সদ্য সমাপ্ত পাকিস্তান সুপার লিগের (PSL) নবম আসরে গতির ঝড় তুলে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভর করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পেশোয়ার জালমি। তবে টুর্নামেন্ট জুড়ে গতির আতঙ্ক ছড়ালেও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) ঘোষিত আসরের সেরা একাদশে জায়গা হয়নি এই গতিদানবের। জায়গা হয়নি অন্য কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারেরও।
এবারের আসরে নাহিদ রানা ছাড়াও মোট ৬ জন বাংলাদেশি খেলোয়াড় দল পেয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ৫ জন মাঠে নামার সুযোগ পান। তবে রানার মতো আলোচনা আর কাউকে নিয়ে হয়নি।
গতির ঝড় ও কিংবদন্তিদের প্রশংসা
এবারের পিএসএলে নাহিদ রানা ছিলেন ব্যাটারদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। নিয়মিত ১৪৫-১৫০ কিমি গতিতে বোলিং করে তিনি কাবু করেছেন বাঘা বাঘা সব ব্যাটারকে। কখনো কখনো ১৫০ কিমিও ছাড়িয়ে গেছে তাঁর বলের গতি।
তাঁর এই অবিশ্বাস্য গতির প্রশংসা করতে ভোলেননি কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরামও। টুর্নামেন্ট চলাকালীন রানার লাইন-লেন্থ এবং গতি দেখে ওয়াসিম আকরাম মুগ্ধতা প্রকাশ করেছিলেন। মূলত গতি আর লাইন লেন্থের নিয়ন্ত্রণের কারণেই এবারের আসরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি।
একাদশে নেই কেন নাহিদ?
নাহিদ রানা চ্যাম্পিয়ন দল পেশোয়ার জালমির হয়ে মাত্র ৫টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। এই অল্প সুযোগেই তিনি শিকার করেছেন ৯টি উইকেট। সবচেয়ে নজরকাড়া ছিল তাঁর ইকোনমি রেট—মাত্র ৫.৪৪।
আরও পড়ুন:
নাহিদ রানার ‘ভবিষ্যৎ’ জানালেন অ্যারন হার্ডি
আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে এমন ইকোনমি রেট যেকোনো বোলারের জন্য স্বপ্নের মতো। তবে আসরের সব ম্যাচ না খেলার কারণেই হয়তো পারফরম্যান্স বিচারে এগিয়ে থাকলেও পিসিবির চূড়ান্ত একাদশে তাঁর নাম রাখা হয়নি।
কেমন হলো পিএসএল সেরা একাদশ?
পিসিবি ঘোষিত এই একাদশের অধিনায়ক করা হয়েছে পেশোয়ার জালমিকে শিরোপা জেতানো বাবর আজমকে। একাদশে চ্যাম্পিয়ন পেশোয়ার জালমি ও রানার আপ হায়দরাবাদ কিংসম্যানের ৩ জন করে খেলোয়াড় জায়গা পেয়েছেন।
এছাড়া লাহোর কালান্দার্স ও ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের ২ জন এবং মুলতান সুলতান্স থেকে ১ জন খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন।
পিএসএলের আসর সেরা একাদশ:
বাবর আজম (অধিনায়ক), ফখর জামান, কুশল মেন্ডিস (উইকেটরক্ষক), শান মাসুদ, উসমান খান, শাদাব খান, হাসান খান, শাহীন শাহ আফ্রিদি, হুনাইন শাহ, সুফিয়ান মুকিম ও রিচার্ড গ্লিসন।
দ্বাদশ খেলোয়াড়: হাসান নওয়াজ।

