জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচের দৃশ্য।জাতীয় ক্রিকেট লিগে পরিবর্তন আনছে বিসিবি। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের একটি আক্ষেপ ছিল যে, হাতেগোনা কিছু ক্রিকেটারই সব টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পান। এই ‘পিকনিক ক্রিকেট’ সংস্কৃতি ভেঙে তৃণমূলের ক্রিকেটারদের জন্য সুযোগ বাড়াতে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটকে পেশাদার করতে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।

বিভাগীয় দলের ‘সেকেন্ড ইলেভেন’ ও তিন দিনের টুর্নামেন্ট

তামিম জানান, কাউন্টি ক্রিকেটের ফার্স্ট ও সেকেন্ড ইলেভেন ব্যবস্থার মতো এই মৌসুম থেকেই এনসিএল-এর প্রতিটি বিভাগীয় দলের জন্য দ্বিতীয় একাদশ গঠন করা হবে। তারা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের সমান্তরালে তিন দিনের টুর্নামেন্টে অংশ নেবে।

তামিম বলেন, “এখন থেকে এনসিএল যখন শুরু হবে, প্রতিটি বিভাগের দুটি করে টিম থাকবে—ফার্স্ট ইলেভেন ও সেকেন্ড ইলেভেন। এর ফলে আরও ১০০-১৫০ বা ২০০ ক্রিকেটার খেলার মধ্যে আসবে। যারা জাতীয় লিগের মূল দলে সুযোগ পাচ্ছিল না, তারা নিয়মিত খেলার সুযোগ পাবে।”

আরও পড়ুন: বিসিবির মাস্টারপ্ল্যান: মিরপুরে আর নয় ‘মান্ধাতার আমল’, উইকেটে বিপ্লব!

পিকনিক ক্রিকেটের ইতি: পারফরম্যান্সই মাপকাঠি

জাতীয় লিগের ক্ষেত্রে প্রায়ই ‘পিকনিক ক্রিকেট’ শব্দটা ব্যবহার করা হয়। তামিম মনে করেন, এই সংস্কৃতি পরিবর্তনের জন্য দ্বিতীয় একাদশ অত্যন্ত কার্যকর হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এখন আর কোনো বিভাগীয় দলে নির্দিষ্ট কোনো পজিশনের খেলোয়াড় না থাকলে বাসা থেকে কাউকে তুলে আনতে হবে না; বরং সেকেন্ড ইলেভেনে যারা ভালো পারফর্ম করবে, তাদের ফার্স্ট ইলেভেনে জায়গা দেওয়া হবে।

বিসিবি সভাপতির মতে, এর ফলে খেলোয়াড়দের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। এছাড়া ম্যাচ ফিসহ সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন দ্বিতীয় একাদশের খেলোয়াড়রাও।

হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে পদ্ধতি ও স্টেডিয়াম সংস্কার

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে পদ্ধতি আবার ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন তামিম। এছাড়া দর্শকদের স্বস্তির কথা মাথায় রেখে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের পূর্ব গ্যালারিতে ২৭ হাজার স্কয়ার ফুট জুড়ে ক্যানোপি বা ছাদ বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পুরো স্টেডিয়ামকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার প্রাথমিক পরিকল্পনাও রয়েছে বোর্ডের।

সাকিব, মাশরাফি ও দুর্জয় প্রসঙ্গ

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে তিন সাবেক অধিনায়ককে নিয়েও কথা বলেন তামিম। সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি মাশরাফি বিন মুর্তজা ও নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বর্তমান আইনি পরিস্থিতির কথাও মনে করিয়ে দেন।

তামিম জানান, বিসিবি তাঁদের ক্রিকেটীয় দিক থেকে যেকোনো সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা আইনি সমস্যাগুলো সমাধান করে আসতে পারলে বোর্ড তাঁদের খোলামনে স্বাগত জানাবে।

বিসিবি নির্বাচনের দিনক্ষণ

অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন তামিম। আগামী ৩ মে বোর্ড সভায় নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং এর ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই বিসিবির নতুন পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

আরও পড়ুন: বিসিবি নির্বাচন কবে, তারিখ জানিয়ে দিলেন তামিম ইকবাল