ফুটবল, টেনিস আর বক্সিংয়ের পর এবার ক্রিকেটের দুনিয়ায় বড়সড় এক ‘বিস্ফোরণ’ ঘটাতে যাচ্ছে সৌদি আরব। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চলতি বছরের অক্টোবর মাসেই মাঠে গড়াতে যাচ্ছে সৌদি আরবের প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট— ‘ডিউন্স লিগ টি-টোয়েন্টি’ (Dunes League T20)।
সৌদি আরব ক্রিকেট ফেডারেশন (এসএসিএফ) অনুমোদিত এই টুর্নামেন্টটি মূলত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি সার্কিটে সক্রিয় ‘কিংবদন্তি’ ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত হবে।
ক্রিকেট মানচিত্রে সৌদির প্রবেশ
গত পাঁচ বছরে খেলাধুলার জগতে বড় বিনিয়োগকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তেলসমৃদ্ধ এই দেশ। আইপিএল-এর নিলাম আয়োজন থেকে শুরু করে আইসিসির সাথে স্পনসরশিপ চুক্তি—সৌদি আরবের ক্রিকেটে পদচারণা ছিল সুশৃঙ্খল ও ধীরস্থির।
তবে ডিউন্স লিগের মাধ্যমে তারা এবার সরাসরি আয়োজক হিসেবে নাম লেখাচ্ছে। জেদ্দার নিকটবর্তী তায়েফ শহরে এই লিগের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। মোট ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল নিয়ে শুরু হবে এই টুর্নামেন্টের প্রথম আসর।
আরও পড়ুন:
২৫ হাজার কোটির মিশন: সৌদির মাস্টারপ্ল্যানে সালাহ-ভিনিসিয়ুসসহ ৫০ তারকা
আইপিএল-কে টেক্কা দেওয়ার গুঞ্জন ও বাস্তবতা
সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) আইপিএল-এর সমান্তরাল কোনো লিগ কিংবা বড় কোনো বিনিয়োগ করবে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গুঞ্জন ছিল। তবে আপাতত আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি কৌশলী অবস্থান নিয়েছে এসএসিএফ। লিগের নিয়ম অনুযায়ী, গত দুই বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা সর্বোচ্চ ৪ জন ক্রিকেটার প্রতিটি দলে থাকতে পারবেন। এতে আইসিসির বিশেষ অনুমোদনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।
টুর্নামেন্টটিতে সর্বোচ্চ বেতন ধরা হতে পারে ১ লাখ মার্কিন ডলার। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক, ইউনিক স্পোর্টস গ্রুপ এবং প্রোলিথিকের মতো সংস্থাগুলোর অংশীদারিত্বে এই লিগটি সাজানো হচ্ছে।
শুভেচ্ছা দূত যখন যুবরাজ সিং
ডিউন্স লিগের বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছেন ভারতীয় কিংবদন্তি যুবরাজ সিং। প্রোলিথিকের হয়ে তিনি এই লিগের শুভেচ্ছা দূত বা অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করবেন। জফরা আর্চার বা অভিষেক শর্মার মতো তারকাদের ম্যানেজমেন্ট সংস্থাগুলো এই লিগের সাথে যুক্ত থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, মাঠের লড়াইয়ে গ্ল্যামার আর অভিজ্ঞতার কোনো কমতি হবে না।
সৌদি প্রতিভার বিকাশ ও লক্ষ্য
এসএসিএফ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই লিগের মূল উদ্দেশ্য সৌদি আরবকে বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করা এবং স্থানীয় সৌদি প্রতিভাদের বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএলটি-টোয়েন্টির সাথে অংশীদারিত্ব এবং ‘ফেয়ারব্রেক উইমেনস টি-টোয়েন্টি’ আয়োজনের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিও করেছে দেশটি। যদিও আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে নারী টুর্নামেন্টটি আপাতত স্থগিত রয়েছে।
লুসিয়ানা এবং লিভ গলফ ট্যুরের মতো প্রজেক্টের পর সৌদির এই ক্রিকেট মিশন সফল হলে এশীয় অঞ্চলে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সমীকরণ অনেকটাই বদলে যেতে পারে। এখন দেখার বিষয়, অক্টোবরের তপ্ত বালিতে ‘ডিউন্স লিগ’ কতটা উত্তাপ ছড়াতে পারে।
আরও পড়ুন:
মরুর বুকে পাকিস্তানের পিএসএল! জেদ্দায় হচ্ছে নতুন ক্রিকেট স্টেডিয়াম

