ক্রিকেটের আড্ডায় সৌম্য সরকার আলোচনা এড়াতে পারেন না। মাঠে ব্যাট হাতে তার ছন্দ দেখে মনে হয়—টি–টোয়েন্টি যেন তার জন্যই গড়া। ভালো বলের সঙ্গে খেলতে পারদর্শিতা, এক ওভারে দুই–তিনটি চমকপ্রদ শট, দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে, সৌম্যর ব্যাটিং মানায় ছোট ফরম্যাটের রোমাঞ্চ।
কিন্তু পরিসংখ্যানে বাস্তব কিছুটা অন্যরকম। স্বীকৃত টি–টোয়েন্টিতে অন্তত ২৫০ ম্যাচ খেলা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সৌম্যর স্ট্রাইক রেট ১১৯.৫৮, যা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ওপেনার লেন্ডল সিমন্সের (১১৯.১৯) চেয়ে সামান্য বেশি। ব্যাটিং গড়ও মাত্র ১৯.৮৫—সবচেয়ে কম। শহীদ আফ্রিদি, জেসন হোল্ডার বা ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের সঙ্গে তুলনা করলে এই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়, যদিও তিনজনই অলরাউন্ডার।
সৌম্যর টি–টোয়েন্টি পারফরম্যান্সের অন্যরকম বৈপরীত্য দেখা যায় সাম্প্রতিক সময়ে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ১৪ ইনিংসে ৬৩৩ রান, গড় ৪৫.২১, স্ট্রাইক রেট ৭৬.৪৪—লম্বা ফরম্যাটে দারুণ ধারাবাহিকতা। বিপরীতে, বিপিএলে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে শেষ দুই ম্যাচে রান মাত্র ১ ও ৬। আজকের ম্যাচে ফিফটি (৫৯) পেয়েছেন, তাই আশা করা যায় ফেরার পথ খুলছে।
অন্তত ২৫০ ম্যাচ খেলা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সৌম্যর তুলনায় পাকিস্তানের সোহেল তানভীর ও ইংল্যান্ডের লিয়াম ডসনের স্ট্রাইক রেট বেশি। তবে স্ট্রাইক রেটে আশপাশে মাহমুদউল্লাহ, তামিম ইকবাল, গৌতম গম্ভীর কিংবা জেপি ডুমিনির মতো ব্যাটসম্যানও আছেন। গড় ও স্ট্রাইক রেট মিলিয়ে দেখা যায়, সৌম্যর সক্ষমতা থাকলেও ফলাফল অনিশ্চিত।
Read More:
কষ্টে আছেন সৌম্য সরকার
ট্র্যাকের বাইরে নেই সৌম্য। ফিফটির মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন—যে সংস্করণ তার জন্য আদর্শ, সেটাতেই রান করতে হবে। টি–টোয়েন্টি মায়া আছে তার ব্যাটে, কিন্তু পরিসংখ্যানে ছায়া কাটাতে হলে নিয়মিত ধারাবাহিকতা আনতেই হবে।
অতএব, সৌম্য সরকারকে শুধু রোমাঞ্চের ব্যাটসম্যান হিসেবে নয়, পরিসংখ্যানে আত্মবিশ্লেষণ করতে শেখা ব্যাটসম্যান হিসেবেও দেখা দরকার। পথটি স্পষ্ট—প্রত্যেক রান, প্রতিটি ম্যাচ, এবং প্রতিটি শটই হতে হবে তার নতুন বাস্তবতার অংশ।

