Marc Guehi Manchester City

ম্যানচেস্টার সিটির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দেখলে বোঝা যাচ্ছিল—রক্ষণে কোথাও একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ইনজুরি, তরুণদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা আর অভিজ্ঞ নেতৃত্বের অভাব মিলিয়ে পেপ গার্দিওলার দলের ডিফেন্স লাইনে যে চাপ বাড়ছিল, সেটারই সরাসরি প্রতিফলন ঘটেছে মাঠের ফলাফলে। সেই বাস্তবতা থেকেই ক্রিস্টাল প্যালেস অধিনায়ক মার্ক গুহিকে দলে টেনেছে সিটি।

২০ মিলিয়ন পাউন্ডে ইংলিশ ডিফেন্ডারকে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত শুধু চলতি মৌসুমের প্রয়োজন মেটানোর নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখছে ক্লাব।

কেন গুহির দিকে ঝুঁকল সিটি

চলতি মৌসুমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রক্ষণভাগে সমস্যায় পড়েছে ম্যানসিটি। যোস্কো গভার্ডিওল ও রুবেন দিয়াসের ইনজুরিতে গার্দিওলাকে এমন এক ব্যাকলাইনে নামতে হয়েছে, যেখানে তিনজন ডিফেন্ডারই ২১ বছরের নিচে। অভিজ্ঞতার এই ঘাটতিই প্রতিপক্ষের কাছে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

গুহি সেখানে একেবারেই আলাদা প্রোফাইল। প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত পারফর্ম করা একজন সেন্টার-ব্যাক, যিনি শুধু ডিফেন্স করেন না—খেলার গতি নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখেন। গত মৌসুম থেকে প্রিমিয়ার লিগের সেন্টার-ব্যাকদের মধ্যে ক্লিন শিট, ডুয়েল জয়, এয়ারিয়াল ডুয়েল ও লাইন-ব্রেকিং পাস—সব ক্ষেত্রেই তিনি শীর্ষ দশে।

চলতি মৌসুমে ইন্টারসেপশন, রিকভারি আর ডুয়েল সাকসেস রেটেও তাঁর অবস্থান শীর্ষ সারিতে। অর্থাৎ, বল ছাড়া যেমন কার্যকর, বল পায়ে তেমনই নির্ভরযোগ্য।

আরেকটি বড় দিক—নেতৃত্ব। গত মৌসুমে এফএ কাপ ফাইনালে ম্যানসিটিকে হারিয়ে শিরোপা জেতা ক্রিস্টাল প্যালেসের নেতৃত্বে ছিলেন এই গুহিই। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়েও ইউরো ২০২৪ ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর।

গার্দিওলার সিস্টেমে গুহির জায়গা কোথায়

ম্যানসিটির ফুটবল দর্শনের মূল ভিত্তি বল দখল ও প্রেসিং। সেক্ষেত্রে সেন্টার-ব্যাকদের দায়িত্ব শুধু রক্ষণ সামলানো নয়, বরং আক্রমণের সূচনা করাও। গুহি সেই কাজটা স্বচ্ছন্দেই পারেন।

ডান কিংবা বাঁ—দুই পাশেই খেলতে পারেন তিনি। চার জনের ডিফেন্স হোক বা তিন জনের ব্যাকলাইন—সব ফরমেশনেই অভ্যস্ত। বল নিয়ে চাপমুক্তভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আছে, প্রয়োজনে লম্বা পাসে খেলার দিক বদলাতেও পারেন।

গত মৌসুমে প্রতি ৯০ মিনিটে গড়ে ৭.৩টি লং পাস খেলেছেন গুহি, যেখানে পাসের সাফল্যের হার ছিল প্রায় ৪৬ শতাংশ। গভীর ডিফেন্সে বসে থাকা দলের বিপক্ষে এমন সক্ষমতা সিটির জন্য বড় সম্পদ।

ফুলব্যাকরা যখন আক্রমণে উঠে যায়, তখন মাঝমাঠের ফাঁকা জায়গা সামলানোর দায়িত্ব পড়ে সেন্টার-ব্যাকদের ওপর। প্রতিপক্ষ অর্ধে উঠে গিয়ে দু’পায়ে ট্যাকল করার দক্ষতা গুহিকে এই জায়গায় বিশেষভাবে কার্যকর করে তোলে।

গার্দিওলা তরুণ ডিফেন্ডারদের সম্ভাবনায় বিশ্বাসী হলেও, রুবেন দিয়াস অনুপস্থিত থাকলে রক্ষণভাগে একজন ‘ভয়েস’ দরকার—সেই অভাব পূরণ করবেন গুহি।

ভবিষ্যৎ ভাবনায় সিটির বিনিয়োগ

গুহির সঙ্গে একই ট্রান্সফার উইন্ডোতে অ্যান্টনি সেমেনিওকে দলে ভেড়ানো স্পষ্ট করে দিয়েছে—সিটি শুধু তাৎক্ষণিক সমাধান নয়, ভবিষ্যতের জন্য দল গড়ছে। পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদের চুক্তি, তুলনামূলক কম ট্রান্সফার ফি আর প্রাইম বয়সের খেলোয়াড়—সব মিলিয়ে গুহিকে নেওয়া মোটেও হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়।

জন স্টোনস ও নাথান আকে দুজনই ইনজুরিপ্রবণ, ক্যারিয়ারের শেষভাগে। সেই জায়গায় ২৫ বছর বয়সী, প্রিমিয়ার লিগ পরীক্ষিত একজন ডিফেন্ডারকে দলে আনা সিটির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার বার্তাই দিচ্ছে।

শিরোপার দৌড়ে পিছিয়ে পড়লেও, গার্দিওলার সিটি যে নিজেদের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে এখনই কাজ শুরু করেছে—গুহি সাইনিং তারই পরিষ্কার উদাহরণ।