এপস্টাইনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ছিল জঁ টড, জশ হ্যারিস ও স্টিভ টিশের।এপস্টাইনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ছিল জঁ টড, জশ হ্যারিস ও স্টিভ টিশের। ছবি: গেটি ইমেজেস

কুখ্যাত মার্কিন অর্থদাতা জেফরি এপস্টাইনের যৌন কেলেঙ্কারির নথিপত্র বা ‘এপস্টাইন ফাইলস’-এর নতুন সংস্করণে উঠে এসেছে ক্রীড়া বিশ্বের রুই-কাতলাদের নাম। ফর্মুলা ওয়ান (F1), ফুটবল এবং এনএফএল-এর প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সঙ্গে এপস্টাইনের নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ২০০৮ সালে নাবালিকা পাচারের অভিযোগে এপস্টাইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরেও অনেক ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তার সাথে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।

ফর্মুলা ওয়ানে এপস্টাইনের ছায়া: জঁ টড ও ব্রিয়াটোর

নথি অনুযায়ী, সাবেক এফআইএ (FIA) প্রধান এবং ফেরারি বস জঁ টড ২০১৭ সালেও এপস্টাইনের নিউ ইয়র্কস্থ বাড়িতে গিয়েছিলেন। যদিও টড বিষয়টিকে কেবল ‘পরিচয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইমেইল চালাচালিতে দেখা যায়, এপস্টাইন টডকে ‘অদ্ভুত লোক’ বলে সম্বোধন করেছিলেন।

অন্যদিকে, আলপাইন এফ-ওয়ান দলের বর্তমান উপদেষ্টা ফ্লাভিও ব্রিয়াটোর-এর নামও রয়েছে এই তালিকায়। ২০১০ সালের ইমেইল অনুযায়ী, ব্রিয়াটোর এপস্টাইনের সাথে কথা বলতে চেয়েছিলেন এবং এমনকি লন্ডনের একটি প্রপার্টি কেনাবেচা নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল।

প্রিমিয়ার লিগ ও ক্লাবের মালিকদের সংশ্লিষ্টতা

ফুটবল বিশ্বও এই বিতর্ক থেকে মুক্ত নয়। চেলসির বর্তমান মালিক টড বোহলি ২০১১ সালে এপস্টাইনের সাথে অন্তত দুটি বৈঠক করেছিলেন বলে ইমেইলগুলো ইঙ্গিত দেয়। তখন বোহলি গাগেনহেইম পার্টনার্সের ম্যানেজিং পার্টনার ছিলেন।

ক্রিস্টাল প্যালেসের বিনিয়োগকারী জশ হ্যারিসও এপস্টাইনের সাথে ২০১৩ সালে প্রাতঃরাশ বৈঠক করেছিলেন। যদিও হ্যারিসের মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, হ্যারিস ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক রাখেননি এবং এপস্টাইনের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছিলেন। এছাড়া সেল্টিক মালিক ডারমট ডেসমন্ডের নামও বিনিয়োগ সংক্রান্ত ইমেইলে উল্লেখ পাওয়া গেছে।

এনএফএল ও অলিম্পিক কর্মকর্তাদের অস্বস্তি

নিউ ইয়র্ক জায়ান্টস-এর সহ-মালিক স্টিভ টিশ-এর সাথে এপস্টাইনের ইমেইল চালাচালি ছিল বেশ আপত্তিকর। ২০১৩ সালের এক ইমেইলে এপস্টাইন জনৈক রুশ নারীকে নিয়ে আসার প্রস্তাব দিলে টিশ জিজ্ঞেস করেছিলেন, “সে কি আনন্দদায়ক (is she fun)?” টিশ অবশ্য পরে এই মেলামেশার জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছেন।

২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসের চেয়ারম্যান কেসি ওয়াসারম্যান এবং সাবেক এফ-ওয়ান ড্রাইভার এডি আরভিনের নামও এসেছে গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের (এপস্টাইনের সহযোগী) সাথে সম্পর্কের সূত্রে। ওয়াসারম্যান ২০০৩ সালে ম্যাক্সওয়েলের সাথে যৌন আবেদনময়ী ইমেইল বিনিময়ের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

সতর্কবার্তা: নথিতে নাম থাকা মানেই তারা কোনো অপরাধে সরাসরি জড়িত এমনটি নয়। তবে এপস্টাইনের মতো একজন অপরাধীর সাথে ক্রীড়া বিশ্বের নীতিনির্ধারকদের এই ঘনিষ্ঠতা বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনের নৈতিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।