উইকেটকিপিংয়ে ব্যস্ত লিটন দাস।অধিনায়কত্ব ও উইকেটকিপিং নিয়ে কথা বলেছেন লিটন দাস।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে লিটন দাসের নেতৃত্বে। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও বিসিবি তাঁর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেনি। বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লিটনকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন ফরম্যাটেই অধিনায়কত্ব এবং উইকেটকিপিংয়ের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনে লিটন তাঁর এই দ্বৈত ভূমিকা এবং অধিনায়ক হিসেবে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।

অধিনায়ক হিসেবে বিসিবির দীর্ঘমেয়াদী আস্থা

লিটন দাসের অধিনায়কত্ব নিয়ে গত কয়েক মাসে অনেক গুঞ্জন থাকলেও বোর্ড তাঁর চুক্তি বাড়িয়েছে। এখন থেকে ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত লিটনই থাকছেন টাইগারদের কান্ডারি।

বিসিবির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে লিটন বলেন, “তারা মনে করেছে আমি যোগ্য, তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার কাজ হলো বোর্ড এবং দলের আস্থার প্রতিদান দেওয়া।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য দল যেভাবে গোছানো হয়েছিল, সেই একই প্রক্রিয়ায় তাঁরা ২০২৮ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নেবেন। লিটনের মতে, হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকায় একটি শক্তিশালী দল তৈরি করা এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: তামিম ইকবালের ‘চমক’: লিটনদের জন্য ২ লাখ ৯০ হাজারের বাইক!

তিন ফরম্যাটে কিপিং: অভিজ্ঞতার নতুন মাত্রা

লিটন দাস এখন শুধু নির্দিষ্ট কোনো ফরম্যাটে নয়, বরং ওয়ানডে, টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি—তিন ফরম্যাটেই উইকেটকিপিং গ্লাভস হাতে থাকছেন। এটি তাঁর জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি অভিজ্ঞতার দিক থেকেও এক নতুন উচ্চতা।

লিটন বলেন, “যেহেতু এখন তিনটা ফরম্যাটেই কিপিং করছি, তাই আমার অভিজ্ঞতা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। আগে হয়তো কোনো ফরম্যাটে ফিল্ডিং করতাম, আবার টেস্টে কিপিং করতাম। কিন্তু এখন নিজের ভূমিকা সম্পর্কে আমি পুরোপুরি জানি।”

লিটন মনে করেন, কিপিংয়ের এই ধারাবাহিকতা তাঁকে উইকেটের পেছন থেকে খেলা বুঝতে এবং অধিনায়ক হিসেবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে আরও বেশি সাহায্য করবে।

আরও পড়ুন: ‘৭০ লাখ না ৭৫?’ চমকালেন লিটন দাস, সংবাদ সম্মেলনে হাসাহাসি

অধিনায়কের নতুন ব্যাটিং দর্শন

অধিনায়কত্বের চাপ যাতে ব্যাটিংয়ে প্রভাব না ফেলে, সেদিকেও নজর দিচ্ছেন লিটন। তিনি মনে করেন, টি-টোয়েন্টিতে ব্যর্থতা মেনে নেওয়াটাই সফল হওয়ার প্রথম ধাপ।

তাঁর মতে, “আপনাকে আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলতে হবে। আর আক্রমণাত্মক হতে গেলে মাঝেমধ্যে ব্যর্থ হবেন—এটাই স্বাভাবিক। আমি চেষ্টা করছি উইকেটে বেশিক্ষণ সময় কাটাতে, কারণ আপনি যত সময় দেবেন, রান পাওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে।”

শেষ দুই সিরিজে বড় রান না পেলেও দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থাকাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি।