সাবেক অধিনায়ক থেকে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আসা তামিম ইকবাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি বোর্ডে কেবল আলঙ্কারিক পদ দখল করতে আসেননি। সোমবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) উদ্বোধনী দিনে আম্পায়ারিং এবং বিসিবির অভ্যন্তরীণ নানা অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।
বিসিবির তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের বেতন নিয়ে দুর্নীতি এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘কমিটি টিম’ সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপগুলো এখন টক অফ দ্য কান্ট্রি।
‘কমিটি টিম’ ও আম্পায়ারিং নিয়ে কড়া বার্তা
ঘরোয়া ক্রিকেটে বছরের পর বছর ধরে চলা ‘কমিটি টিম’ বা প্রভাব খাটিয়ে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার কালচার বন্ধে সোচ্চার তামিম।
আরও পড়ুন:
তামিমের মাস্টারপ্ল্যানে ডিপিএলে ৫ কোটির বাজেট, ১১ দিনের চ্যালেঞ্জ
তিনি বলেন, “এখন কোনো কমিটি টিম নেই, তাই না? কমিটি টিম এখন আর কোনো সমস্যা নয়। আপনাদের মনে রাখতে হবে যে, যেহেতু অতীতে এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তাই প্রতিপক্ষ দলগুলোও এর সুযোগ নেয়।”
“আমি আশা করি আমার অধীনে কমিটি টিমের মতো কিছু ঘটবে না। সবাই সমান এবং সবার সমান সুযোগ পাওয়া উচিত।”
বেতনে নয়ছয়: ঝটিকা পদক্ষেপ
গত শনিবার গ্যালারি পরিদর্শনে গিয়ে মাঠের দুর্দশা এবং দর্শকদের অসুবিধার কথা শোনেন তামিম। সেখানে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বেতন ৩০০ টাকা শুনে খটকা লাগে তাঁর। অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তামিম বলেন, “আমি অবাক হয়েছিলাম। বিসিবি যেখানে প্রতি কর্মীর জন্য ৬৫০ টাকা দিচ্ছে, সেখানে তারা কেন ৩০০ টাকা পাচ্ছে?”
“একটি কোম্পানি টেন্ডার পায় কিন্তু বিসিবির কর্মীরাই তখন ৩০-৪০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী সরবরাহ করে। কোম্পানি টাকা নিয়ে অন্য একজনের মাধ্যমে কর্মীদের দেয় আর মাঝখানে টাকা রেখে দেয়।”
এই দুর্নীতি বন্ধে তিনি তাৎক্ষণিক যেসব সমাধান দিয়েছেন:
-প্রত্যেক কর্মীর নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
-বেতন সরাসরি অ্যাকাউন্টে যাবে, কোনো মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না।
-ব্যাংক পেমেন্টের প্রমাণ ছাড়া ফিন্যান্স বিভাগ কোনো বিল অনুমোদন করবে না।
-নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে।
ওভারটাইম দুর্নীতি ও মানবিক অবস্থান
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওভারটাইম নিয়েও ভয়াবহ জালিয়াতি খুঁজে পেয়েছেন তামিম। তিনি জানান, কারও ওভারটাইম ২৫ ঘণ্টা আবার কারও ৯০ ঘণ্টা দেখানো হচ্ছে, যা মূলত যোগসাজশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি কৌশল।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তামিম বলেন, “যারা ৭-১০ হাজার টাকায় পরিবার চালায়, তাদের থেকে ৫০০ টাকা নেওয়াও বড় অপরাধ। এই বিষয়ে আমি কোনো ছাড় দেবো না, এক শতাংশও না।”
তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমি নিশ্চিত করতে চাই—কোনো গরিব মানুষের ক্ষতি যেন না হয়।”
“আমি আনন্দ করতে আসিনি”
বিসিবির সংস্কার নিয়ে নিজের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তামিম বলেন, “আমি এখানে বিসিবি সভাপতি হিসেবে শুধু আনন্দ করতে আসিনি। গত ১৭-১৮ বছর ধরে আমি বাইরে থেকে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আমি যদি এখন সেগুলো সংশোধন না করি, তবে আমার আগের কথাগুলোর কোনো মূল্য থাকবে না।”
২০০৭ সালে স্টেডিয়াম নির্মাণের পর থেকে শৌচাগার বা গ্যালারির সংস্কার না হওয়াকেও দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
ডিপিএলে ভাত-ভর্তার দিন শেষ: তামিমের কড়াকড়ি, ফোন নিষিদ্ধ

