সামনে চ্যালেঞ্জিং টার্গেট। প্রয়োজন ব্যাট হাতে দৃঢ়তা দেখানো, ঝড়ো সূচনা। কিন্তু কোথায় কী! ৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ হয়ে পড়লো এলোমেলো, বিপর্যস্ত।

এই বিপর্যয় থেকে বেরিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ নিতে পারলেন না বাদবাকিরাও। তাওহীদ হৃদয় চেষ্টা করলেন, ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেললেন, কিন্তু সঙ্গ পেলেন কই!

বাংলাদেশ তাই আটকে গেল ৯ উইকেটে ১৪২ রানে। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মানতে হয়েছে ৩৯ রানের বড় পরাজয়।

তানজিদ তামিমকে দিয়ে বিপর্যয়ের শুরু। বাঁহাতি স্পিনার ম‍্যাথু হামফ্রিজের স্টাম্পে থাকা বল মিড অনের উপর দিয়ে পাঠাতে চেয়েছিলেন বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ (৫ বলে ২)। কিন্তু টাইমিং হয়নি, খানিকটা পিছিয়ে গিয়ে ক‍্যাচ নেন হ‍্যারি টেক্টর।

লিটন দাস টিকলেন কেবল ৩ বল। মার্ক অ‍্যাডায়ারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে দুর্বল স্কয়ার কাট করেন অধিনায়ক। ব‍্যাকওয়ার্ড পয়েন্টের ফিল্ডার কিছুটা পিছিয়ে সহজ ক্যাচ নিতে ভুল করেননি।

পারভেজ হোসেন ইমন পাতা ফাঁদে পা রেখে ৬ বলে ১ রান করে বিদায়। তার জন্য সীমানায় দুই ফিল্ডার রাখেন অ্যাডায়ার। অফ স্টাম্পের বাইরে শর্ট বল দেন, পুল করার লোভ ছাড়তে পারেননি ইমন। ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ।

সাইফ হাসানও করতে পারলেন না ভালো কিছু। ১৩ বলে ৬ রান করা সাফই ব‍্যারি ম‍্যাককার্থির বলে বোল্ড হয়ে ফিরেন।

৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৪ উইকেটে ২০!

সাম্প্রতিক সময়ে বাজে ফর্মে চাপের মধ্যে আছেন জাকের আলী। এ ম্যাচে দৃঢ়তা দেখানোর সুযোগ ছিল তার। কিন্তু ম্যাককার্থির অফ স্টাম্পের বাইরের বল টেনে নিয়ে ছক্কায় উড়াতে গিয়ে শেষ তার ১৬ বলে ২০ রানের ইনিংস।

জাকেরের বিদায়ে ভাঙে তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে তার ৩৪ বলে ৪৮ রানের জুটি।

এরপর ম্যাথু হামফ্রিজ একেবারে যেন গুড়িয়ে দেন বাংলাদেশের ব্যাটিং। তাকে ছক্কায় উড়াতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়লেন তানজিম হাসান সাকিব (৬ বলে ৫)।

দুই বল পর স্টাম্পে থাকা ডেলিভারির লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ রিশাদ (৩ বরে ০)। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি তার। পরের বলেই স্টাম্পড হয়ে ফিরেন নাসুম।

১৩ ওভারে ৭৪ রান তুলতেই নেই ৮ উইকেট! একশ রানের মধ্যে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তখন। কিন্তু টিকে ছিলেন হৃদয়।

একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিল দেখলেন হৃদয়; কিন্তু বিচলিত হলেন না। নিজের কাজটুকু করতে যেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তার ব্যাট তাই চললো দারুণ গতিতে, মেলে ধরলেন শটের মেলা। ৩৪ বলে তুলে নেন ফিফটি। টি-টোয়েন্টিতে এটি তার পঞ্চম ফিফটি।

শরিফুলকে নিয়ে হৃদয় গড়ে তুলেন ৪৮ রানের মান বাঁচানো জুটি। ১৩ বলে ১২ রান করে শরিফুল বিদায় নিলে ভাঙে সেই জুটি। নবম উইকেটে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। আগেরটি ছিল ৪৪ রানের, গড়েছিলেন জাকের আলী ও হাসান মাহমুদ।

তাওহীদ হৃদয় নিঃসঙ্গ শেরপার মতো লড়াই চালিয়ে গেলেন। শেষ অবধি অপরাজিত রইলেন ৫০ বলে ৮৩ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলে। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা।

বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ১৪২ রান তুলে ম্যাচ হারলে ৩৯ রানে।

আইরিশদের পক্ষে ম‍্যাথু হামফ্রিজ ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। মার্ক অ্যাডায়ার ৪ ওভারে ২০ রানে ২ উইকেট, ব্যারি ম্যাককার্থি ৪ ওভারে ২৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় আইরিশরা। ৪.১ ওভারেই ৪০ রান বোর্ডে যোগ করেন পল স্টার্লিং ও টিম টেক্টর। এই জুটি ভাঙে স্টার্লিংয়ের বিদায়ে। তানজিম হাসান সাকিবের বলে সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ১৮ বলে ২১ রান করেন আইরিশ দলপতি।

ওপেনিং জুটি ভাঙলেও ঝড় থামেনি সফরকারীদের। হ্যারি টেক্টরের ব্যাট হয়ে ওঠে ধারালো তরবারি; কচুকাটা করে টাইগার বোলারদের।

দুই ভাই টিম টেক্টর ও হ্যারি টেক্টরের জুটি অবশ্য বড় হয়নি। দলীয় ৭১ রানে ফিরে যান টিম। ১৯ বলে ৬টি চারে ৩২ রান করে রিশাদের বলে তানজিদ তামিমের হাতে ক্যাচ দেন টিম।

লরকান টাকার টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ১৪ বলে ১৮ করে শরিফুলের শিকারে পরিণত হন তিনি। এরপর ৪৪ রানের জুটি গড়েন হ্যারি টেক্টর ও কার্টিস ক্যাম্ফার। জুটি ভাঙে ক্যাম্ফারের বিদায়ে; ১৭ বলে ২৪ রান করে তিনি তানজিম সাকিবের বলে ইমনের হাতে ক্যাচ দেন।

হ্যারি টেক্টর রীতিমতো বিধ্বংসী ছিলেন। ৪৫ বলে ৫টি ছক্কা ও ১টি চারে ৬৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ব্যাটেই মূলত ১৮১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় সফরকারীরা।

তানজিম সাকিব ৪ ওভারে ২ উইকেট নিলেও খরচ করেন ৪১ রান। মোস্তাফিজুর রহমান দারুণ বোলিংয়ে ৪ ওভারে দেন ২৩ রান, তবে উইকেট পাননি। রিশাদ হোসেন ৪ ওভারে ৩৪ রানে ১ উইকেট নেন। শরিফুল ইসলামও ছিলেন খরুচে, ১ উইকেট নেন ৪২ রানে।