বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।আইসিসির পরিচালকদের তালিকায় এখনও বুলবুলের নাম।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রশাসনিক কাঠামোতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে এ মাসের শুরুতে। গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের একটি নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে। দেশের ইতিহাসের অন্যতম সফল ক্রিকেটার তামিম ইকবাল এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে বিসিবির চেয়ারে পরিবর্তন এলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) অফিশিয়াল নথিপত্রে এখনো এর প্রতিফলন ঘটেনি।

বিসিবিতে পরিবর্তন ও আইসিসির ধীরগতি

বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৭ এপ্রিল। বর্তমানে বিসিবির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি পূর্ণ সদস্য দেশের বোর্ড প্রধানই সাধারণত আইসিসির বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু আইসিসির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বিসিবির প্রতিনিধি হিসেবে এখনো আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নামই শোভা পাচ্ছে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তামিম দায়িত্ব নিলেও আইসিসির বোর্ড ডিরেক্টরদের তালিকায় তাঁর নাম এখনো ওঠেনি।

আরও পড়ুন:
বিসিবির কমিটি ভাঙার যত কারণ, যে কারণে তামিম ইকবাল দায়িত্বে

বিসিসিআই-এর তথ্যেও গড়মিল

শুধু বাংলাদেশই নয়, আইসিসি তথ্য হালনাগাদ করার ক্ষেত্রে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) ক্ষেত্রেও একই ধরণের উদাসীনতা দেখিয়েছে। বিসিসিআই-এর বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মিঠুন মানহাস। অথচ আইসিসির ওয়েবসাইটে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে এখনো দেবজিত সাইকিয়া ও রজার বিনির নাম দেখা যাচ্ছে।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, আইসিসি তাদের বর্তমান চেয়ারম্যান জয় শাহ বা প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তার নাম আপডেট করলেও সদস্য বোর্ডগুলোর প্রধানদের তথ্যে কোনো পরিবর্তন আনেনি।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট ও আইসিসির নিষেধাজ্ঞা শঙ্কা

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটেও (SLC) বইছে অস্থিরতার হাওয়া। বর্তমানে শাম্মি সিলভা ও বান্দুলা দিসানায়েকের নাম আইসিসির তালিকায় থাকলেও দেশটির সরকার নির্বাহী কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে পদত্যাগ করতে বলেছে।

দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জর্জরিত এসএলসিকে নতুন প্রশাসনের অধীনে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এই সরকারি হস্তক্ষেপের ফলে আইসিসি শ্রীলঙ্কাকে নিষিদ্ধ করে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

আরও পড়ুন:
বিসিবি নির্বাচন কবে, তারিখ জানিয়ে দিলেন তামিম ইকবাল

তামিমের লক্ষ্য ও নির্বাচন পরিকল্পনা

দায়িত্ব নেওয়ার পর তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য বিসিবির হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা। তিনি বলেন, “আমাদের মেয়াদ ৯০ দিন হলেও আমরা তার আগেই জুন মাসের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই।”

তামিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট কি নতুন কোনো দিশা পাবে? এখন নজর সেদিকেই।