ওয়েম্বলির ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে আরও একবার ট্রফি উল্লাসে মাতল ম্যানচেস্টার সিটি। পুরো ম্যাচ জুড়ে ছড়াতে পারেনি স্বভাবসুলভ চেনা ছন্দ, আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে ম্যাচটা যখন রূপ নিচ্ছিল এক ম্যাড়মেড়ে লড়াইয়ে, ঠিক তখনই জ্বলে উঠলেন অ্যান্টোনি সেমেনিও। ঘানাইয়ান এই উইঙ্গারের দুর্দান্ত এক একক নৈপুণ্যে চেলসিকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমের এফএ কাপের শিরোপা নিজেদের করে নিল পেপ গার্দিওলার দল।
কারাবাও কাপের পর চলতি মৌসুমে এটি সিটির দ্বিতীয় ঘরোয়া শিরোপা। এর আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে টানা দুটি ফাইনালে হারের যে ক্ষত ছিল, চেলসিকে হারিয়ে সেই আক্ষেপ ঘোচাল স্কাই ব্লুজরা।অন্যদিকে, চেলসির জন্য ম্যাচটি উপহার দিল এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড—টানা চতুর্থবারের মতো এফএ কাপের ফাইনালে রানার্স-আপ হয়ে মাঠ ছাড়তে হলো ব্লুজদের।
হালান্ডের পাস ও সেমেনিওর অবিশ্বাস্য ‘ফ্লিক’
প্রথমার্ধের ম্যাড়মেড়ে ফুটবলের পর দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে যাচ্ছিল, তখনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন সেমেনিও।
ম্যাচের ৭২ মিনিটে (৭১তম মিনিট) মাঝমাঠের কাছে বল পেয়ে ওয়েসলি ফোফানাকে বোকা বানিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন আর্লিং হালান্ড। নরওয়েজীয় এই স্ট্রাইকার ডানপ্রান্ত থেকে প্রথম স্পর্শেই এক দারুণ ক্রস বাড়ান চেলসির গোলপোস্টের দিকে।
ছুটে আসা সেই বলে আলতো করে ডান পায়ের পেছনের অংশ দিয়ে এক জাদুকরী ফ্লিক (ব্যাকহিল ফিনিশ) করেন সেমেনিও। চেলসি গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে বল জড়ায় জালে।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় গোলটি ছিল যেন এক টুকরো বিশুদ্ধ জাদুকরী মুহূর্ত, যা শেষ পর্যন্ত সিটিকে এনে দেয় চ্যাম্পিয়নের মুকুট।
আরও পড়ুন:
১৫ বছর পর এক সপ্তাহের জন্য স্টেডিয়ামের নাম বদলাচ্ছে ম্যান সিটি!
গার্দিওলার ‘কষ্টের জয়’
ম্যানচেস্টার সিটির চিরাচরিত পাসিং ফুটবল বা ফ্লুয়েন্সির কোনো কিছুই আজ ওয়েম্বলিতে দেখা যায়নি। বরং এটি ছিল পেপ গার্দিওলার শিষ্যদের জন্য এক কঠিন লড়াইয়ের দিন। ম্যাচ শেষে ডাগআউটে গার্দিওলার শান্ত উদযাপনই বলে দিচ্ছিল, এই জয়টি কতটা কষ্টার্জিত ছিল। সিটির কোচ হিসেবে এটি গার্দিওলার তৃতীয় এফএ কাপ শিরোপা।
গত জানুয়ারিতে বোর্নমাউথ থেকে ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ডে সিটিতে যোগ দেওয়া সেমেনিও কেন এই মুহূর্তে ক্লাবের সেরা রিক্রুটমেন্ট, তা তিনি আরও একবার প্রমাণ করলেন। সিটির আগামী ম্যাচটি তাঁর সাবেক ক্লাব বোর্নমাউথের বিপক্ষেই ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে। প্রিমিয়ার লিগে টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে মাত্র ২ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা সিটির সামনে এখন সুযোগ রয়েছে আরও একটি ঐতিহাসিক ‘ঘরোয়া ট্রেবল’ জেতার।
চেলসির হতাশার রাত
দ্বিতীয়ার্ধের একটা বড় সময় জুড়ে সিটির রক্ষণভাগকে বেশ ভালোই চাপে রেখেছিল চেলসি। কিন্তু ফাইনাল থার্ডে এসে সঠিক ফিনিশিংয়ের অভাবে বারবার খেই হারিয়েছে ব্লুজরা। এনজো ফার্নান্দেসের শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া কিংবা শেষ মুহূর্তে গোলপোস্টে বল লেগে ফিরে আসা—সব মিলিয়ে ভাগ্যও যেন সহায় ছিল না তাদের।
লিয়াম রোজনিয়রকে বরখাস্ত করার পর চেলসি এখন প্রিমিয়ার লিগের মাধ্যমে আগামী মৌসুমে ইউরোপিয়ান ফুটবল নিশ্চিত করার লড়াইয়ে নামবে। আগামী মঙ্গলবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে তাদের প্রতিপক্ষ টটেনহ্যাম হটস্পার। তবে এই সবকিছুর মাঝেই চেলসি সমর্থকরা আশার আলো খুঁজছেন নতুন হেড কোচ হিসেবে জাভি আলোনসোকে ডাগআউটে আনার গুঞ্জনে। বায়ার লেভারকুসেনের হয়ে বুন্দেসলিগা জেতার পর স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের এই টালমাটাল অবস্থায় আলোনসোর আগমন ব্লুজ শিবিরে নতুন গতি আনতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন:
চেলসি সংকটে: চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ, রেকর্ড হার ও উয়েফার নিষেধাজ্ঞা

