সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সবুজ ঘাসে যখন তারা দৌড়াতেন, তখন মনে হতো কোনো অতিমানবীয় গতির লড়াই চলছে। রিয়াল মাদ্রিদের সেই সোনালী ‘BBC’ যুগের অন্যতম দুই স্তম্ভ—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও গ্যারেথ বেল। সঙ্গে ছিলেন করিম বেনজেমা। বছরের পর বছর ধরে সমর্থকদের মনে প্রশ্ন ছিল, বল পায়ে দৌড়ে কে বেশি দ্রুত? দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে সম্প্রতি ‘স্টিক টু ফুটবল’ পডকাস্টে এই বিতর্কে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন গ্যারেথ বেল।
রোনালদোর চেয়ে এগিয়ে ছিলেন বেল?
২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ বছর রিয়ালে কাটিয়েছেন বেল। এর মধ্যে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রোনালদোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জয় করেছেন অসংখ্য শিরোপা। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই রোনালদো তাঁর অবিশ্বাস্য অ্যাথলেটিসিজম আর ক্ষিপ্রতার জন্য পরিচিত ছিলেন। অন্যদিকে, গ্যারেথ বেলের লম্বা দীর্ঘ পদক্ষেপ (Long Stride) আর কয়েক সেকেন্ডে মাঠের অর্ধেক দূরত্ব পার করে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল অনন্য।
পডকাস্টে যখন প্রশ্ন তোলা হলো রিয়াল মাদ্রিদ দলে সবচেয়ে দ্রুতগতির খেলোয়াড় কে ছিলেন? বেল স্মিত হেসে জবাব দিলেন এভাবে-
“ক্রিস্টিয়ানো হয়তো এটা মানবে না, তার যুক্তি অবশ্যই আলাদা হবে। তবে আমি বিশ্বাস করতে চাই যে, আমিই (রিয়াল মাদ্রিদ দলে) সবচেয়ে দ্রুতগতির খেলোয়াড় ছিলাম।”
৩৬.৯ বনাম ৩৮.৬
বেলের এই আত্মবিশ্বাসী দাবির বিপরীতে ফুটবল পরিসংখ্যান এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপাত্ত কিছুটা ভিন্ন কথা বলছে। বিভিন্ন স্টাডিতে দেখা গেছে, গ্যারেথ বেলের সর্বোচ্চ গতি রেকর্ড করা হয়েছিল ঘণ্টায় ৩৬.৯ কিলোমিটার। অন্যদিকে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সর্বোচ্চ গতি পৌঁছেছিল ঘণ্টায় ৩৮.৬ কিলোমিটার পর্যন্ত।
যদিও ব্যবধানটা খুব সামান্য, কিন্তু পরিসংখ্যানে সিআর সেভেনই কিছুটা এগিয়ে। তবে বেলের লম্বা দৌড় এবং বল ড্রিবলিংয়ের সময় গতি ধরে রাখার ক্ষমতা তাঁকে অনেক সময় মাঠে বেশি দ্রুত মনে হতে বাধ্য করত।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, সাফল্যের রসায়ন
মাঠের বাইরের এই গতির বিতর্ক কখনোই মাঠের ভেতরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। বরং একে অপরের গতিকে ব্যবহার করে রিয়াল মাদ্রিদকে এনে দিয়েছেন অভাবনীয় সাফল্য। এই জুটি একসাথে খেলেছেন ১৫৭টি ম্যাচ, যার মধ্যে ১০৬টিতেই জয় পেয়েছে ‘লস ব্লাঙ্কোস’রা। তাদের ঝুলিতে রয়েছে ৪টি চ্যাম্পিয়নস লিগ, ৩টি ক্লাব বিশ্বকাপ এবং ১টি লা লিগাসহ মোট ১৩টি শিরোপা।
বিতর্ক হয়তো চলতেই থাকবে—কে বেশি দ্রুত ছিলেন? তবে ফুটবল প্রেমীদের কাছে ‘BBC’ ত্রয়ীর সেই গতির ঝড় সবসময়ই আধুনিক ফুটবলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আতঙ্ক হিসেবে স্মরিত হবে।

