ম্যানচেস্টার সিটির আকাশী নীল শিবিরে এখন পরিবর্তনের চোরা হাওয়া। গত এক দশকের সাফল্যে যারা অভ্যস্ত, তাদের জন্য ‘পরিবর্তন’ শব্দটি ভীতিকর হতে পারত। কিন্তু জানুয়ারি দলবদলের বাজার থেকে সিটির সাম্প্রতিক কার্যকলাপ এক ভিন্ন বার্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কেভিন ডি ব্রুইনা কিংবা এদেরসনের মতো স্তম্ভরা যখন একে একে বিদায় নিচ্ছেন, তখন আন্তোনি সেমেনিয়ো কিংবা মার্ক গুয়েহিদের অন্তর্ভুক্তি কেবল শক্তিবৃদ্ধি নয়, বরং গার্দিওলা-পরবর্তী যুগের এক সুপরিকল্পিত মহড়া।
আভা বনাম বাস্তবতা: গার্দিওলা কি শেষলগ্নে?
২০২৪ সালের শেষে চুক্তির মেয়াদ বাড়লেও গার্দিওলার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিহাদে এক ‘দৃশ্যমান অনিশ্চয়তা’ কাজ করছে। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, ৫৬ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড সম্ভবত তার চুক্তির শেষ ১৮ মাস অতিবাহিত করছেন।
সিটির জন্য আশার কথা হলো, ক্লাব কর্তৃপক্ষ এখন আর কেবল পেপের ‘ব্যক্তিত্ব’ বা ‘আভা’ ব্যবহার করে বড় তারকাদের প্রলুব্ধ করছে না। সেমেনিয়ো ও গুয়েহির মতো ফুটবলাররা ৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে সই করেছেন এটি জেনেই যে, তাদের চুক্তির মেয়াদের সিংহভাগ সময় হয়তো ডাগআউটে গার্দিওলা থাকবেন না।
হুগো ভিয়ানা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার নতুন দর্শন
টিক্সি বেগিরিস্তেইনের উত্তরাধিকারী হিসেবে হুগো ভিয়ানার অভিষেক হয়েছে বেশ দাপুটে। সিটির নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন আর একক কোনো ম্যানেজারের মর্জির ওপর দাঁড়িয়ে নেই। ভিয়ানার কৌশলে ফুটে উঠছে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের ছবি।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রুবেন আমোরিমের আগমনী বার্তার মাঝেও ভিয়ানা সিটির জন্য রাইয়ান চেরকি বা জিয়ানলুইজি ডোনারুমার মতো বিকল্প খুঁজে নিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে, ম্যানচেস্টার সিটির ব্র্যান্ড ভ্যালু এখন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে।
চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পথরেখা
অবশ্যই ১১৫টি আর্থিক বিধিভঙ্গের অভিযোগের আইনি লড়াই সিটির মাথার ওপর ড্যামোক্লেসের তলোয়ারের মতো ঝুলছে। তবে ক্লাব চেয়ারম্যান খালদুন আল মোবারকের সুযোগ্য নেতৃত্বে সিটি যে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত, তার প্রমাণ তাদের মাঠ ও মাঠের বাইরের সংস্কার। ডি ব্রুইনা বা ওয়াকার পরবর্তী যুগে ইলিওট অ্যান্ডারসন কিংবা ভিতোর রেইসদের নিয়ে যে নতুন কাঠামো তৈরি হচ্ছে, তা গার্দিওলা পরবর্তী ‘শূন্যতা’ পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে।
পেপ গার্দিওলা হয়তো ১৯তম ট্রফি জয়ের হাতছানি নিয়ে কারাবাও কাপের ফাইনালে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে মাঠের সাফল্যের চেয়েও বড় সাফল্য সম্ভবত এটাই যে, ম্যানচেস্টার সিটি এখন আর কোনো জাদুকরের ওপর নির্ভরশীল নয়; তারা এখন নিজেরাই এক স্বয়ংসম্পূর্ণ জাদুর কাঠি।

