লাবকে নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। আমার লক্ষ্য নিজেকে বড় কোচ প্রমাণ করা ছিল না; বরং খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ানো এবং ক্লাবকে সাহায্য করা ছিল আমার কাজ। রিয়াল মাদ্রিদ এ বছর শিরোপাহীন থাকতে যাচ্ছে—এটি একটি চরম সত্য। ক্লাবের যেকোনো সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান জানাব।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ যদি আমাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেন, তবে আমি তা মাথা পেতে নেব। আমি আমৃত্যু রিয়ালের মানুষ।”

আরও পড়ুন: আরবেলোয়া জমানায় রিয়াল মাদ্রিদে ভিনিসিয়ুসের ‘পুনরুত্থান’

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: বরখাস্ত কি অনিবার্য?

রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউট বড়ই নিষ্ঠুর। ট্রফি ছাড়া এখানে কোচদের টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। এর আগে ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি এবং জিনেদিন জিদানকেও ট্রফিহীন মৌসুমের জন্য চাকরি ছাড়তে হয়েছিল। আরবেলোয়া দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৪ মাস হয়েছে, কিন্তু রিয়ালের ইতিহাসে ১৬ বছর পর টানা দুই মৌসুম বড় কোনো শিরোপা না পাওয়ার এই রেকর্ড বোর্ড প্রধানের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন।

যদিও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কোচের ওপর আস্থা প্রকাশ করে বলেছিলেন, আরবেলোয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক চমৎকার; তবুও রিয়ালের ‘হায়ার অ্যান্ড ফায়ার’ নীতি আরবেলোয়ার ভবিষ্যৎকে এখন খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে।

আরও পড়ুন: চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের বিরল রেকর্ডে পিএসজির চোখ!

টালমাটাল এক বছর

এই মৌসুমের শুরুটা হয়েছিল জাবি আলোনসোর হাত ধরে। বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করলেও জানুয়ারিতে স্প্যানিশ সুপার কাপে হারের পর পদত্যাগ করেন আলোনসো। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন সাবেক সতীর্থ আলভারো আরবেলোয়া। কিন্তু আরবেলোয়ার শুরুটাও ছিল দুঃস্বপ্নের মতো—দ্বিতীয় বিভাগের দল আলবাসেতের কাছে কোপা দেল রের হার।

পরে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও ট্রফিহীন মৌসুম আরবেলোয়াকে বরখাস্তের মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়েছে।