চলতি প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে কর্নার থেকে ১৬ গোল করে রীতিমতো তটস্থ করে রেখেছে মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল। দলগুলো যখন বক্সের ভেতরে বেশি ডিফেন্ডার রেখেও গানার্সদের আটকাতে পারছে না, তখন ইংলিশ ফুটবলের ষষ্ঠ স্তর ‘ন্যাশনাল লিগ নর্থ’-এর দল কিডারমিনিস্টার হ্যারিয়ার্স দেখাল এক ভিন্ন পথ। কর্নার ঠেকানোর সময় তারা ৫ জন খেলোয়াড়কে আক্রমণভাগে রেখে প্রতিপক্ষের ওপর পাল্টা চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছে।
রক্ষণ নয়, পাল্টা আক্রমণে বাজিমাত
সাধারণত কর্নার ঠেকানোর সময় সব খেলোয়াড়কে বক্সে রাখা হয়। কিন্তু কিডারমিনিস্টার ম্যানেজার অ্যাডাম মারে আলফ্রেটন টাউনের বিপক্ষে ৮৯ মিনিটে ৫ জন খেলোয়াড়কে আক্রমণভাগে রেখে দেন। ফলাফল? কর্নার থেকে বল কেড়ে নিয়েই তারা পাল্টা আক্রমণ থেকে জয়সূচক গোল তুলে নেয়।
মারে বলেন, “সবাই যখন বক্সের ভেতর বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করে, তখন কেন আমরা উল্টোটা করব না? প্রতিপক্ষের শক্তির জায়গাকেই আমরা আমাদের আক্রমণের সুযোগে পরিণত করতে চাই।”
আর্সেনালকে রুখতে কি এই পথ?
আর্সেনালের ক্ষেত্রে এই কৌশল কেন কার্যকর হতে পারে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক গোলরক্ষক শে গিভেন। তাঁর মতে, যদি কোনো দল বক্সের বাইরে ৩-৪ জন খেলোয়াড়কে কাউন্টার অ্যাটাকের জন্য রেখে দেয়, তবে আর্সেনাল বাধ্য হবে তাদের ৪-৫ জন খেলোয়াড়কে পেছনে বসিয়ে রাখতে। এতে বক্সে খেলোয়াড় সংখ্যা কমবে এবং গোলরক্ষকও নড়াচড়া করার বেশি জায়গা পাবেন।
আরও পড়ুন: আর্তেতার মাস্টারস্ট্রোক: আর্সেনালের ডাগআউটে ‘বড় ভাই’ হেইঞ্জ!
‘বক্সের বাইরে’ চিন্তা
কিডারমিনিস্টার গত মঙ্গলবার পিটারবরো স্পোর্টসের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জেতার ম্যাচেও এই ছক ব্যবহার করেছে। অ্যাডাম মারে মজা করে বলেছেন, প্রয়োজনে তারা সামনে ৭ জন খেলোয়াড় রেখেও প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে পারেন।
মোনাকো বা ক্রিস্টাল প্যালেসের মতো ক্লাবগুলো আর্সেনালের বিপক্ষে ২-৩ জন খেলোয়াড় সামনে রাখার চেষ্টা করলেও ৫ জন রেখে খেলার এই ‘হাই-রিস্ক’ কৌশলটি প্রিমিয়ার লিগে নতুন কোনো বিতর্কের জন্ম দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আর্তেতার কর্নার-মাস্টারদের দমনে এখন ছোট দলগুলোর এই ‘বিপ্লবী’ ছকই কি তবে সমাধান?

